আমরা আসলে এই পৃথিবীর মালিক নই—কিছু সময়ের জন্য শুধু একজন পথিক।
এই তো জীবন—আসা, কিছুদিন থাকা, কিছু স্মৃতি রেখে চলে যাওয়া। তারপর ধীরে ধীরে সবকিছুর ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া।
আপনার লাশ গোসল করানোর জন্য যে সাবানটি ব্যবহার করা হবে, সেটি এরপর আর কেউ ব্যবহার করবে না—ফেলে দেওয়া হবে। যে বিছানায় আপনার শেষ নিঃশ্বাস পড়বে, সেই বিছানার চাদর, বালিশের কভারও হয়তো আপনার পরিবারের মানুষ আর ব্যবহার করবে না। মৃত্যুর পর মানুষকে ঘরের আপনজন থেকেও এক অদ্ভুত দূরত্বে সরিয়ে রাখা হয়। লাশকে ঘরের ভেতর নয়, বাইরে চৌকি বা খাটিয়ায় রাখা হবে—যেন জীবনের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্কটাই সম্পূর্ণ আলাদা।
অথচ আশ্চর্যের বিষয়, আপনার চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মানুষ জানাজায় আসবে, দাফন হবে, সবাই ফিরে যাবে যার যার জীবনে। আপনার অনুপস্থিতির শূন্যতাও ধীরে ধীরে সবার কাছে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কিছুদিন পর আপনার কথা কমে যাবে, কিছু বছর পর স্মৃতিও ফিকে হয়ে আসবে। একসময় এমন মানুষও থাকবে, যারা আপনাকে কখনো দেখেনি, অথচ কোনো একদিন এই পৃথিবীতে আপনিই ছিলেন কারও সবচেয়ে আপন মানুষ।
দুই প্রজন্ম, তিন প্রজন্ম পেরিয়ে গেলে হয়তো আপনার কবরের চিহ্নটুকুও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। দাদার বাবার কবর কোথায়—এমন প্রশ্নের উত্তর জানে, এমন মানুষও তো খুব বেশি নেই।
একশো বছর আগে এই জায়গায় কে ছিল, জানি না। এই সম্পদ কার ছিল, জানি না। আজ যেটাকে নিজের বলে আঁকড়ে ধরে আছি, একশো বছর পরে সেটার মালিক কে হবে—তাও জানি না। শুধু জানি, আমিও থাকব না, আপনিও থাকবেন না; পৃথিবী ঠিকই তার নিয়মে চলতে থাকবে।
তাই এত অহংকার কিসের? এত মোহ কিসের? এত ‘আমার, আমার’ করারই বা কী আছে?
