শূন্য বাড়ির জানালা ( পর্ব 2 )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "শূন্য বাড়ির জানালা" এর দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- কেউ অসুস্থ হয়েছে, কেউ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে, কেউ আবার নিজের দেখা দৃশ্যের কথা বলতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব গল্পের কতটা সত্যি, তা কেউ জানত না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, কেউই কখনও বাড়িটির ভিতরে ঢুকে সত্যিটা জানার চেষ্টা করেনি। অন্তত, এতদিন করেনি। অর্ণব সেন কলকাতায় একটি সংবাদপত্রের জন্য কাজ করত, বয়স আটাশ, পেশায় সাংবাদিক হলেও তার প্রকৃত আগ্রহ ছিল পুরোনো ঘটনা। হারিয়ে যাওয়া মানুষ এবং অমীমাংসিত রহস্য নিয়ে অনুসন্ধান করা। ছোটবেলা কেটেছিল শালবনপুরের পাশের শহরে।
তার বাবা ছিলেন স্কুলশিক্ষক, আর মা গৃহিণী। বাবার মৃত্যুর পর মা কলকাতায় অর্ণবের সঙ্গেই থাকতেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে মায়েরও মৃত্যু হওয়ায় অর্ণব একা হয়ে পড়েছিল। কাজে ডুবে থাকার চেষ্টা করলেও গভীর রাতে পুরোনো স্মৃতিগুলো তাকে ঘিরে ধরত। ঠিক সেই সময়েই একদিন তার হাতে আসে একটি পুরোনো চিঠি।চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন হরিপদ মণ্ডল, শালবনপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত ডাককর্মী। অর্ণব তাঁকে ছোটবেলা থেকে চিনত। কয়েক বছর আগে গ্রামের একটি পুরোনো ঘটনার সূত্র খুঁজতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়েছিল। চিঠির খামটি হলদে হয়ে গিয়েছিল। কাগজে ছত্রাকের দাগ।হাতের লেখা কাঁপা কাঁপা, যেন লেখার সময় বৃদ্ধ মানুষটির হাত স্থির থাকছিল না।
চিঠিতে লেখা ছিল- অর্ণব, তুমি যদি এখনও পুরোনো ঘটনার অনুসন্ধান করো, তাহলে তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে। মুখার্জিদের বাড়ি নিয়ে এমন কিছু জানতে পেরেছি, যা এত বছর কাউকে বলিনি। এবার আর চুপ করে থাকতে পারছি না।তুমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রামে এসো। তবে একটা কথা মনে রেখো- রাতের বেলা ওই বাড়ির উত্তর দিকের জানালার সামনে দাঁড়াবে না। কারণ, পনেরো বছর আগে ওই জানালা দিয়ে আমি এমন একজনকে দেখেছিলাম, যাকে দেখার কথা আমার ছিল না- হরিপদ মণ্ডল। চিঠিটি পড়ে অর্ণব প্রথমে ভেবেছিল, বৃদ্ধ বয়সে হরিপদবাবু হয়তো পুরোনো কোনো কুসংস্কারকে সত্যি বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। কিন্তু চিঠির শেষ লাইনটি তার মনে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। এমন একজনকে দেখেছিলাম, যাকে দেখার কথা আমার ছিল না। এর অর্থ কী?
একজন মৃত মানুষ? একজন নিখোঁজ ব্যক্তি? নাকি এমন কেউ, যাঁর অস্তিত্ব গ্রামের মানুষকে জানানো হয়নি? অর্ণব সিদ্ধান্ত নিল, সে গ্রামে যাবে। এই ঘটনাটি যদি কেবল গুজবও হয়, তবু এর পিছনে থাকা মানুষের গল্প খুঁজে বের করা তার কাজেরই অংশ। পরদিন সকালে সে কলকাতা থেকে ট্রেনে রওনা দিল। জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মনে পড়ছিল শৈশবের কথা। শালবনপুরে সে শেষবার গিয়েছিল প্রায় সাত বছর আগে। তখনও মুখার্জিদের বাড়িটি ছিল, কিন্তু সেই বাড়ির রহস্য নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। এবার সবকিছু আলাদা। কারণ, এই প্রথম কেউ তাকে সরাসরি জানিয়েছে যে বাড়িটির ভিতরে এমন কিছু আছে, যা এত বছর গোপন রাখা হয়েছে। আর সেই মানুষটি তাকে রাতের জানালা থেকে দূরে থাকতে বলেছে।...
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |