মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২৪ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২৪ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো।এরপর- তারপর দৃশ্য বদলে যায়। একটা পুরোনো বাড়ি, শান্তিনিকেতন ভিলা, রাত। তার বাবা অমলের সামনে বসে। অমলের চোখে ক্লান্তি। অমল বলছে- মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনা যায় না। তার বাবা উত্তর দিচ্ছেন- আমি মানুষকে ফিরিয়ে আনতে চাই না। অমল তাকায়। তাহলে? আমি শুধু আমার ছেলেকে চাই। অমল দীর্ঘশ্বাস ফেলে- আপনার ছেলে নেই। তার বাবা বলেছিল- তাহলে তৈরি করুন। অর্ণব চোখ খুলল, তার বুক ধড়ফড় করছে। সে বুঝতে পারছে- তার বাবা সত্যিই তাকে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাবা যে কাজ করেছিল, সেটা ছিল স্বাভাবিক জীবনের সীমার বাইরে।
সে উঠে দাঁড়াল, ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজা বন্ধ, হাতল ঘুরিয়ে দেখল।নড়ছে না। সে জোরে ধাক্কা দিল, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। নির্মলবাবু! কোনো উত্তর নেই। নির্মলবাবু! নিচতলা থেকে হঠাৎ একটা শব্দ ভেসে এল- ধপ! তারপর আরেকটা- ধপ! অর্ণব সিঁড়ির দিকে ছুটল, কিন্তু সিঁড়ির মাঝখানে এসে থেমে গেল। নিচে নির্মলবাবু পড়ে আছেন, তার পাশে রিভলভার। অর্ণব দৌড়ে নিচে গেল- নির্মলবাবু! বৃদ্ধের চোখ বন্ধ। কপালের পাশে রক্ত, অর্ণব তার নাড়ি পরীক্ষা করল। নাড়ি চলছে- বাঁচুন...। নির্মলবাবু ধীরে চোখ খুললেন- ও... এসেছে... কে? ওকে আটকাতে হবে। কাকে? বৃদ্ধ কষ্ট করে বললেন- অর্ণব... আমি তো এখানে। নির্মলবাবু মাথা নাড়লেন- না...তিনি অর্ণবের পেছনে তাকালেন- ওখানে। অর্ণব ধীরে ধীরে পিছনে তাকাল।
সিঁড়ির ওপরে- একজন দাঁড়িয়ে। অর্ণব, তার নিজের মুখ, নিজের চোখ। নিজের শরীরের মতোই দেখতে, কিন্তু এবার সে হাসছে না। তার মুখে গভীর বিষণ্ণতা। অর্ণব ফিসফিস করে বলল- তুমি...ছায়ামূর্তিটি বলল- এবার সব মনে পড়েছে? অর্ণব মাথা নাড়ল- হ্যাঁ। তাহলে তুমি জানো আমি কে- অয়ন। লোকটি চোখ বন্ধ করল অবশেষে। নির্মলবাবু কষ্ট করে উঠে বসার চেষ্টা করলেন।অর্ণব... ওর কথা শুনো না। অয়ন সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বলল- নির্মল, এবারও মিথ্যে বলবে? বৃদ্ধ কাঁপতে লাগলেন, অর্ণব তার দিকে তাকাল।আপনি কী লুকাচ্ছেন? নির্মলবাবু চোখ নামিয়ে ফেললেন। অয়ন বলল- ওকে জিজ্ঞেস করো, ১৯৮৬ সালের রাতে কে দরজা খুলেছিল। অর্ণব তাকাল নির্মলবাবুর দিকে- কে? বৃদ্ধ চুপ।
অর্ণব এবার গর্জে উঠল- বলুন! নির্মলবাবুর চোখে জল।আমি, অর্ণব স্তব্ধ। আপনি? হ্যাঁ। আপনি দরজা খুলেছিলেন? আমি অমলকে থামাতে পারিনি। তারপর? বৃদ্ধ বললেন- দরজার বাইরে যে দাঁড়িয়ে ছিল... তাকে দেখে আমি ভেবেছিলাম সে অয়ন। কিন্তু? ও অয়ন ছিল না। তাহলে? নির্মলবাবু ফিসফিস করে বললেন- ও ছিল অয়নের স্মৃতি। অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বললেন- কিন্তু সেই স্মৃতির মধ্যে অন্য কিছু ঢুকে গিয়েছিল। অয়ন ধীরে বলল- অতিথি। অর্ণব এবার বুঝতে পারল অতিথি কোনো নির্দিষ্ট মানুষ নয়। কোনো মৃত মানুষের আত্মাও নয়। এটা ছিল- একটা স্মৃতি, যা নিজের অস্তিত্ব তৈরি করেছিল। অমলের পরীক্ষায় অয়নের স্মৃতি থেকে একটা প্রতিলিপি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিলিপি ধীরে ধীরে নিজের ইচ্ছা তৈরি করে।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





