আমার পাড়ার দুর্গাপুজো

in Incredible India • 20 days ago

1000101290.jpg

সকলকে শুভ মহাষষ্ঠী জানিয়ে আজকের লেখা শুরু করছি। একটা বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব আসে মা দুর্গার হাত ধরে!

আজকে সেই উৎসবের ষষ্ঠ দিন, যাকে আমরা অর্থাৎ বাঙালিরা ষষ্ঠী নামে আখ্যায়িত করে থাকি।

প্রতিদিন বাড়ি ফেরার পথে চোখে পড়ে আলোয় মোড়া পথ, সাথে কানে ভেসে আসে সমস্ত পরিচিত গান।

1000101450.jpg1000101451.jpg

কিছু গান বিশেষ করে শোনা যায় এই দুর্গাপুজোর সময়, আর অনেক সংকেতের মধ্যে এই গানগুলো আর ভোরের শিশির সহ স্থল পদ্ম ফুল তথা গেছে উপস্থিত কুঁড়ি মায়ের আগমনীর সংকেত বয়ে নিয়ে আসে।

গতকালের দিন থেকে শুরু করলে বলতে হয়, গতকালের ট্রেনে উঠে মনে হচ্ছিল যে, আমি স্লিপার ক্লাসে উঠে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি।

পায়ের জুতো খুলে রেখে, পা সিটের উপর তুলে ফাঁকা ট্রেনে করে যেতে যেতে অপর প্রান্তে বসে থাকা কথপোকথন শুনছিলাম!

তারা একে অপরের সাথে পুজোয় ঠাকুর দেখতে যাওয়ার প্ল্যান করছিল, গতকাল পঞ্চমিতে তারা সারারাত ঠাকুর দেখেই ফিরছিল, এরপরের দিন কলকাতার কোন কোন জায়গায় তারা ঠাকুর দেখবে সাথে যাতায়াতের পথ গুগল ঘেঁটে দেখছিল!

আজও মায়ের দর্শনে ভাটা পড়েনি এটা আমার বেশ ভালো লেগেছে।

1000101233.jpg

1000101231.jpg1000101232.jpg

1000101234.jpg

গৃহবন্দি শৈশবের হাত ধরে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম বাইরে বেরিয়ে পুজো দেখছে, এটা বেশ আশা জাগানোর বার্তা!

এরপর, খালি ট্রেনে বসে খানিক প্রকৃতির ভিডিও করে, পৌঁছে গিয়েছিলাম চৌমাথায়।

ডান পায়ের হাঁটুর অবস্থা খারাপ খুব একটা ভালো নয়, তাই আমার কাজিন ডাক্তারের দোকানে নিয়ে গিয়ে কিছু ওষুধ আর সাথে একটা স্প্রে কিনে দিয়েছিল।

1000101469.jpg

এরপর, কাজিন তার স্কুটিতে করে শোরুমে আমায় পৌঁছে দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল অন্য দোকানে।

এখন বিউটি পার্লারে বেশ ভিড় তাই, আমার কাজিন নিজের পুরোনো দোকানের পাশাপশি পার্লার নিয়ে ব্যস্ত।

যাইহোক, গতকালের আরো একটা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছি, কারণ এই মুহূর্তে অর্জিত ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে এটিও আরেকটি।

আমার এই কাজিনরা দুই ভাই! বর্তমানে ব্যবসা ভাগ হয়ে গিয়েছে, আর বিষয়টির সুযোগ কিভাবে কিছু কাস্টমার গ্রহণ করে, বিষয়টি সেটা নিয়েই।

একটি মহিলা, যিনি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গত পরশু কিছু শাড়ি কিনে নিয়ে গিয়েছিল।
এরপর গতকাল এসে আমার কাছে জানতে চাইলো, তার এই শোরুমের শাড়ি ফেরত দিয়ে পুরোনো দোকান থেকে কি শাড়ি সে কিনতে পারবে?

আমার চোখ গেলো তার হাতে ধরে থাকা ব্যাগের নামের দিকে, আর সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেলাম, কি পলিসি মহিলা কার্যকরী করতে চাইছেন!

