মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ৬ )

in আমার বাংলা ব্লগlast month
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- ভালো করেছ। অর্ণব ফিসফিস করে বলল- ওটা কে ছিল? যে তোমাকে বাইরে নিয়ে যেতে চায়। কেন? কারণ তুমি ওকে চিনে ফেলেছ। আমি কাকে চিনেছি? এই বাড়িকে। অর্ণব কিছু বুঝতে পারল না। বাড়িকে চিনেছি মানে? কণ্ঠটা বলল- এই বাড়ি শুধু একটা বাড়ি নয়। তাহলে? এটা একটা দরজা। কোথায় যাওয়ার দরজা? ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা। তারপর অমল বলল- যেখান থেকে কেউ ফিরে আসে না। অর্ণবের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। তুমি কি মারা গেছ? ওপাশে কোনো উত্তর নেই। অমল? নীরবতা। তুমি কি মারা গেছ? হঠাৎ ফোনের ওপাশে একটা শব্দ হলো। মনে হলো কেউ খুব দূর থেকে হাঁটছে।

তারপর অমলের কণ্ঠ খুব ধীরে বলল- হ্যাঁ। কল কেটে গেল। অর্ণব কিছুক্ষণ মোবাইল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর হঠাৎ খেয়াল হলো- দরজার নিচ দিয়ে আলো আসছে।কিন্তু ঘরের বাইরে আলো জ্বলছে না। তাহলে এই আলো কোথা থেকে? অর্ণব ধীরে ধীরে নিচে বসে দরজার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল। করিডোরে একটা মানুষ দাঁড়িয়ে। অন্ধকারে তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু হাতে একটা লণ্ঠন। লোকটা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং অর্ণব শ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল। লোকটা ধীরে ধীরে মাথা তুলল। তারপর- দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে দুটো চোখ দেখা গেল। কেউ মেঝের খুব কাছে ঝুঁকে দরজার নিচ দিয়ে ভেতরে তাকাচ্ছে। অর্ণব পেছনে সরে গেল। তারপর সেই কণ্ঠ- তুমি আমাকে চিনতে পারছ না?

অর্ণব কোনো উত্তর দিল না। কণ্ঠটা হাসল। এত বছর পরেও না? হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা কাগজ ভেতরে ঢুকে এল। কাগজটা মেঝেতে পড়ে রইল। অর্ণব অনেকক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর সাহস করে এগিয়ে গিয়ে কাগজটা তুলে নিল। কাগজে মাত্র একটি বাক্য- তোমার বাবার কাছে সত্যিটা জেনে নাও। অর্ণবের হাত কেঁপে উঠল, কারণ তার বাবা মারা গেছেন। সত্যিটা জানবে কীভাবে? কাগজের নিচে আরও কিছু লেখা ছিল। অর্ণব সেটা পড়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলল। সত্যিটা এখনও এই বাড়িতে আছে। তারপর- দোতলার পশ্চিম দেওয়ালের তৃতীয় ইট। অর্ণব দরজার দিকে তাকাল, কিন্তু বাইরে কেউ নেই, লণ্ঠনের আলোও নেই। শুধু করিডোর ফাঁকা। সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

আলমারিটা সরিয়ে দরজা খুলল।বাইরে কেউ নেই। এদিকে করিডোরে বাতাস বইছে। অর্ণব পশ্চিম দেয়ালের দিকে তাকাল এবং দেয়ালটা পুরোনো। পলেস্তারা খসে পড়েছে, কিন্তু তৃতীয় ইট কোথায়? সে গুনতে শুরু করল- এক... দুই...তিন। একটা ইট অন্যগুলোর তুলনায় সামান্য বাইরে বেরিয়ে আছে। অর্ণব হাত দিয়ে চাপ দিল এবং ইটটা নড়ল। সে আরও জোরে চাপ দিল- ক্লিক। দেয়ালের ভেতর থেকে একটা যান্ত্রিক শব্দ হলো। তারপর ইটটা ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে গেল।দেয়ালের একটা অংশ খুলে গেল। অর্ণব অবাক হয়ে দেখল- দেয়ালের ভেতরে ছোট্ট একটা গোপন খোপ। সেখানে একটা ধাতব বাক্স রাখা, বাক্সের ওপর মরচে পড়েছে। তালাটা ভাঙা, অর্ণব বাক্সটা বের করে মেঝেতে রাখল। ঢাকনা খুলতেই প্রথমে একটা পুরোনো সাদা-কালো ছবি পেল। ছবিতে চারজন মানুষ দাঁড়িয়ে।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png