জীবনের গল্প || অতি নির্ভরতা ভালো না
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতাগুলোকে আর আগের মতো উষ্ণ রাখার সুযোগ পাচ্ছি না। কারণ আমরা কোন না কোন ভাবে কারো সান্নিধ্য লাভ করার পর কিছু কিছু বিষয়ের জন্য তাদের উপর অতি নির্ভরশীল হয়ে যাই। কারণ তাদের আমরা নিজের আপন বা খুব কাছের মানুষ ভাবতে শুরু করে দেই। এটারও অবশ্য অনেকগুলো কারণ থাকে। দীর্ঘ সময়ের জন্য যখন একজন মানুষকে আমি কাছে পান, তার সাথে সুখ দুঃখ ভাগ করে নেয়ার সুযোগ পান, নানা বিষয়ে তাকে আপন ভাবাটা তখন আর দোষের থাকে না।
বললাম না এখানে অনেকগুলো বিষয় ক্রিয়াশীল থাকে, সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কগুলো আরো মজবুত হতে থাকে, কাজে কিংবা অকাজে তাদের উপস্থিতি আমাদের দারুণভাবে পুলকিত করে। ফলশ্রুতিতে ধীরে ধীরে আমরা তাদের উপর নির্ভর হতে শুরু করে দেই, তাদের আপন হতে আপন ভাবতে শুরু করে দেই। অনেক ক্ষেত্রে আমরা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও তাদের বেশী আপন হিসেবে বিবেচনা করি, তাদেরকে প্রয়োজনের তুলনায় অধীক গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করি।
সম্পর্কের এমন পরিস্থিতিতে আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশী তাদের উপর নির্ভর যেমন করি ঠিক তেমনি তাদের আপন মনে বিশ্বাসও করতে শুরু করি। কিন্তু এটা যে কতটা ভয়াবহ বিপদের ঝুকির মাঝে ফেলে দিতে পারে সেটা আমরা চিন্তা করি না। সেদিন এমন এক মানুষের গল্প শুনলাম, তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের সময়কাল প্রায় সতের বছর, বুঝতেই পারছেন এই সময়ের মাঝে তারা একে অপরের কতটা কাছে গিয়েছে, কতটা বিশ্বাস অর্জন করেছে এবং কতটা নির্ভরশীল হয়েছে।
কিন্তু আজ কোন কারণে তারা সেটা উপলব্ধি করছে তাদের এই নির্ভরশীলতা বেশী হয়ে গেছে, তাদের এই আপন ভাবাটা কাল হয়ে গিয়েছে, তার চরম ভুল করেছেন। কারণ আজ তারা সয়ংসম্পূর্ণ নয় তারা একে অন্যের উপর নিদারুণভাবে নির্ভরশীল, একজন আরেকজন ছাড়া সম্পূর্ণ কাজ করতে অপারগ। আর এই অপারগতা তাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে, তারা একা একা কিছু করতে পারছে না। সামাজিক এবং মানসিকভাবে বিষণভাবে তারা আজ হতাশাগ্রস্থ। বিষয়টি কিন্তু সাধারণ কোন ইস্যু নয় চিন্তা করার সুযোগ রাখে।
সুতরাং যত যাই হোক না কেন? কেউ আমার যতই আপন হয়ে যাক না কেন? কাজের ক্ষেত্রে কিংবা প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কেউ আমার যতই উপকার সাধন করুক না কেন? সেখানেও একটা সীমা রেখা থাকা উচিত, নির্ভরশীলতার একটা পর্যায় থাকা উচিত, বিশ্বস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একটা সমীকরণ থাকা উচিত, তাতে কোন কিছুতেই আমাদের মাঝে অতিনির্ভরশীলতা তৈরী না হয়, যাতে একটা দীর্ঘ সময়ের পর আমাদের মাঝে হতাশা আসার সুযোগ না পায়। সম্পর্ক অবশ্যই ভালো কিন্তু যদি সেটা অতি নির্ভরশীলতা তৈরী করে তাহলে সেটা নিশ্চিতভাবে ভালো নয়।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||




>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness

OR




