অতিরিক্ত ভালোবাসা সব সময়ের জন্যই ক্ষতিকর।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
ভালোবাসা একটা অত্যন্ত পবিত্র সুন্দর অনুভূতি। এই ভালোবাসা দিয়ে পুরো পৃথিবীটাকেই জয় করা যায় আবার এই ভালবাসার জন্যই পৃথিবীর বিভিন্ন মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা যায়। আসলে এই ভালোবাসা সঠিক সময়ের সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যদি ভুল জায়গায় আমাদের অনুভূতি ভালোবাসা প্রকাশ করি অথবা প্রয়োগ করি তাহলে সে ভালোবাসাটা পুরোপুরি ব্যর্থ হবে। আবার যদি পরিমাণের অতিরিক্ত আমরা কারো প্রতি অনেক বেশি ভালোবাসা নামক অনুভূতি ইনভেস্ট করে ফেলি তবে সেটাও একদমই ভুল কাজ হবে। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয় সেটা প্রত্যেকটা জিনিসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমরা যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত আমাদের কোন বন্ধু বা বান্ধবীকে ভালোবাসি এবং অতিরিক্ত যত্ন করতে থাকি তবে একটা সময় দেখা যাবে তারা আমাদের প্রতি খুবই বিরক্ত অনুভব করবে। আর তার সাথে আমাদের থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করবে। আর আমাদের বন্ধু বান্ধব যদি বুঝতে পারে যে আমরা তাদেরকে অনেক বেশি ভালোবাসি এবং তাদের প্রতি আমাদের অনুভূতি অনেকটাই গাঢ় তবে তারা আমাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে ছাড়বে না।
আসলে প্রত্যেকটা ব্যক্তি সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে অনেক বেশি সক্ষম তাই যখন কেউ বুঝতে পারে যে তাদের প্রতি আমাদের একটা আলাদা অনুভূতি রয়েছে ভালবাসা রয়েছে তখন তারা আমাদেরকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করে। তাই অতিরিক্ত কখনো কারোর প্রতি অনুভূতি বা ভালোবাসা থাকা একদমই উচিত নয়। যে সম্পর্ক যতটা যত্নশীল থাকা প্রয়োজন ততটাই যত্নশীল বা অনুভূতি প্রবণ থাকা ভালো। অতিরিক্ত ভালোবাসা আর অতিরিক্ত অনুভূতি বা যত্নশীল মনোভাব থাকা কোন সম্পর্কের জন্যই ভালো নয়। যেমন বাবা-মা যদি সন্তানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্নশীল এবং প্রটেকটিভ হয়ে পড়ে তখন সেই বাচ্চা ধীরে ধীরে দম বন্ধ কর অবস্থা অনুভব করতে থাকে। কারণ প্রত্যেকটা জিনিস এই বাধা এবং নিষিদ্ধ কোন মানুষই পছন্দ করে না।। অনেক বাবা মা আছে অতিরিক্ত ভালোবাসা এবং অনুভূতির কারণে বাচ্চাকে প্রতিনিয়ত শাসনের মধ্যে রাখার চেষ্টা করে যেটা প্রত্যেকটা সন্তানের ক্ষেত্রেই অনেক বেশি কষ্টকর এবং বিরক্তকর হয়ে ওঠে। বাবা-মার অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে দেখা যায় সন্তানেরা ভালোভাবে বাঁচতেই পারে না।
অতিরিক্ত শাসন এবং অতিরিক্ত ভালোবাসার জন্য সন্তানেরা অনেক সময় জীবনের সাফল্যের উদ্দেশ্যে যেসব কর্ম করা প্রয়োজন সেগুলোই সঠিকভাবে করতে পারে না যার ফলে অনেক বেশি পিছিয়ে পড়ে এবং জীবনের অসফল হয়েই থেকে যায়। বাবা-মার অতিরিক্ত ভালোবাসা এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে কখনোই কোন মানুষ সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। সন্তানকে যদি সফল করার ইচ্ছা থাকে এবং জীবনে সুন্দরভাবে বাঁচানোর ইচ্ছা থাকে তবে অবশ্যই সন্তানকে মায়াজাল এবং অতিরিক্ত ভালোবাসা ও শাসনের থেকে মুক্ত করতে হবে। প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বাস্তব বুঝে যখন সে সাফল্যের দিকে এগোতে থাকবে তখনই সে জীবনে উন্নতি করবে আর সফলতা পাবে। কিন্তু কিছু কিছু বাবা-মা এমন হয় যারা ভালোবাসার জন্য সন্তানকে ভীষণভাবে আটকে ধরে রাখে আর তার সাথে অনেক ধরনের কর্ম করতে বাধা দিতে থাকে যার ফলে তার সঠিক উন্নতি কোনোভাবেই হতে পারে না। ভয়ের কারণে ও ভালোবাসার কারণে অনেক সময়ে বাচ্চাদেরকে অনেক দক্ষতা শিক্ষা ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে বাধা দিতে থাকে অনেক বাবা মা।
আমাদের আশেপাশে এমন অনেক বাবা-মা দেখা যায় যাদের কারণেই সন্তানেরা জীবনে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারেনি ও মানসিক বিকাশ ও জীবনে উন্নতি ঠিকমতো করতে পারেনি। সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত শাসনের কারণে কিছু বছর পরেই দেখা যায় সন্তানের সাথে বাবা মায়ের সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়ে যায়। তাই কখনো অতিরিক্ত ভালোবাসা অতিরিক্ত প্রোটেকটিভ মানসিকতা কোন সম্পর্কে রাখতে নেই। বিশেষ করে বাবা-মায়ের তার সন্তানের প্রতি। এছাড়াও স্বামী-স্ত্রী ভাই বোন ও অন্যান্য রিলেশন এর মধ্যেও দেখা যায় অতিরিক্ত ভালোবাসা আর প্রটেকটিভ মানসিকতা থাকা সম্পর্কের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর হয়ে যায়। সম্পর্ক যতটা খোলামেলা ও স্বাধীন থাকবে ভালোবাসা ও মুক্ত ভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারবে আর সম্পর্ক সুন্দরভাবে বজায় থাকবে ও গভীর হতে থাকবে। অতিরিক্ত ভালোবাসা অন্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমন নিজের জন্যেও অনেক বেশি ক্ষতিকর কারণ অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে সম্পর্ক যেমন নষ্ট হয় তেমনি অনেক খারাপ দিক উঠে আসে আমাদের জীবনের চলার পথে।
ক্যামেরা পরিচিতি : Realme
ক্যামেরা মডেল : realme narzo 60 pro
ক্যামেরা লেংথ : 26 mm
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।