"সিকিম ট্যুরের সব থেকে সুন্দর সন্ধ্যা কাটিয়েছিলাম ঋষি নদীর পাড়ে"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
অনেকদিন বাদে আজ আবার আপনাদের সাথে সিকিম ভ্রমণের আরো একটি পর্ব শেয়ার করতে এলাম। একেবারে শেষ যে পোস্ট শেয়ার করেছিলাম "ঋষি খোলায় পৌঁছে হোমস্টেতে যাওয়া এবং সেখানে দুপুরের লাঞ্চ শেষ করা পর্যন্ত সমস্ত মুহূর্ত তুলে ধরেছিলাম।"
আজ তারপর থেকে কাটানো কিছু মুহূর্ত শেয়ার করতে চলেছি। আপনাদের আগেই বলেছিলাম ছোট্ট একটা নদীর উপর তৈরি করা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আমরা আমাদের হোমস্টেতে পৌঁছে ছিলাম। যে নদীটি আমরা পার হয়েছিলাম, সেই নদীটির নাম ছিলো "ঋষি নদী"।
![]()
|
|---|
স্থানীয় ভাষায় 'খোলা' শব্দের অর্থ হলো "ছোটো নদী বা পাহাড়ি স্রোত।" এই অঞ্চলে প্রবাহিত এই ঋষি নদীর নাম থেকেই মূলত এই জায়গাটির নাম হয়েছে 'ঋষিখোলা'। বর্তমানে মূলত কালিম্পং জেলার অন্তর্গত একটি জনপ্রিয় অফবিট ডেস্টিনেশন হলো এই ঋষিখোলা। যার চারপাশ সবুজ ঘন বন ও উঁচু পাহাড়ে ঘেরা।
![]()
|
|---|
এই খরস্রোতা ঋষি নদীটি দুটি ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমকে বিভক্ত করেছে। তার পাশাপাশি তৈরি করেছে সুন্দর প্রাকৃতিক বন্ধনও। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২,০০০ ফুট। উচ্চতা খুব বেশি না হওয়ায়, এখানে ঠান্ডা তেমন থাকে না। বরং বেশ মনোরম আবহাওয়া থাকে।
এই ঋষি নদীটি নুড়ি পাথরে ঘেরা, মাঝখানে জলের ধারা বয়ে চলে। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে এই নদীর একটানা বয়ে চলার মিষ্টি শব্দই এখানকার প্রধান আকর্ষণ। যে শব্দ শুনে কাটিয়ে দিয়েছিলাম সেদিন সারাটা সন্ধ্যে। এমনকি রাতের দিকেও আমাদের রুমের বাইরে বসে অনেকক্ষণ ধরে সেই শব্দ উপভোগ করেছিলাম আমরা।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা কেউ আর রুমে যাইনি। পিয়ালীর হাসবেন্ড এবং রাখির দাদা দুজন রুমে গিয়ে আমাদের মোবাইল নিয়ে এসেছিলো। কারণ সেটা চার্জে বসিয়ে আমরা লাঞ্চ করতে গিয়েছিলাম, সে কথা আগের পোস্টেই উল্লেখ করেছিলাম। তবে সেই সুন্দর বিকেল ও সন্ধ্যাটাকে ক্যামেরা বন্দি করার জন্য ফোনটা প্রয়োজন ছিলো। তাই দাদারা গিয়েই নিয়ে এসেছিলো।
অনেকটা সময় নদীর পাড়ে বসে সময় কাটিয়েছি আমরা। নদীর বয়ে চলার শব্দ মুগ্ধ করেছে আমাদের। নিরিবিরি পরিবেশে তখন যদি কেউ নাও থাকতো, তবুও যেন মুহূর্তগুলো অনেক উপভোগ্য হতো। সত্যি কথা বলতে এমন একটা পরিবেশে এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করার ইচ্ছা ছিলো বহুদিনের। কিন্তু সেটা যে এমনভাবে পূর্ণ হয়ে যাবে সেটা সত্যিই ভাবিনি।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
বয়ে চলা নদীর জলে পা ভিজিয়ে বসে ছিলাম অনেকক্ষণ। জলটা তুলনামূলক বেশ ঠান্ডা। তবে ঠান্ডাটাও যেন অনেক বেশি উপভোগ্য লাগছিলো। সেই মুহূর্তে নদীর পাশে পাথরের উপরে বসে মোবাইলে গান চালালাম। পিয়ালী, রাখি, রূপরেখা এরা প্রত্যেকেই একটু দূরে গিয়ে ছবি ভিডিও সবকিছু তুলছিলো। আমার যেন আর কোথাও যেতে ইচ্ছা করছিলো না।
