গতকালের লেখায় উপরিউক্ত রান্নাটির উল্লেখ করেছিলাম, কিন্তু কিভাবে আমি এই ভর্তা তৈরি করেছি, সেটার বিস্তারিত পদ্ধতি নিয়ে হাজির হয়েছি আজকের লেখায়।
পদ্ধতিটি খুবই সাধারণ, তবে খেতে সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর এটুকু বলা যেতেই পারে, স্বাদের ক্ষেত্রে আমার ভালো লেগেছে তাই রেসিপি উল্লেখ করছি।
যেহেতু ভারতের মুল খাবার ভাত, তাই এই খাবারটি ভাতের সাথে বেশ ভালো যায়, তবে আমি যেহেতু রুটি কিংবা চিলার সাথে খেয়ে দেখিনি, তাই এক্ষুনি পুরোপুরি সিদ্ধান্তে আসা সঠিক হবে না বোধহয়!
অধিক সময় নস্ট না করে, সরাসরি রান্নার পদ্ধতি জানতে লেখার মাধ্যমে আমার রান্নাঘরে ঢুকে পড়ুন!
কাঁকরোল | ৫ টি (আপনারা নিজেদের পরিবারের সদস্য অনুযায়ী কমবেশি করে নেবেন) |
রসুন | ১টি (ছাড়িয়ে কোয়া বের করে নিয়েছি) |
পেঁয়াজ | ১টি (কুচানো) |
কাঁচা লঙ্কা | ৫-৬ টি(এখানেও কাঁকরোল এর পরিমাণ আর নিজেদের পছন্দমতো ঝালের প্রয়োগ করবেন) |
নারকেল | ১২-১৫ ছোট টুকরো |
কালো জিরে | ১/৪ চা চামচ (ফোরণের জন্য) |
ধনেপাতা | ১টেবিল চামচ কুচানো |
| সরষের তেল | ২টেবিল চামচ |
| হলুদ গুঁড়ো | ১/৪ চা চামচ |
| নুন | স্বাদ অনুযায়ী |
তৈরির পদ্ধতি:-
প্রথমে,
সমস্ত কাঁকরোল ধুয়ে একটি কড়াইতে জল এবং সামান্য নুন দিয়ে, মাঝখান থেকে সমস্ত কাঁকরোল ফালি করে, সেদ্ধ করে নিতে হবে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।
দ্বিতীয় পর্যায়ে,
সেদ্ধ করা কাঁকরোল থেকে বাড়তি জল ফেলে দিয়ে একটি পাত্রে কাঁকরোল গুলোকে ঠান্ডা হতে দিতে হবে।
এবার, তৃতীয় পর্যায়ে,
মাঝারি আঁচে কড়াই বসিয়ে তারমধ্যে, এক্ টেবিল চামচ সরষের তেল দিয়ে, ধোঁয়া ওঠা গরম হতে দিতে হবে।
এরপর, একে একে রসুন, কাঁচালঙ্কা, আর পেঁয়াজ সোনালী না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে।
হয়ে গেলে, একটি পাত্রে নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দিতে হবে।
চতুর্থ ধাপে,
সমস্ত উপকরণ ঠান্ডা হতে গেলে, একটি মিক্সি জারে প্রথমে টুকরো করে রাখা নারকোল, এরপর সেদ্ধ করা কাঁকরোল, আর ভেজে রাখা, রসুন, পেঁয়াজ আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে মিহি পেস্ট করে নিতে হবে।
পঞ্চম পর্যায়ে,
পুনরায় কড়াই মাঝারি আঁচে বসিয়ে অবশিষ্ট সরষের তেল দিয়ে দিতে হবে।
তেল গরম হলে, প্রথমে ফোরনের জন্য কালোজিরে দিয়ে দিতে হবে। এরপর কাঁকরোল এর পেস্ট দিয়ে দিতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপে,
মিনিট পাঁচেক ভালো করে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে নিয়ে, দিতে দেবেন হলুদ, এরপর নুন, আর চিনি চাইলে দিতে পারেন, তবে সেটি অপশনাল!
এখানে জানিয়ে রাখি, যেহেতু কাঁকরোল সেদ্ধ করবার সময় নুন ব্যবহার করা হয়েছিল, তাই প্রতিবার সামান্য মিশ্রণ মুখে দিয়ে তবেই নুন ব্যবহার করবেন।
সপ্তম পর্যায়ে,
এবার মিশ্রণটি ততক্ষণ ভাজতে হবে, যতক্ষণ কড়াই এর গা থেকে ছেড়ে না আসছে। সুবিধার জন্য ছবির পাশাপশি ভিডিও দিলাম। নামানোর সামান্য আগে কুচিয়ে রাখা ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।
এবার গরম ভাতে, এই কাঁকরোল বাটা কিংবা ভর্তা যাই বলুন নিয়ে তারমধ্যে সামান্য কাঁচা সরষের তেল সহযোগে খেয়ে দেখবেন, বেশ জমে যাবে ব্যাপারটা!
পরিশেষে, জানিয়ে রাখি, যদি বাড়িতে চিংড়ি মাছ থাকে, তাহলে পেঁয়াজ ভাজার সময় দিয়ে দেবেন, এতে স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এটা ছিল বাড়তি রান্নার টিপস্ আজকের জন্য।
আমি রান্নার শেষে নারকেল কোরা দিয়ে ডেকোরেশন করেছি, যেমনটি ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, তাই চিনি ব্যবহার করিনি, নারকেলটা মিষ্টি ছিল যথেষ্ট।
এখানে আপনারা, আপনাদের মত করে সাজিয়ে পরিবেশন করতেই পারেন।
তাহলে, আজকের জন্য এখানেই বিদায় নিলাম, আবার হয়তো অন্যদিন হাজির হয়ে যাবো, অন্য কোনো রেসিপি নিয়ে।
ততক্ষণ পর্যন্ত, একবার এই রান্নাটি তৈরি করে, মন্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের উপলব্ধি জানাতে ভুলবেন না, কেমন!
এত সুন্দর রেসিপি এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি যেকোনো ধরনের সবজির ভর্তা খেতে ভালোবাসি। আমি আগেও কাকরোল ভর্তা খেয়েছি, তবে একটু অন্যভাবে। আমি কাকরোল সেদ্ধ করে তার সাথে পেঁয়াজ, ভাজা শুকনো লঙ্কা, নুন আর সামান্য সর্ষের তেল মিশিয়ে পুরটা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু আপনার রেসিপিটা খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেখতে লোভনীয় এবং খেতেও সুস্বাদু মনে হচ্ছে। আমি পরেরবার অবশ্যই এই কাকরোল ভর্তাটা বানানোর চেষ্টা করব।
#s34engagement
Wonderful and detailed recipe! I really enjoyed reading the step-by-step process of making this unique kankrol bhorta. The combination of garlic, green chilies, onion, coconut, and mustard oil sounds absolutely delicious.I also loved the extra tip about adding shrimp to make the flavor even richer. The final presentation with grated coconut looks beautiful and appetizing. 🍽️
Thank you for sharing this traditional and healthy recipe with such clear instructions and beautiful photographs. I would definitely love to try it with hot rice!