পুরনো স্মৃতি || জিলাপির স্বাদ
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। শীতের প্রকৃতির সুন্দর অনুভূতি নিয়ে আরো বেশী চঞ্চল হওয়ার চেষ্টা করছি। যেহেতু শীতকাল আমার প্রিয় সিজন সেহেতই এই সিজনে হৃদয়টা একটু বেশী চঞ্চল হয়ে থাকে। আর প্রকৃতির সৌন্দর্য হয়ে থাকে বাড়তি পাওয়া। শীতকালের প্রিয় খাবারগুলোর কথা নাইবা বললাম আজ। সময়ের সাথে যদিও অনেক কিছু বদলে গেছে, প্রকৃতির সেই সৌন্দর্যের সাথে সামাজিক রীতিনীতির গুলোর মাঝেও পরিবর্তন এসেছে।
আমাদের সময়ে শীতকাল মানেই ভিন্ন একটা আমেজ ছিলো, প্রকৃতির সাথে সাথে সব কিছুতে দারুণ একটা উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরী হতো। আনন্দময় পরিবেশ তৈরী হওয়ার অবশ্য অনেকগুলো কারণ ছিলো, তার মাঝে অন্যতম একটা ছিলো আকাশ সংস্কৃতির অনুপস্থিতি। তার সাথে ছিলো না ডিজিটাল এতো ডিভাইস কিংবা প্রযুক্তি। যা বর্তমান প্রজন্মকে আটকে রাখছে চার দেয়ালের মাঝে। অনেকটা বন্দিত্ব জীবন হয়ে গেছে তাদের, বাহিরে দুনিয়ার সাথে নেই কোন সেতু বন্ধন।
অথচ আমরা ছিলাম সম্পূর্ণ স্বাধীন, অনেকটা সেই আকাশে থাকা পাখির মতো। বাহিরের দুনিয়ার সাথে আমাদের সখ্যতা ছিলো একটু বেশী। তবে আজকে সব কিছুর ব্যাখ্যা নয় বরং একটা স্বাদের খাবারের প্রসঙ্গ টানার চেষ্টা করছি। সত্যি বলতে শীতকাল আসলেই আমাদের সমাজের নানা জায়গায় মেলার আয়োজন হতো, নানা বর্ণের মানুষের উপস্থিতি আর খাবারের আয়োজনগুলো ছিলো সবচেয়ে বেশী আকর্ষণীয়। খুব বেশী দামের খাবার ছিলো না সেগুলো, সমাজের সবাই বেশ উৎসাহ নিয়ে উপভোগ করতে পারতো।
বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রিয় খাবারগুলোর উপস্থিতি থাকতো সবচেয়ে বেশী, নানা আয়োজনের সাথে এমন জনপ্রিয় খাবারগুলোর উপস্থিতি মানুষকে দারুণভাবে আগ্রহী করে তুলতো। আমার স্পষ্ট মনে আছে, জনপ্রিয় মেলাগুলোর কথা মনে করে টাকা জমাতাম, তারপর সেখানে গিয়ে দারুণভাবে উপভোগ করতাম। আর আমার পছন্দের মাঝে অন্যতম জনপ্রিয় আইটেম ছিলো গরম গরম জিলাপি। দুই রকমের জিলাপি পাওয়া যেতো তখন, অবশ্য গুড় দিয়ে তৈরী করা জিলাপির কদর বেশী ছিলো তখন।
হ্যা, জিলাপি এখনো পাওয়া যায়, তবে সেই আনন্দ আর স্বাদটা পাওয়া যায় না। সেই উৎসবমুখর পরিবেশ কিংবা মানুষের উপস্থিতি, হৈ হুল্লোর আর একদম গরম গরম ভাজা জিলাপির আনন্দটা হারিয়ে গেছে। আমাদের সমাজের অনেক কিছুই হয়তো হারিয়ে গেছে, অনেক কিছু হয়তো মানুষ ভুলেও গেছে। কিন্তু মেলার আয়োজন, গরম গরম জিলাপির স্বাদ সেগুলো হয়তো আমরা কখনো ভুলতে পারবো না, সেই আনন্দময় মুহুর্তগুলো থেকে যাবে স্মৃতির পাতায়।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR