ছেড়ে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা,
এই নিয়মে বাঁধা জীবনে একটু চেনা গণ্ডির বাইরে তো মন যেতেই চায়।অচেনা হাওয়ার হিমেল পরশ,কবিতার ছন্দে আকস্মিক ছন্দপতন এই তো জীবনের আরেক সুবাস।সময় এগিয়ে যাবে তার নিয়মে আমরাও কোথাও না কোথাও বদলাবো জেনে কিংবা নিজের অজান্তে।তবুও প্রেমে পড়লে এই কবিতার মরশুমে।
আমি বিশ্বাস নিয়ে ঘর ছেড়েছি—
ব্যাগের চেন বন্ধ হচ্ছিল না,
মা আরও একটি জামা দিতে চাইছিল।
বলেছিলাম, লাগবে না।
তখন মনে হতো,
সামনে গেলে সবই পাওয়া যায়।
বাবা দরজা পর্যন্ত এসেছিল।
পথের কথা কিছু বলেনি,
বলেছিল, পৌঁছে খবর দিস।
আমি সেই কথার চেয়ে
পকেটের টিকিটটাকে
বেশি জরুরি ভেবেছিলাম।
অচেনা শহরে প্রথম রাত
একটি সস্তা ঘরে কাটে।
পাখা ঘুরছিল,
হাওয়া এসে পৌঁছোচ্ছিল না বিছানায়।
যে লোকটি কাজের কথা দিয়েছিল,
তার ফোন বেজে যাচ্ছিল।
আমি প্রতিবার ভাবছিলাম—
এবার নিশ্চয়ই ধরবে।
বিশ্বাস ভাঙার কোনও নির্দিষ্ট শব্দ নেই।
ফোন একসময় থেমে যায়,
দোকান বন্ধ হয়,
পাশের ঘরে কেউ হাসে।
তোমার জন্য কিছু না ঘটলেও
পৃথিবীর সন্ধ্যা
ঠিক সময়েই নেমে আসে।
সেদিন বাড়িতে বলেছিলাম,
সব ঠিক আছে।
কথাটা বলে অনেকক্ষণ
মুখ শুকিয়ে ছিল।
মিথ্যে বলার অভ্যাস ছিল না,
আবার ফিরে যাওয়ার কথাও
তখন মুখে আনতে পারিনি।
পরে কাজ পেয়েছি।
কথা দিয়ে কথা না রাখা মানুষও।
কিছু দরজায় এতবার গিয়েছি,
ভিতরের লোকের আগে
দারোয়ান আমার নাম জেনে গেছে।
রাগ করে ঠিক করেছিলাম,
আর কাউকে বিশ্বাস করব না।
পরদিনই জ্বর এলো।
পাশের ঘরের লোকটি
আমার চাবি নিয়ে ওষুধ আনতে গেল—
তার পদবিটাও জানতাম না।
সুস্থ হয়ে টাকা দিতে গেলে
ওষুধের দামটুকু নিল,
চায়ের দাম মনে করতে পারল না।
সেই ভুলে যাওয়া কয়েকটি টাকা
আজও আমার মনে আছে।
আমি বিশ্বাস নিয়ে ঘর ছেড়েছি।
পথে তার অনেক সংশোধন হয়েছে।
এখন কাগজ পড়ে সই করি,
প্রশ্ন করি,
না বলতে হলে বলি।
তবু কারও বাড়ানো হাতে
শুধু ফাঁদের দাগ খুঁজি না।
আজ নতুন একজন এসেছে
আমাদের পাশের ঘরে।
ব্যাগটা দরজায় নামিয়ে
কাকে যেন ফোন করছে—
হ্যাঁ, পৌঁছেছি,
এখানে সব ঠিক আছে।
আমি নিজের প্রথম রাতের
গলার স্বর চিনতে পারি।
চুলায় ভাত ছিল।
আরেক মুঠো চাল ধুয়ে
হাঁড়িতে দিয়ে দিই।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |