শূন্য বাড়ির জানালা ( পর্ব ৪ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 7 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000099787.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "শূন্য বাড়ির জানালা" এর চতুর্থ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- তারা বলেছিল, আমি হয়তো ভুল দেখেছি। তারপর আমাকে আর এ বিষয়ে কথা না বলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কে পরামর্শ দিয়েছিল? এই প্রশ্নে হরিপদবাবুর মুখের ভাব বদলে গেল। তিনি উঠে গিয়ে আলমারি খুললেন। ভিতর থেকে একটি ছোট কাপড়ের থলি বের করে অর্ণবের সামনে রাখলেন। থলির ভিতরে ছিল একটি পুরোনো পিতলের চাবি এবং ভাঁজ করা একটি কাগজ। এটা আমি বাড়িটার কাছেই পেয়েছিলাম- বৃদ্ধ বললেন। যেদিন আলোটা প্রথম দেখেছিলাম, তার পরের সকালে। অর্ণব চাবিটি হাতে তুলে দেখল। চাবিতে কালচে মরচে জমেছে।

মাথার কাছে খোদাই করা একটি ছোট চিহ্ন একটি বৃত্তের ভিতরে ত্রিভুজ। এটা কোন দরজার চাবি? জানি না, তবে কাগজটা পড়। অর্ণব কাগজটি খুলল। কাগজটি খুব পুরোনো, কালি ফিকে হয়ে এসেছে। তবু কয়েকটি শব্দ স্পষ্ট পড়া যাচ্ছিল।যদি জানালায় আলো জ্বলে, তবে বুঝবে সে এখনও ভিতরে আছে। কিন্তু দরজা খুলবে না। যে বেরিয়ে আসবে, সে আর আগের মানুষ থাকবে না।অর্ণব কয়েকবার লেখাটি পড়ল। এটা কে লিখেছে? জানি না, হাতের লেখাটাও চিনতে পারিনি। তাহলে এত বছর এটা লুকিয়ে রেখেছেন কেন? হরিপদবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। কারণ, এর পরের অমাবস্যায় আমি আবার সেই জানালায় আলো দেখেছিলাম। আর এবার জানালার সামনে যে মানুষটি দাঁড়িয়ে ছিল, সে মৃণালিনী দেবী ছিল না।

তাহলে কে ছিল? বৃদ্ধ সরাসরি অর্ণবের চোখের দিকে তাকালেন। তোর বাবার মতো দেখতে একজন মানুষ। অর্ণবের হাত থেকে কাগজটি প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। তার বাবা? কিন্তু তার বাবা তো কখনও মুখার্জিদের বাড়ির সঙ্গে কোনো সম্পর্কের কথা বলেননি। বরং ছোটবেলায় অর্ণব যতবার বাড়িটির কথা জিজ্ঞেস করেছিল, বাবা ততবারই প্রসঙ্গ বদলে দিয়েছিলেন। একবার তো রাগ করে বলেছিলেন, ওই বাড়ি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না করতে। তখন অর্ণব ভেবেছিল, বাবা হয়তো গ্রামের কুসংস্কার পছন্দ করেন না। আজ প্রথমবার তার মনে হলো, সেই নীরবতার পিছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। আপনি নিশ্চিত? অর্ণব ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করল। আমি জানি, তুই কী ভাবছিস। তোর বাবা ওই বাড়িতে ছিলেন কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।

কিন্তু জানালার সামনে যে মানুষটাকে দেখেছিলাম, তার মুখ তোর বাবার মতোই ছিল। কোন বছর? প্রায় চৌদ্দ বছর আগে। অর্ণবের বুকের ভিতর একটা ঠান্ডা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। তার বাবা মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত কোনোদিন এই ঘটনা নিয়ে কথা বলেননি। আর হরিপদবাবু এত বছর পর তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন কেন? বৃদ্ধ এবার অর্ণবের হাত শক্ত করে ধরলেন। তুই যদি সত্যিটা জানতে চাস, তাহলে একটা কাজ করবি। বাড়িটার ভিতরে যাওয়ার আগে ভালো করে ভেবে নিবি। কারণ, কিছু দরজা একবার খুললে আর বন্ধ করা যায় না। অর্ণব কোনো উত্তর দিল না। তার সমস্ত মনোযোগ তখন সেই পিতলের চাবি আর কাগজের উপর। সে বুঝতে পারছিল, এই রহস্যের সঙ্গে তার নিজের পরিবারের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png