তিনটি অনন্য ভাস্কর্য

প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস জানতে গেলে শুধু বইয়ের পাতায় চোখ রাখলেই যে জানা যায়, তা কিন্তু নয়। কখনও কখনও একটি জাদুঘরের নীরব কক্ষে দাঁড়িয়ে কয়েকশো বা কয়েক হাজার বছরের পুরোনো একটি ভাস্কর্যের দিকে তাকালেই ইতিহাস যেন আমাদের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই তিনটি শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে প্রাচীন ভারতীয় ভাস্কর্যের কারিগরি দক্ষতা, বৌদ্ধ ধর্মের ভাবনা এবং সেই সময়কার সমাজ-সংস্কৃতির নানা চিহ্ন। এখানে প্রথম ছবিতে যে ভাস্কর্যটি রয়েছে, সেটিকে পিছন দিক থেকে তুলেছিলাম, তবে সামনের দিক থেকেও একই। পিছন দিক থেকেও এর শিল্পরীতি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দ্বিতীয়টি আকারে সবচেয়ে বিশাল এবং সম্ভবত সবচেয়ে গল্পনির্ভর।

একটি দীর্ঘ পাথরের ফলকের উপর অসংখ্য মানবমূর্তি, নারী-পুরুষের বিভিন্ন অবয়ব, স্থাপত্য, প্রাণী এবং নানা ধরনের দৃশ্য পাশাপাশি খোদাই করা হয়েছে। এটি অমরাবতী শিল্পধারার সঙ্গে যুক্ত বুদ্ধের জীবনকাহিনির দৃশ্যসমৃদ্ধ ভাস্কর্য-ঐতিহ্যের একটি চমৎকার উদাহরণ। এখানে একাধিক চরিত্র এবং ঘটনা একই পাথরের মধ্যে সাজানো হয়েছে। কোথাও মানুষ বসে আছে, কোথাও দাঁড়িয়ে, কোথাও আবার নৃত্য বা অন্য কোনও কর্মকাণ্ডের ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে। আর তৃতীয় ছবিতে বুদ্ধ পদ্মাসনে বসে রয়েছেন। চোখের শান্ত দৃষ্টি, মুখের কোমল অভিব্যক্তি এবং হাতের ধর্মদেশনার ভঙ্গি পুরো ভাস্কর্যটিকে একটি গভীর আধ্যাত্মিক আবহ দিয়েছে। এই ভাস্কর্যগুলিকে পাশাপাশি দেখলে প্রাচীন ভারতীয় শিল্পের বৈচিত্র্য খুব সুন্দরভাবে বোঝা যায়। অমরাবতীর ভাস্কর্যে রয়েছে গল্প, গতি, বহু চরিত্র এবং দৃশ্যের সমৃদ্ধি।

Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