আমি জানিয়ে দিলাম, যে এই শোরুমের শাড়ি বদলে তাকে এখান থেকেই শাড়ি নিতে হবে।
কারণ, স্টক এর ব্যাপার থাকে, হিসেব মেলাতে সমস্যা হয়!

1000101250.jpg

চাইলে বিষয়টি কার্যকরী করাই যেতো, কিন্তু ভিডিও কল করে, একাধিক ঘণ্টা দার করিয়ে শোরুমের মেয়েগুলোকে খাটিয়ে কিনে নিয়ে যাওয়া শাড়ি পারিবারিক ব্যবসার পৃথকীকরণের সুযোগ নিয়ে যদি দুই দোকান নিয়ে কেউ নিম্ন মানের খেলা খেলে, সেটা হতে দেওয়া যায় না।

জীবন হোক কিংবা কাজ কিছু এথিক্স বজায় রাখা উচিত।
পুনরায় মেয়েগুলোকে পরিশ্রম করতে হয়েছে কিন্তু শেষে শাড়ি নতুন শোরুম থেকেই নিয়ে গেছে।

1000101291.jpg

1000101160.jpg1000101161.jpg
1000101162.jpg1000101163.jpg

1000101292.jpg

দেখুন লিখতে লিখতে একটা গান কানে ভেসে আসছে, "একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও, তাতে আগুন পাবে!"
শীতের হাত থেকে দূরে পালাও, তাতে ফাগুন পাবে!
তবু আমাকে আর পাবে না!
"কারণ আমায় অবহেলা করেছো, আমায় নিয়ে খেলা করেছো!"
গানটির একটি লাইন শুনে হাসি পেয়ে গেল!
তাই লেখার মাঝে উল্লেখ করছি!

জীবনের কিছু সত্যি কিভাবে যে সামনে এসে দাঁড়াবে কেউ জানে না! গানের কথাগুলো আমার জীবনের সাথে এমনকি অনেক মানুষের জীবনের সাথেও বোধহয় মিলে যায়!

আজকে ফেরার পথে পাশে বসে থাকা একটি মেয়ের পোশাক সাথে কিছু ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ এর ব্যাচ পরিহিত মহিলাকে ট্রেনের ফাঁকা কামরায় বসে থাকতে দেখে বেশ গর্বের সাথে কিছু ছবি তুলে নিয়েছিলাম।

এরপর, ট্রেন থেকে নেমে পৌঁছে গিয়েছিলাম মায়ের দর্শন করতে নিজের পাড়ার পুজো প্যান্ডেলে।

1000101453.jpg

পাশে ফাংশন হচ্ছিল, তাই একটা ছোট ভিডিও করে পুরো বিষয়টি রেকর্ড করে, লেখার মাঝে তুলে ধরছি।

মা দুর্গা দুর্গতি নাশিনী সকলের দুর্গতি নাশ করুন এই প্রার্থনা নিয়ে আজকের লেখায় ইতি টানলাম।

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟

El detalle de la rodilla y el spray que te compró tu primo doctor es lo que más me queda dando vueltas, porque el resto del post es puro movimiento: estación, tren vacío, gente planeando qué pujo visitar. Me interesa eso que mencionás del "generación criada en casa" saliendo a ver la celebración, es un cambio social concreto, no solo una postal. ¿El dolor de rodilla te dejó igual hacer el recorrido o tuviste que recortar el pujo?

Traducido a guaraníes: esa escena del tren vacío con el pie en el asiento y los desconocidos planeando qué pujo ver en Calcuta vale más que cualquier crónica oficial de la festividad. El dato concreto que me queda es el de tu generación creciendo encerrada que ahora sale a mirar la calle, esa es la lección que deja. ¿La rodilla mejoró con el spray o vas a tener que mirar los pujos desde el celular?

Congratulations!

Your post has been visited and supported by the Steem Dream Team through the @booming02 curation account.
We appreciate the effort and value you bring to the Steem community. Keep creating quality content, engaging with others, and contributing to the growth of our ecosystem.

kouba01.png