![]()
|
|---|
একটা পাথরের উপরে বসে নিজের প্রিয় গান শোনার ওই সুন্দর মুহূর্ত গুলো মনকে যে অদ্ভুত প্রশান্তি দিয়েছিলো, তা আপনাদের সাথে এই মুহূর্তে বসে শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। অনেক ডাকাডাকির পর আমি উঠলাম এবং গিয়ে ওদের সাথেও কয়েকটা ছবি তুললাম।
কারণ এই মুহূর্তগুলো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন। জীবনে এমন মুহূর্ত আর ভবিষ্যতে আসবে কিনা জানিনা। আসলেও আমরা প্রত্যেকে একসাথে থাকতে পারবো কিনা জানিনা। তাই বোধহয় এগুলো এতো বেশি মূল্যবান মনে হচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
একটু বাদেই হোমস্টে থেকে আমাদের ডাকলো চায়ের জন্য। কারণ সন্ধ্যাকালীন চা ও পকোড়া হোমস্টে থেকেই দেওয়া হবে বলেছিলো। হঠাৎ করেই সকলের মাথায় এলো আমরা যদি চা ঋষি নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করতে পারি, তাহলে কেমন হয়?
তবে যেহেতু হোমস্টে থেকে খানিকটা দূরেই আমরা বসেছিলাম, তাই আদেও এটা আমাদের করতে দেবে কিনা আমরা জানতাম না।
|
|---|
সেই কারণেই পিয়ালের হাসবেন্ড গিয়ে হোমস্টের দাদাদের সাথে কথা বলবে বলে ঠিক করলো। যদি ওনরা রাজি হন, তাহলে আমরা সকলে মিলে সন্ধ্যার চা এই ঋষি নদীর পাড়ে বসেই উপভোগ করবো। আর যদি একান্তই রাজি না হন, তাহলে যেখানে লাঞ্চ করেছিলাম সেখানে বসে, পাহাড়ি নদীর শব্দ শুনতে শুনতে পান করবো এমনটাই ঠিক হয়েছিলো।
যাইহোক শেষ পর্যন্ত আমাদের ইচ্ছে পূরণ হয়েছিলো কিনা? আমরা সন্ধ্যার তা কোথায় বসে উপভোগ করলাম? নিশ্চয়ই আপনাদেরও জানতে ইচ্ছে করছে। অবশ্যই আপনাদের সাথে সেই মুহূর্তগুলো শেয়ার করবো। তবে পরবর্তী পোস্টে।
আপাতত ঋষি নদীর পাড়ে কাটানো আমাদের সুন্দর এক সোনালী বিকেলের গল্প আপনাদের কেমন লাগলো, তা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
আপনাদের সাথে আজ লেখা শেয়ার করতে করতে, আর ছবিগুলো আরও একবার দেখতে দেখতে, মনটা যেন পৌঁছে গিয়েছে ওই ঋষি নদীর পাড়ে। দূর থেকে যেন কানে ভেসে আসছে, খরস্রোতা নদীর বয়ে চলার সেই মৃদুমন্দ শব্দ।
ভালো থাকবেন সকলে।শুভরাত্রি।












This was such a beautiful and peaceful travel story. While reading it, I could almost imagine myself sitting beside the Rishi River, listening to the soothing sound of the flowing water. Sitting on the rocks, dipping your feet into the cool water, and listening to your favorite songs sounds like a truly unforgettable experience.
I especially loved how you captured not only the beauty of Rishikhola but also the precious moments spent together with friends. These are the memories that become more valuable with time. And now I’m curious to know whether you finally enjoyed your evening tea and snacks beside the river! Looking forward to the next part. Beautifully written!
Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.