"গতকাল পবিত্রারোপনী একাদশীর দিনের কিছু মুহূর্ত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
গতকাল পবিত্রারোপনী একাদশী ছিলো। এটি বাংলা শ্রাবণ শুক্ল পক্ষের একাদশী। অন্যান্য দিনের তুলনায় একাদশীর দিনগুলো একটু অন্যরকম ভাবেই কাটে। তাই আজ একাদশীর দিনের সকল কার্যক্রম আপনাদের সাথে এই পোস্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চলেছি।
যদিও আমাদের বাড়িতে আমি একাদশী ব্রতের উপবাস শুরু করেছিলাম। তবে শ্বশুরমশাই মারা যাওয়ার পর থেকে শুভও একাদশীর ব্রত পালন করছে। আগামী এক বছর এটি পালন করা নিয়মের মধ্যে পড়ে। অবশ্য শ্বশুরমশায়ের বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষ হলে, ও এটা ধারাবাহিকভাবে পালন করবে কিনা, সেটা ওর একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
![]()
|
|---|
শাশুড়ি মাও একাদশী পালন করতেন। তবে ওনার পক্ষে প্রতিটি একাদশী ব্রত পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে, উনি বন্ধ করে দিয়েছেন। যাইহোক অন্যান্য একাদশীর দিন তবুও কিছু রান্নাবান্না করার দরকার পরে, যেহেতু শাশুড়ি মা বাড়িতে থাকেন। তবে এই একাদশীতে যেহেতু আমি আর শুভ বাড়িতে ছিলাম এবং আমাদের দুজনেরই একাদশী ছিলো। তাই আলাদা করে এদিন আর রান্নার কোনো ঝামেলা ছিলো না।
সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে প্রথমে চলে গিয়েছিলাম ঠাকুরের শয়ন তুলতে। শুভ অফিস না থাকলে হয়তো একেবারে ঠাকুর ঘরের সমস্ত কাজ গুছিয়ে পুজো সেরে নিতাম। তবে যেহেতু ওর অফিস ছিলো, তাই দুপুরের খাবারের জন্য ওকে কিছু কিছু জিনিস আলাদা ভাবে গুছিয়ে দিতেই হয়।
![]()
|
|---|
একাদশীর দিন অফিসের জন্য রান্নাবান্না থাকে না ঠিকই, তবে এদিন বাদ বাকি জিনিসগুলো গোছাতে যেন আরও অনেক বেশি সময় লাগে বলে আমার মনে হয়। যাইহোক আবহাওয়া বেশ ভালোই ছিলো। তাই ঠাকুর পুজোর ফুল তুলে, বাসন মেজে, ঘর মুছে একেবারে নিচে নেমেছিলাম।
প্রথমে প্রেসার কুকারে একটা আলু সেদ্ধ বসিয়ে দিয়েছিলাম। একাদশীর দিনে অনেক কিছুই খাওয়া যায় না। তাই সেই সব দিকে খেয়াল রেখে তবেই ওর টিফিন গুছিয়ে দিতে হয়। অফিসে বেরোনোর সময় ও ছোলার ছাতু খেয়ে যায়। তাই ছাতুটা আগে থেকেই গুলে রেখে, বাকি টিফিন গুলো গুছিয়ে দিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
অফিসের জন্য ওকে আলু সেদ্ধ করে, সেগুলোকে টুকরো করে কেটে, সৈন্ধব লবণ দিয়ে, একটা বাটিতে দিয়ে দিয়েছিলাম। অন্য আরেকটা বাটিতে শসা কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি, আর এক টুকরো লেবু দিয়েছিলাম। একসাথে মেখে দিলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই এইভাবে আলাদা আলাদাই গুছিয়ে দিই।
![]()
|
|---|
ফলের মধ্যে কয়েক টুকরো আপেল, কয়েক টুকরো পেয়ারা, বেশ কয়েকটি খেজুর এবং আমন্ড ধুয়ে একটা টিফিন বক্সে দিয়ে দিয়েছিলাম। বাজার থেকে শুভ কলাও কিনে এনেছিলো, তবে অফিসে কলা নিয়ে যেতে চায় না। ব্যাগের মধ্যে অন্যান্য জিনিসের চাপে কলা নষ্ট হয়ে যায়।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক ওর সমস্ত টিফিন গুছিয়ে দেওয়ার পর ও অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর, আমি নিচের ঘরের সমস্ত কাজ সেরে, সবার প্রথমে স্নান করলাম। তারপর ঠাকুর পূজো দিলাম। পুজোর সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরে, আমি পবিত্রারোপনী একাদশীর ব্রত কথা পড়লাম। আর সব শেষে একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ করে পুজো সম্পন্ন করলাম।
একাদশীর দিনে ঠাকুরকে যে ফল দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, দুপুরে আমি সেটাই খাই। আলাদা করে নিজের জন্য আর আলু সেদ্ধ তৈরি করি না। এরপর নিচে এসে বেশ কিছুক্ষণ ফোন দেখলাম। তারপর মামির সাথে অনেকক্ষণ কথা বললাম। বর্তমানে মামির চার বেলা ইনসুলিন নিতে হচ্ছে।
সুগার লেভেল কিছুতেই কমছে না। আর যদি সেটা না হয়, তাহলে অপারেশন করা সম্ভব নয়। যত টেস্ট করা হয়েছে, তিন মাসের মধ্যে অপারেশন করা না হলে এই সমস্ত টেস্ট আবার নতুন করে করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে মামি বেশ চিন্তিত, সাথে বিরক্তও বটে।
যাইহোক বিকেলের দিকে ভেবেছিলাম একটু ঘুমাবো। কিন্তু সেটা আর হয়নি। ফোন দেখতে দেখতে সময় কেটে গেছে। তাই ভাবলাম নিজের পোস্ট লেখার কাজটাও কিছুটা এগিয়ে রাখি। সন্ধ্যা হতেই সন্ধ্যা পুজো দিয়ে এলাম। শুভ অফিস থেকে ফিরে এসে দুটো কলা খেলো।
![]()
|
|---|
একাদশীর দিন অফিস থেকে ফিরলে ক্লান্ত বোধ করে যেটা খুব স্বাভাবিক। রাতের দিকে খাওয়াতে খুব বেশি দেরি করিনি। সাড়ে আটটার দিকে আলু সেদ্ধ করে, শসা কেটে, দুজনের জন্য খাবার তৈরি করে খাওয়া দাওয়া সম্পন্ন করে নিয়েছিলাম।
রান্না করিনি বলে যেন মনে হয়েছে সারাদিনে কোনৈ কাজই করা হয়নি। গৃহবধূদের এই এক সমস্যা। প্রতিদিন রান্না করতে মাঝে মধ্যে বিরক্ত লাগে। আর কোনো একদিন রান্না না করলে, যেন মনে হয় কোনো কাজই করা হয়নি।
যাইহোক একেবারে অন্যরকম ভাবেই গতকালকের দিনটা কেটেছে। তারই কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করলাম। কেমন লাগলো আপনাদের সকলের আজকের লেখা পড়ে, তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
সকলে ভালো থাকুন। আপনাদের আজকের দিনটি নিশ্চয়ই খুব ভালো কেটেছে। আর আগামী প্রত্যেকটা দিনও যেন এমনই ভালো কাটে এই প্রার্থনা রইলো।
শুভরাত্রি।











