আমার কবিতার খাতা থেকে:মানুষ।।১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হ্যালো বন্ধুরা,
আজকে আমি একটা কবিতা লেখার চেষ্টা করছি।আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে।
ঘূর্ণিঝড়ের আবর্তে
প্রথমে হারিয়ে যায় দিক—
পূর্ব-পশ্চিম নয়,
কোন পথে গেলে ঘর পাওয়া যাবে
মানুষ সেটুকুও ভুলে যায়।
রেডিওর সতর্কবার্তা শেষ হতে না হতেই
মা চালের হাঁড়ি নামিয়ে রাখেন,
বাবা দলিলগুলো প্লাস্টিকে মুড়ে
বুকের কাছে ধরেন—
যেন জমির কাগজটুকু বাঁচলে
ভিটেও বেঁচে থাকবে।
তারপর বাতাস আসে—
কোনো ভাষা ছাড়া, কোনো ক্ষমা ছাড়া;
টিনের চাল, নারকেলগাছ, বৈদ্যুতিক তার
সবকিছুকে একই উচ্চারণে
মাটির দিকে নামিয়ে আনে।
আশ্রয়কেন্দ্রের ভিড়ে
একটি শিশু ঘুমিয়ে পড়ে
অচেনা নারীর কোলে;
দুর্যোগের রাতে সম্পর্কের পরিচয় লাগে না,
একটি উষ্ণ শরীরই
সাময়িক পৃথিবী হয়ে ওঠে।
ভোর হলে দেখা যায়—
মানচিত্রে গ্রামটি এখনও আছে,
অথচ রাস্তা নেই, পুকুরে লবণ,
ধানখেতে নৌকা
আর ঘরের জায়গায় খোলা আকাশ।
সংবাদে সংখ্যাগুলো বাড়ে—
ক্ষয়ক্ষতি, মৃত, নিখোঁজ, বাস্তুচ্যুত;
কিন্তু কোনো পরিসংখ্যান জানে না
একটি ভাঙা আলমারির ভেতর
কত বছরের উৎসব চাপা পড়েছিল।
যারা দূরে বসে ঝড়ের নাম রাখে,
তারা কি কখনো শোনে
নামহীন মানুষের কান্না?
সমুদ্র প্রতিবার একটু কাছে আসে,
আর আমরা তাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে
নিজেদের দায় থেকে দূরে রাখি।
তবু জল নামলে মানুষ ফিরে আসে—
কাদা সরায়, ভাঙা বাঁশ তোলে,
ভেজা বীজ রোদে দেয়;
কারণ বেঁচে থাকা এখানে আশা নয়,
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শেখা
একটি কঠিন অভ্যাস।
ঘূর্ণিঝড়ের আবর্তে
সবকিছু কেন্দ্রের দিকে টেনে নেয় বাতাস,
কেবল মানুষ—
ভাঙতে ভাঙতেও
পরস্পরের দিকে এগিয়ে যায়।
VOTE @bangla.witness as witness

OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


Beauty of Creativity. Beauty in your mind.
Take it out and let it go.
Creativity and Hard working. Discord




