"ঋষিখোলায় সান্ধ্যকালীন চা পানের মুহূর্তটাও যে এতোটা সুন্দর হবে, সত্যিই কল্পনা করিনি"

in Incredible India • last month
IMG_20260512_182211.jpg
"এমন একটা মুহূর্ত কখনো কাটাতে পারবো, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিলো। "

Hello,

Everyone,

আমার গতকালকের পোস্ট আপনারা কতজন পড়েছেন জানিনা। তবে যারা পড়েছেন তারা প্রত্যেকেই জানেন, গতকাল পাহাড়ে কাটানো এক সুন্দর সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। আজ শেয়ার করবো সেই সুন্দর সন্ধ্যায়, ঋষি নদীর পাড়ে একটা বড় পাথরের উপর বসে চা খাওয়ার অভিজ্ঞতা।

বহু বাঙালির কাছে চা পান করা খানিকটা নেশার মতো। সকালে হোক কিংবা সন্ধ্যায়, অনেকেই চা খেতে অভ্যস্ত। আজকাল স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে অনেকেই চিনি ছাড়া চা খেয়ে থাকেন।

তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি আমি আমাদের কথা বলি, তাহলে আমরা যে কজন সিকিমে ঘুরতে গিয়েছিলাম, কারোরই তেমন চায়ের নেশা নেই। তবে পাহাড়ে গিয়ে চা খাওয়ার এক অন্যরকম আমেজ আছে, এটা একেবারেই সত্যি কথা।

IMG_20260512_182120.jpg
"গরম গরম পেঁয়াজের পাকোড়া, যার স্বাদ অসাধারণ ছিলো"

পাহাড়ের হোটেল বা হোমস্টে থেকে যে চা দেওয়া হয় তার স্বাদ যেন একটু অন্যরকমই হয়। হয়তো সেখানকার পরিবেশের কারণেই চা পান করাটা অনেকটা উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তবে ঋষিখোলাতে যে চা পান করার মুহূর্ত এতোটা সুন্দর হবে, তা আমরা কেউই আশা করিনি।

গতকালকের পোস্টেই জানিয়েছিলাম, সকলের ভীষণ ইচ্ছে হচ্ছিলো সন্ধ্যাকালীন চা আমরা ঋষি নদীর পাড়ে বসেই উপভোগ করি। তবে সেটা সম্ভব হবে কিনা এটা জানার জন্য পিয়ালীর হাসবেন্ড হোমস্টেড দাদাদের কাছে গিয়েছিলো।

আর সবথেকে আনন্দের মুহূর্ত ছিলো তখন, যখন দাদা ফোন করে আমাদেরকে বলেছিল ওরা পারমিশন দিয়েছে এবং আমাদের মধ্যে থেকে একজন যেন গিয়ে দাদার সাথে সাথে চা, চায়ের কাপ এবং পকোড়া গুলো নিয়ে আসি।

IMG_20260827_230208.jpg
"এইরকম একটা ফ্লাক্সেই চা দিয়েছিল হোমস্টে থেকে, যাতে সহজেই নদীর পাড় পর্যন্ত নিয়ে আসা যায়।"

ফোনটা পাওয়ার সাথে সাথে সকলে একেবারে চিৎকার করে উঠেছিলাম আনন্দে। যাইহোক আমাদের কাউকে যেতে হয়নি। রাখির দাদা গিয়েছিলো। দুই দাদা মিলে একসাথে ফ্লাক্সে করে চা, আমাদের ছয়জনের জন্য ছটা কাপ, আর একটা টমেটো সস দিয়ে সার্ভ করা প্লেটে পেঁয়াজের পাকোড়া নিয়ে এসেছিলো।

একেবারে গরম গরম ভাজা হয়েছিলো পিঁয়াজি গুলো, যার স্বাদ অসাধারন ছিলো। আর তার সাথে সেখানকার লিকার চায়ের সুগন্ধ যেন এখনো পর্যন্ত পাচ্ছি। যেহেতু আমাদের হোমস্টেটা নদী থেকে একটু দূরে ছিলো। তাই কাপে করে চা আনা সম্ভব ছিলো না। কারণ উঁচু-নিচু পাথর পেরিয়ে নদীর কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে হতো। তাই দাদারা হোমস্টে থেকেই ফ্লাক্সে চা দিয়ে দিয়েছিলো। তাই চা ও গরম ছিলো ।

