অদ্ভুত অধ্যায়।
জীবন, কী এক অদ্ভুত অধ্যায়!
তাই না?
একদিকে কেউ কেউ নিজের ছেলে-মেয়ের বিয়েতে লাখ কিংবা কোটি টাকা খরচ করতেও অস্বস্তি বোধ করেন না। অন্যদিকে, কেউ শুধু বিয়েটুকু সম্পন্ন করার আশায় ভরা বাজারে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততেও কুণ্ঠাবোধ করেন না।
কারও কাছে বিয়ে আভিজাত্য প্রদর্শনের উপলক্ষ, আবার কারও কাছে সেটুকু সম্পন্ন করাই এক বিশাল জীবনযুদ্ধ।
কেউ কেউ বিয়েবাড়িতে মাংসের টুকরো একটু কম পেলেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খাবারের আয়োজন কিংবা আপ্যায়নের সামান্য ত্রুটিকেও এমনভাবে দেখেন, যেন বিরাট কোনো অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে!
অথচ এই সমাজেই একজন অসহায় মা যখন মেয়ের বিয়ের জন্য গ্রামের বাজারে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে, এক মানুষের কাছ থেকে আরেক মানুষের কাছে সাহায্যের আশায় ছুটে বেড়ান, বারবার নিরাশ হন,সেই দৃশ্য স্বচক্ষে দেখলে বিবেকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে।
হঠাৎ করেই মনে হয়, একই সমাজে বসবাস, একই রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ, অথচ কারও কাছে অর্থ খরচ করা নিছক বিলাসিতা, আর কারও কাছে সামান্য কিছু অর্থের সংস্থান করাই পাহাড়সম কঠিন বাস্তবতা।
জানি, সবার সামর্থ্য এক নয়। কিন্তু মানুষের অসহায়ত্বটুকু উপলব্ধি করার মতো বিবেক তো অন্তত সবার থাকা উচিত,তাই নয় কি?
দিনশেষে জীবন সত্যিই বড় বিচিত্র! কারও আনন্দের জন্য আয়োজনের শেষ নেই, আবার কারও জীবনে সামান্য একটু আনন্দের ব্যবস্থা করতেও, কত মানুষের দরজায় প্রতিনিয়ত কড়া নাড়তে হচ্ছে!
কী একটা অবস্থা।