আড়ালে আবডালে।

in আমার বাংলা ব্লগ • yesterday

45237.jpg
source

পাখি আইতে লুকায়, যাইতে লুকায়, গোপনে করে আনাগোনা,তার আসা-যাওয়া, চলাফেরা সবকিছুতেই যেন রহস্যের ছায়া। কখনো সামনে আসে, কখনো আড়ালে সরে যায়, কখনো নিজেকে আড়াল করে রাখে, আবার কখনো এমনভাবে উপস্থিতি জানান দেয়, যেন কিছুই ঘটেনি।

অথচ তার গতিবিধি যে একেবারে অগোচরে থেকে যায়, তাও নয়। সেই পাখির চালচলন বোঝা, তার স্বভাব চেনা আর তাকে ধরার কৌশল রপ্ত করা কিন্তু সবার কাজ নয়। সে পাখি ধরতে পারে সাধু, গুরু, মাওলানা!

তবে এখানে একটা বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ,পাখি ধরা আর পাখির স্বভাব বোঝা এক কথা নয়। কে কখন কোথায় লুকায়, কী উদ্দেশ্যে সামনে আসে, আর কোন স্বার্থে গোপনে আনাগোনা করে, সেসব বুঝতে হলে শুধু চোখ-কান খোলা রাখলেই চলে না, প্রয়োজন তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা আর বিবেকবোধের।

আমাদের সমাজে বাহ্যিক পরিচয়, পোশাক-আশাক কিংবা জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা দেখে মানুষকে বিচার করার প্রবণতা কম নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, পরিচয়ের আড়ালেও অনেক গল্প থাকে, নীরবতার পেছনেও অনেক উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে।

কেউ ধর্মের পরিচয়ে, কেউ জ্ঞানের দাপটে, আবার কেউ সাধু সাজার ভঙ্গিতে মানুষের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করে। কিন্তু কে কতটা সত্য, আর কে কতটা অভিনয়ে পারদর্শী, তা বোঝার জন্য একটু গভীরে তাকাতে হয়।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, যে পাখি ধরতে বেরিয়েছে, সে নিজেই কখনো কখনো অন্যের পাতা ফাঁদে আটকে যায়। আবার যে নিজেকে খুব চালাক মনে করে, তার চালাকির খবরও হয়তো অন্য কারও অজানা নয়।

এই দুনিয়ায় সবাই কিছু না কিছু বোঝে, সবাই কিছু না কিছু আড়াল করে, আর প্রত্যেকেই নিজের মতো করে হিসাব-নিকাশ কষে চলে।

সর্বোপরি পাখির আনাগোনা দেখেই মুগ্ধ হওয়ার কিছু নেই, আবার পাখি ধরার কৌশল দেখেই কাউকে মহাজ্ঞানী ভাবারও কারণ নেই।

আসল দক্ষতা হলো,পাখির চাল বোঝা, ফাঁদের উদ্দেশ্য চেনা, আর কে কাকে নিয়ে খেলছে, সেই হিসাবটা ঠান্ডা মাথায় বুঝতে পারা।

কারণ, সব পাখি ধরা পড়ে না, সব শিকারি শিকার করতে পারে না, আর সব সাধু-গুরু-মাওলানার পরিচয়ের আড়ালে যে একই রকম মানুষ লুকিয়ে আছে, এমন ভাবারও কোনো কারণ নেই।

শেষ পর্যন্ত মুখের পরিচয় নয়, মানুষের প্রকৃত অবস্থান বোঝা যায় তার আচরণ, উদ্দেশ্য আর কাজের মধ্য দিয়েই।