আমাদের সমাজে নারী দেবী রূপে পূজিত হয়।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমাদের বাঙ্গালীদের বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। আর সে তেরো পার্বণের মধ্যেই রয়েছে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা-পার্বণ। আমাদের সমাজে দেখা যায় নারীদের বিভিন্ন দেবীরূপে পুজো করা হয়। কখনো দেবী কোমল নমনীয় রূপে আমাদের এই সমাজে পুজিত হয়, কখনো আবার রুদ্র কালি রূপে অর্থাৎ ভীষণ রাগী রূপে পুজিত হয়, অনেক সময় আবার এই পৃথিবীতে আমাদের চারপাশে থাকা শত্রুদের দমনের জন্য আমাদের দেবী আবির্ভূত হন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে আমরা নারী-রূপী দেবীকে পূজা করে থাকি। অর্থাৎ একদিকে দেখা গেলে আমাদের সমাজে নারীকে বিষয়ে শক্তিশালী এবং দেবী রূপে গণ্য করা হচ্ছে। তাই প্রত্যেকটি পূজা যেমন দুর্গাপূজা কালীপূজা খুবই ধুমধাম করে উৎসবের সাথে পালন করা হয়। কিন্তু এক দিকে দেখা যায় যে নারীকেই আমরা দেবী রূপে পূজা করছি শক্তিরূপে আরাধনা করছি অন্যদিকে সেই নারী ভীষণভাবে অবহেলিত হচ্ছে ও অত্যাচারিত হচ্ছে। একদিকে নারীকে পূজা করা হচ্ছে অন্যদিকে সেই নারীর উপরেই প্রতিনিয়ত নির্যাতন অত্যাচার করে তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সমাজে কোন ভাবেই সঠিক স্থান ভালোবাসা সম্মান আর আত্মমর্যাদা কোন কিছুই পায় না বর্তমানে নারীরা। আমাদের সমাজে মানুষেরা বড়ই অদ্ভুত কারণ একদিকে যেখানে নারীকে দেবীর উপর পুজো করে অন্যদিকে সেই নারীকে ভীষণভাবে দমন করে রাখার চেষ্টা করে। যেন তারা কোনোভাবেই সমাজে উন্নতি করতে না পারে নিজের পায়ে শক্ত করে দাঁড়াতে না পারে। বাইরে বিভিন্ন দেশে দেখা যায় নারীদের এমনভাবে পূজা করা হয় না বা নারী শক্তিকে এতটাও গুরুত্ব দিয়ে দেবী রূপে পূজা করা হয় না। কিন্তু সেখানে পুজো করা বা নারীকে দেবীর রূপে আরাধনা করা না হলেও কোনভাবেই নারীকে অসম্মান করা হয় না বা নারীর উপর অত্যাচার করা হয় না। আসলে আমাদের সমাজে নারীকে যতটা মহান করে দেখানো হয় ততটাই নারীকে বাস্তব সমাজে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় যেটা বাইরের কোন দেশেই নারীর উপর এত নির্যাতন হয় না। আমাদের সমাজের মানুষেরা আসলে ভীষণভাবে ভয় পেয়ে চলে কারণ নারী শক্তি সম্পর্কে তাদের খুব ভালোভাবে ধারণা রয়েছে যে নারীরা চাইলে সবকিছুই পারে। তাই নারীকে যদি কোন ভাবে প্রতিনিয়ত সাহায্য করা হয় তবে নারী-পুরুষদের ছাড়িয়ে অনেকটা দূর এগিয়ে যেতে পারে অর্থাৎ নিজের সাথে সাথে সমাজেরও ভীষণভাবে উন্নতি করতে পারে।
তাই আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজ প্রতিনিয়ত ভয় থাকে যে নারীকে যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয় তবে নারী তার সর্বস্ব দিয়ে নিজের সাথে সাথে সমাজেরও ভীষণভাবে উন্নতি করে ফেলবে এবং তাদেরকে হার মানিয়ে দেবে। আর এইসব পুরুষ মানুষ তার নিজের ব্যর্থতা কোনভাবেই সহ্য করতে পারবে না যার ফলে প্রতিনিয়ত নারীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে থাকে এবং ভীষণভাবে অত্যাচারিত করতে থাকে যেন নারীরা কোনভাবেই তাদের থেকে এগিয়ে যেতে না পারে। তাই দেখা যায় কিছু কিছু পুরুষ মানুষ তাদের পরিবারের নারীদের উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেলেও বেশিরভাগ পুরুষ মানুষেরাই তাদের আশেপাশের এবং পরিবারের নারীদের প্রতিনিয়ত করা শাসনে আটকে রাখে এবং অত্যাচার ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বেঁধে রাখে যেন তারা কোনোভাবেই নিজের উন্নতি এবং দেশের উন্নতি করতে না পারে। বাইরে সমাজের সামনে নারীকে দেবী রূপে এসব মানুষ পূজা করলেও বা দেবীর আরাধনা করলেও ভেতরে ভেতরে এইসব মানুষ কোন ভাবেই নারীকে সম্মান করতে জানে না।
এই কিছু মানুষের জন্যই নারীরা প্রতিনিয়ত পিছিয়ে থাকে দেবি রূপে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও। আমাদের সমাজে এমনও দেখা যায় যে পুরুষ মানুষ বাইরে মন্দিরে দেবীর পূজা করে দেবীর আরাধনায় মত্ত থাকে সেই ঘরে ঢুকে তার ঘরের নারী দের উপর ভীষণভাবে অত্যাচার করতে থাকে। তাই আমাদের সমাজে শুধুমাত্র নারীকে দেবীর উপর পূজা করলেই হবে না তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে এ অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং তাদেরকে প্রতিনিয়ত সুরক্ষিতভাবে বাঁচতে সাহায্য করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে নারীকে শুধু দেবীর উপরই পূজা করলে নারী আমাদের সুরক্ষা দেবে না সমাজের প্রত্যেকটা নারীকে যদি আমরা সুরক্ষিত করতে পারি এবং সমাজের আইন ব্যবস্থা নারীদের জন্য সুরক্ষিত করতে পারি তবেই নারী আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারবে এবং সমাজ উন্নত করতে সক্ষম হবে। তাই নারীকে শুধু দেবীরূপে পূজা করলেই হবে না বাস্তব নারীদেরও একটু সম্মান ও সুরক্ষা দিতে হবে।
ক্যামেরা পরিচিতি : Realme
ক্যামেরা মডেল : realme narzo 60 pro
ক্যামেরা লেংথ : 26 mm
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।