নদীর পাড়ে স্নিগ্ধ ও শান্ত পরিবেশে, বয়ে চলা নদীর শব্দের মাঝে, ধোঁয়া ওঠা চা আর গরম পেঁয়াজের পকোড়ার সেই স্বাদ, বোধহয় এই জীবনে আর দ্বিতীয়বার উপভোগ করার সুযোগ হবে না।‌ খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে ছবি তুলে নিয়েছিলাম। যেখানে নদী, পকোড়া, চায়ের কাপ, সমস্ত কিছুর স্মৃতি যাতে ক্যামেরা বন্দী করা থাকে, সেই চেষ্টাই চলছিলো।

IMG_20260827_230146.jpg
"পিয়ালির হাজব্যান্ড আমাদের সকলের জন্য ফ্লাক্স থেকে কাপে চা ঢালছিলো।"
IMG_20260827_230235.jpg
"গরম চা ও গরম পেঁয়াজের পাকোড়া"
IMG_20260827_230126.jpg
"অবিশ্বাস্য সেই মুহূর্ত, যেখানে ঋষি নদীর পাড়ে বসে আমরা সকলে একসাথে গরম চায়ের সাথে পকোড়া উপভোগ করছিলাম।"

এর মাঝেই পিয়ালির হাসবেন্ড সকলের জন্য ফ্লাক্স থেকে চা ঢেলে দিয়েছিলো। কিছুক্ষণ ফটোগ্রাফি করার পর আমরা সকলেই চা পান করলাম। সাথে পকোরাও। আর সেই মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করতেও ভুল করিনি। কারন সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য শুধু লেখাই যথেষ্ট নয়। মুহূর্তগুলো যদি ছবির মাধ্যমে না তুলে ধরি, বোধহয় আপনারা ততটাও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারতেন না।

যদিও সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত থেকে আমাদের কেমন অনুভূতি হয়েছিলো, তা উপলব্ধি করা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব নয়। কিন্তু তবুও একটু প্রচেষ্টা আপনাদের সেই মুহূর্তের সাক্ষী করে তোলার। ততক্ষণে হোমস্টের আলো গুলো জ্বলে গিয়েছিলো। কিন্তু নদীর পাড়ের হালকা আলো সেই মুহূর্তেও যেন আমাদের ঘরে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছিলো না।

IMG_20260827_230035.jpg
চা পানের সময় দেখছিলাম চারিদিকে সন্ধান আনছে দূরে লাইট জ্বলতে শুরু করেছে
IMG_20260827_195916.jpg
"উপরে যে দুটো রুমের লাইট জ্বলছিলো, ওই রুম দুটো ছিলো আমাদের ঋষি খোলায় রাত কাটানোর ঠিকানা।"

তাই চা পান করার পরেও কিছুক্ষণ বসে রইলাম সেখানেই। তবে অন্ধকার যখন ঘনিয়া আসছিলো, তখন হোমস্টে থেকে দাদারাই আমাদের রুমে ফিরতে বললেন। আর আমরাও ধীরে ধীরে সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিয়ে, অসম্ভব সুন্দর কিছু স্মৃতি মনের মধ্যে নিয়ে, হোমস্টের দিকে চলে এলাম।

যেহেতু আমাদের রুমগুলো অনেকটা উপরে ছিলো। তাই সকলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তারপর একেবারে রুমে যাবে। তাই আমরা সেখানেই বসে কিছুটা সময় কাটালাম। পাহাড়ি এলাকার খাওয়া-দাওয়া বেশ সকাল-সকালই হয়ে যায়। মোটামুটি সাড়ে আটটার মধ্যে আমাদের ডিনার দিয়ে দিয়েছিলো এবং আমরা ডিনার কমপ্লিট করে উপরে উঠে এসেছিলাম।

IMG_20260512_190956.jpg
"আমাদের রুমের সামনের বারান্দায় বসে দেখছিলাম, নিচে দুটো জায়গায় দুটো গ্রুপ বারবিকিউ করছে।"

