অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২৩ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 4 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000094786.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ২৩ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- তুমি আমাকে এখানে নিয়ে এলে কেন? অরিন্দম কোনো উত্তর দিল না। তুমি জানো, এটা সেই ট্রেন নয়? অরিন্দম এবার তাকাল। কোন ট্রেন? ছেলেটি মৃদু হেসে বলল- যে ট্রেনে তুমি ভেবেছিলে বাড়ি ফিরবে। হঠাৎ ট্রেনের ভেতরের আলো একবার নিভে গেল। আবার জ্বলে উঠল। অরিন্দম দেখল- ছেলেটি নেই। সামনের সিটে পড়ে আছে সেই কালো ব্যাগ। ব্যাগের পাশে পুরোনো পকেট ঘড়ি। ঘড়ির কাঁটা- ১১:৪৭।অরিন্দম ঘড়িটা হাতে তুলে নিল, ঠিক তখনই ঘড়ির কাঁটা নড়ে উঠল। এক মিনিট এগিয়ে গেল- ১১:৪৮। তারপর একটা শব্দ- টিক।

অরিন্দমের বুকের ভেতর যেন কেউ বরফ ঢেলে দিল। আরেকটা শব্দ- টিক। ঘড়ির কাঁটা আবার এগোল- ১১:৪৯। অরিন্দম ফিসফিস করে বলল- এতদিন ধরে ১১:৪৭-এ আটকে ছিল...। পেছন থেকে উত্তর এল- কারণ ১১:৪৭-এ সময় থেমে যায়নি। অরিন্দম ঘুরে দাঁড়াল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই লম্বা কালো পোশাকের মানুষটি- ধূসর টুপি, শান্ত মুখ। চোখ দুটো যেন অস্বাভাবিক ভাবে গভীর।অরিন্দম এবার আর ভয় পেল না, বরং তার মনে হলো- এই মানুষটিকে সে বহুদিন ধরে চেনে।আপনি কে? লোকটি বলল- এই প্রশ্নের উত্তর তুমি অনেকবার পেয়েছ। শুধু মনে রাখতে পারোনি। আপনি রফিকুল? লোকটি মাথা নাড়ল- রফিকুলও। অরিন্দম থমকে গেল- রফিকুলও?

লোকটি জানালার দিকে তাকিয়ে বলল- এই স্টেশনে নামেরও একটা সময়সীমা আছে। কথাটা অরিন্দমের মাথায় ঢুকল না। আমার বাবা কোথায়? প্রথমবার লোকটির মুখের শান্ত ভাবটা বদলে গেল। এই প্রশ্নটাই তোমাকে এখানে ফিরিয়ে এনেছে। আমার মা? কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর লোকটি বলল- তোমার মা শেষ পর্যন্ত তোমাকে মনে রেখেছিলেন। অরিন্দমের বুক কেঁপে উঠল- শেষ পর্যন্ত? হ্যাঁ। তাহলে তিনি কোথায়? লোকটি কোনো উত্তর দিল না। বরং ট্রেনের দরজার দিকে তাকাল। সামনে একটা দরজা, দরজার ওপরে লেখা- শেষ স্টেশন। ট্রেন ধীরে ধীরে থামল, কিন্তু কোনো ব্রেকের শব্দ হলো না। কোনো ঝাঁকুনি নেই।মনে হলো ট্রেনটি যেন কখনো চলেইনি, দরজা খুলে গেল। অরিন্দম নামল, প্ল্যাটফর্মে কেউ নেই।

না কোনো যাত্রী, না কোনো রেলকর্মী, না কোনো আলো। শুধু দূরে একটা ছোট্ট ঘর, ঘরের সামনে কাঠের বেঞ্চ। আর বেঞ্চের ওপর বসে আছেন একজন মানুষ। অরিন্দমের পা থেমে গেল, কারণ মানুষটিকে সে চিনতে পারল- সাদা শার্ট, ধূসর প্যান্ট। চোখে পুরোনো চশমা, চুলে পাক ধরেছে।কিন্তু মুখটা- মুখটা তার বাবার। অরিন্দমের গলা শুকিয়ে গেল। বাবা...? লোকটি ধীরে মাথা তুললেন। চোখে জল। এত দেরি করলি কেন, অরিন্দম? অরিন্দম আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে দৌড়ে গিয়ে লোকটির সামনে দাঁড়াল। আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন? তার বাবা উঠে দাঁড়ালেন, কিন্তু অরিন্দম তাকে জড়িয়ে ধরতে পারল না। কারণ বাবার শরীরের ভেতর দিয়ে তার হাত চলে গেল। অরিন্দম পিছিয়ে গেল।...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png