সহায়তা!

দেখুন, সহায়তা কেবলমাত্র একটি শব্দ নয়, বরং এটিকে মানবিকতার সমার্থক শব্দ বলে আমি মনে করি!
কেনো এমনটা ভাবছি? কিছু উদাহরণ দিয়ে আমার কথার যৌক্তিকতা সুস্পস্ট করবার প্রয়াস করছি।
শৈশবে যখন একটি শিশু প্রথম পায় দাঁড়াতে শেখে, সেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে যদি কিছু আঙুল সহায়তা না করতো? তাহলে কি সেই শিশুটি সময়মতো নিজের পায়ে হেঁটে বেড়াতে পারতো?
আবার সময়ের সাথে কথা শেখার ক্ষেত্রে পরিবার এবং পারিপার্শ্বিক মানুষের বাক্যালাপ শুনেই একটি শিশু কথা বলা শেখে, এটাও প্রত্যক্ষ এবং খানিক পরোক্ষ সহায়তা, কি তাই তো?
এবার শৈশব থেকে খানিক ফেরা যাক সেই পরিবারের দিকে, যেখানে দিন আনা, দিন খাওয়া পরিবারের একটি মেয়ের উদাহরণ আজকে লেখায় তুলে ধরছি।

তাহলে হয়তো বুঝবেন সহায়তা শুধুই একটি শব্দ নয়!
মেয়েটির নাম রুচিকা! থাকে দশ বাই দশ মাপের একটি ভাড়া ঘরে! স্থান মুম্বাই!
সদস্য সংখ্যা চার। উল্লেখিত বিবরণ এর বাইরে জানিয়ে রাখি, মেয়েটি এখন লেখাপড়া করছে, তার পিতার আর্থিক পরিস্থিতি কতখানি কঠিন, সেটি ঘরের আয়তন থেকে নিশ্চই অনুমান করতে পারছেন!
একটি ঘরেই থাকা, রান্না এবং রুচিকা জানায়, আজ পর্যন্ত সে কোনোদিন বিছানায় ঘুমায়নি।
এতকিছুর পরেও যখন সে লেখা পড়ার পাশাপশি কাজ করতে চেয়েছিল, তার পিতা তাকে কাজ করতে না দিয়ে পড়াশুনায় মনোযোগ দিতে বলেন!
এই সহায়তার ফলস্বরূপ, আজকে একটি গেম শো (কেবিসি) থেকে মেয়েটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা জিতেছে।
হতদরিদ্র পরিবারের কন্যা সন্তান হয়েও যে পিতা তাকে লেখাপড়া করতে সহায়তা করছে, আজকের জয় তার পিতার সেই সহায়তা ছাড়া কি সম্ভব হতো? তবে এক্ষেত্রে লেখাপড়া করবার উৎসাহ অবশ্যই নিজের মধ্যেও থাকতে হবে!
এবার যদি কাজের জায়গার কথা ধরি, তাহলে সেখানেও শেখানোর সহায়তা পাবার সম্ভবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে, কিন্তু এর মাঝেও কেউ না কেউ থাকে যারা এগিয়ে এসে শেখানোর প্রয়াস করে নিঃস্বার্থ ভাবে!
ঘরে, বাইরে সর্বত্রই কিছু মানুষ আজও আছে যারা সহায়তার মূল্যায়ন করতে জানেন, কারণ তারা তাদের অতীতে প্রাপ্ত সহায়তার কথা ভুলে যান না!
আর এই সহায়তা আসে মানবিকতার হাত ধরে।
নিজের প্রতিকূলতার দিনগুলোকে মনে রেখে এড়িয়ে যাবার পথ বেছে না নিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, সেটাকে মানবিকতাই তো বলে, কি তাই না?

একটা বাস্তব সত্য হলো, সহায়তা কখনও বিফলে যায় না!
হয়তো, আপনি যাকে সহায়তা করেছেন, তার থেকে আপনি প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল পেলেন না, আপনার প্রয়োজনে কিন্তু আপনার কৃতকর্ম যার কাছে জমা ছিল, দেখবেন সেই আপনাকে সহায়তা করবার জন্য কাউকে না কাউকে পাঠিয়ে দেবেন।
যদি সেটা ব্যাক্তি নাও হয়, কোনো সুযোগ করে দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা! আজকে রুচিকার ঘটনাটিকে আমার তেমনি মনে হয়েছে।
তাই পরিশেষে যেটি বলার, সেটি হলো, কাউকে সহায়তা করবার সুযোগ পেলে নিজেকে সৌভাগ্যশালী মনে করবেন, কারণ এটি করে নিজেকে মহৎ ভাবার কারণ নেই!..
এটি একটি সুযোগ নিজেকে উন্নত করবার, আর মানবিকতার পরিভাষা বোঝার।
আজকে যা আমরা করি অন্যের সাথে, সেটি আপনজনদের ক্ষেত্রে কিংবা পরিচিতি, পারিপার্শ্বিক মানুষদের জন্য, আগামীতে সেটি ফিরে আসে আমাদের কাছে কোনো না কোনো ভাবে। নির্বাচন যার যার, কোনটা কে বেছে নেবে! কৃতকর্ম ছবিতে উল্লেখিত সিঁড়ির মতোই!
আর জীবনটা ওই ছবির পথের মতো, যাত্রার ধরন বেছে তো নিজেদেরকেই নিতে হবে, কি তাই না বলুন?


Es post como este los que hacen que valga la pena estar acá. Simple y sincero.
Guardo la receta para el finde. Te cuento cómo me sale después, ojalá me quede igual.