তবে কারোরই ঘুম আসছিলো না। চারিদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসছিলো। জঙ্গলে ঘেরা এই হোমস্টেতে থাকতে শুরুতে একটু ভয় লাগলেও পরের দিকে বিষয়টা সম্পূর্ণ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। অনেকটা রাত পর্যন্ত বারান্দায় বসে আমরা ক্যাম্প ফায়ার দেখেছিলাম।

আসলে আমরা ছাড়াও এই হোমস্টেতে আরো অনেকেই ছিলো। তাদের মধ্যেই দুটো গ্রুপ বারবিকিউ বুক করেছিলো এবং তাদের সেই সমস্ত আয়োজন এই হোমস্টে থেকেই করে দেওয়া হয়েছিলো। চিকেন ম্যারিনেট করা থেকে শুরু করে, বারবিকিউর জন্য আগুন জ্বালা, সেখানে গানের ব্যবস্থা করে দেওয়া, সবটা হোমস্টের পক্ষ থেকে করে দেওয়া হয়।

আমাদেরকেও ওনরা জানিয়েছিলেন আমরা করতে ইচ্ছুক কিনা। তবে পরদিন আমাদের বাড়িতে ফেরার দিন ছিলো। তাই তাই সকলে মিলেই বারবিকিউ বুক না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো।

IMG_20260512_215343.jpg
"এই পোকাটা দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিলো। রুমের জালনার পর্দায় ওকে দেখেছিলাম।"
IMG_20260512_215248.jpg
"কিছুক্ষণ বাদে একটা ছোট্ট ব্যাঙ ও চোখে পড়েছিলো"

যাইহোক ঘরের বাইরে বসে কিছুক্ষণ আমরা সময় কাটালাম। তখন দুজনের দেখাও পেয়েছিলাম। আশাকরছি উপরের ছবি দেখে আপনারা বুঝতে পারছেন কাদের কথা বলছিলাম। আসলে চারিদিকেই জঙ্গল ছিলো। তাই এইরকম ছোটখাটো পোকামাকড় রুমের মধ্যে থাকবে এটা স্বাভাবিক।

তবে শোয়ার আগে আমরা লাইট জ্বেলে সবটা ভালোভাবে চেক করে, তারপর দরজা দিয়ে দিয়েছিলাম। রাতে সকলেরই খুব মনটা খারাপ হচ্ছিলো, কারণ পরদিন আমাদের বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে ভেবে।

সত্যি কথা বলতে ভালো সময় গুলো কিভাবে কেটে যায় সত্যিই বোঝা যায় না। তবে ঋষিখোলায় একটা দিন থেকে আমাদের কারোরই মন ভরে নি। তাই আমরা ওখানে থেকেই প্ল্যান করেছি, পরবর্তীতে কোনো একটা সময় এইরকমই কোনো একটা হোমস্টেতে গিয়ে দুটো দিন থাকবো।

IMG_20260512_182221.jpg
"অসাধারণ এই মুহূর্তটা শুধু ক্যামেরায় নয়, আমাদের সকলের মনের ভিতরেও বন্দী হয়ে আছে।"

যেখানে আমরা সারাদিন এই রকম নদীর পাড়ে বসে সময় কাটাবো, বারবিকিউ করবো, সেই সময় আর অন্য কোথাও ঘোরার কোনো প্ল্যান থাকবে না। শুধু শান্ত, স্নিগ্ধ, সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে দুটো দিন উপভোগ করবো সকলে মিলে।

জানিনা আসলে এরকম দিন কবে আসবে। তবে এটা সত্যিই যে, ঋষিখোলাতেও এরকম একটা দিন কাটাবো, এটাও কখনো কল্পনা করিনি। তাই সেটা যখন সম্ভব হয়েছে, তাই আশাকরি পরবর্তীতে এই ছোট্ট ইচ্ছেটাও আমাদের পূরণ হবে।

যাইহোক এই রকম পরিবেশে এমন সুন্দর একটা চা পানের মুহুর্তের অভিজ্ঞতা পড়ে, আপনাদের কেমন লাগলো তা কিন্তু মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।

প্রত্যেকে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  

TEAM 5

Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.

1000093592.png

Curated by : @ shahid76
Loading...