এই নিঃসঙ্গতা
নমস্কার বন্ধুরা,
এই নিয়মে বাঁধা জীবনে একটু চেনা গণ্ডির বাইরে তো মন যেতেই চায়।অচেনা হাওয়ার হিমেল পরশ,কবিতার ছন্দে আকস্মিক ছন্দপতন এই তো জীবনের আরেক সুবাস।সময় এগিয়ে যাবে তার নিয়মে আমরাও কোথাও না কোথাও বদলাবো জেনে কিংবা নিজের অজান্তে।তবুও প্রেমে পড়লে এই কবিতার মরশুমে।
এই নিঃসঙ্গতা একটা দেশ।
এখানে আসার জন্য
কোনো সীমান্ত পেরোতে হয়নি—
একদিন অনেকের সঙ্গে খেতে বসে
খেয়াল করলাম,
বেশ কিছুক্ষণ ধরে কেউ আমার দিকে তাকায়নি।
সেদিনও বাড়ি ফিরেছিলাম চেনা পথে।
চাবি ঘুরেছিল,
আলো জ্বলেছিল যথারীতি।
শুধু সারাদিনের একটা ছোট ঘটনা
কাকে বলব ভাবতে গিয়ে
জুতো খোলার আগেই বসে পড়েছিলাম।
এই দেশের ভাষা আমি ধীরে শিখেছি।
‘ভালো আছি’ বলতে এখানে
খুব বেশি শব্দ লাগে না।
‘আজ একটু কথা বলবে?’
লিখে মুছে ফেলতে
রাতের অনেকটা চলে যায়।
ফোনের পর্দায় কত মুখ।
কেউ পাহাড়ে, কেউ সমুদ্রের কাছে,
কারও শিশুর প্রথম স্কুল।
ছবিগুলি বড় করে দেখি,
আনন্দও হয়।
তারপর কালো হয়ে যাওয়া পর্দায়
নিজের মুখটা ফিরে আসে—
তখন আর আঙুল দিয়ে
কিছু সরানো যায় না।
তুমি চলে যাওয়ার পরে
দেশটার আয়তন বেড়েছিল।
তোমার দিকের বিছানা,
বারান্দার দ্বিতীয় চেয়ার,
রবিবারের দুপুর—
এতখানি জায়গা নিয়ে কী করব
প্রথমে বুঝতে পারিনি।
পরে সেখানে কাজ রেখেছি,
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা,
এমন কিছু পরিচয়
যাদের কাছে নিজের কথা
গোড়া থেকে বলতে হয় না।
তবু কোনো কোনো সন্ধ্যায়
সবকিছু সরিয়ে
ফাঁকা জায়গাটা আবার বসে পড়ে।
তোমাকে এর একমাত্র কারণ বলব না।
তুমি থাকতেও কতবার
প্রশ্নের উত্তরে অন্য কথা বলেছি।
তুমি পাশে এসে বসলে
কাজ আছে বলে উঠে গেছি।
এখন সেই কাজগুলির নাম মনে নেই,
উঠে যাওয়ার ভঙ্গিটা মনে আছে।
এই দেশের মানচিত্রে
আমার নিজের হাতেরও দাগ আছে।
এখানে শীত একটু আগে নামে।
রান্না শেষ হলে ঢাকনা দেওয়ার আগে
কিছুক্ষণ হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে থাকি।
একজনের খিদে মাপতে শিখেছি,
বাজারে গিয়ে এখনও মাঝে মাঝে
বেশি কিনে ফেলি।
তবু নিঃসঙ্গতার সব দিন
এক রকম নয়।
কোনো সকালে নিজের ইচ্ছেমতো
জানালা খুলে বসতে ভালো লাগে।
কারও মন বুঝে কথা বলতে হয় না,
দুঃখ পেলেও
সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যাখ্যা দিতে হয় না।
আবার কোনো রাতে
জ্বর ছাড়াই কপালে হাত রাখি।
একটি স্পর্শ কেমন ছিল
শরীর এখনও মনে রেখেছে।
এই নিঃসঙ্গতা একটা দেশ।
বহুদিন এখানে থেকে
আমি এর প্রতিটি গলি চিনেছি;
কোন পথে গেলে তোমাকে মনে পড়বে,
কোন গান মাঝখানে বন্ধ করতে হবে,
কোন দিন সন্ধ্যার আগে
বাড়ি না ফেরাই ভালো।
আজ পাশের ফ্ল্যাটের ছেলেটি
ভুল করে আমার কলিংবেল টিপল।
দরজা খুলতেই অপ্রস্তুত মুখে বলল,
মাফ করবেন।
বললাম, কিছু হয়নি।
সে চলে যাওয়ার পরও
দরজাটা একটু খোলা রাখলাম।
সিঁড়িতে তখন লোকজন ফিরছে,
কেউ বাজারের ব্যাগ নামিয়ে
পকেটে চাবি খুঁজছে,
ওপর থেকে কারও ডাক আসছে।
অনেক দিন পরে
বন্ধ করার আগে শুনলাম—
আমার ঘরের বাইরেও
সন্ধ্যা হচ্ছে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |