ভ্যাবাচ্যাকা

in আমার বাংলা ব্লগ4 days ago

39585.jpg

বাসায় প্রতিমাসে যেটুকু গলদা চিংড়ি কেনা হয়, তা মূলত শুধু হাসিব বাবুর জন্যই। পরিবারের অন্য কারও খাওয়ার ইচ্ছা জাগলেও, বাবুর কথা ভেবেই হয়তো চিংড়ি মাছের তরকারিটা কেউ আর পাতে নেয় না।

এমনিতেই শুক্রবারের দিন। দুপুরের আগেই পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েও ভিক্ষুক লোকটা যে সেভাবে কোনো ভিক্ষা পায়নি, সেটা নাসিবের গিন্নি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল। যে মন্দা সময় যাচ্ছে, তাতে গ্রামের মানুষের নিজেদের সংসার চালানোই যেখানে কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে একজন ভিক্ষুককে দেওয়ার মতো কিছু তারা পাবে কোথা থেকে?

একদম ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে বৃদ্ধ লোকটা যখন বাড়ির দরজার সামনে এসে বসেছিল, তখন শুধু মুখ ফুটে ঠান্ডা পানি আর সামান্য কিছু শুকনা খাবার খাওয়ার আবদার করেছিল। কিন্তু নাসিবের গিন্নি লোকটার চোখ-মুখের দিকে তাকিয়েই অনায়াসে বুঝে ফেলেছিল,সকাল থেকে ওই পেটটাতে পানি ছাড়া আর কোনো দানাপানি পড়েনি।

বাবুর জন্য রান্না করা চিংড়ির তরকারি ছাড়া তখন পর্যন্ত বাড়িতে আর কোনো তরকারি রান্না হয়নি। সেই তরকারি থেকেই দুটো চিংড়ি আর খানিকটা ঝোল দিয়ে প্লেটে ভাত বেড়ে দিয়েছিল বৃদ্ধ লোকটাকে।

কারণ, নাসিবের বাড়ির দরজায় এসে কেউ অভুক্ত পেটে ফিরে যাবে,এমনটা তো হতে পারে না।

যদিও নাসিব এসবের কিছুই জানে না। কেননা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার স্বভাবটা তার নতুন নয়, বরং বড্ড পুরোনো। ঘুম থেকে ওঠার পর গিন্নিকে ডেকে যখন খাবারের কথা বলল, তখন গিন্নি স্পষ্টই বলে দিল,আরও খানিকটা সময় বিশ্রাম নিতে।

কারণ, হাসিব বাবুর জন্য যে চিংড়ির তরকারি রান্না হয়েছিল, বাবু ইতিমধ্যেই তার অংশ খেয়ে ফেলেছে, আর বাকি তরকারিটুকু দেওয়া হয়েছে সেই ভিক্ষুক মানুষটাকে।

আর সেই মানুষটি চিংড়ির তরকারি দিয়ে ভাত খেয়ে পরিতৃপ্তির সঙ্গে শুধু এটুকুই বলেছে,
মা, আমি আমার পুরো জীবনে এত বড় চিংড়ি খাইনি।

ঘুম থেকে ওঠার পর গিন্নির মুখে এমন কথা শুনে নাসিব কিছুক্ষণের জন্য একেবারে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিল। তারপর মুখ ফুটে শুধু একটি কথাই বলেছিল,

এমন কাজ প্রতিনিয়ত অব্যাহত রেখো।

নিজেদের খাবারের সংকট থাকলেও, অন্য কোনো মানুষ যেন কখনো এই বাড়ির দরজা থেকে খালি মুখে ফিরে না যায়।