"ধীরে ধীরে আমরাও দায়িত্ব নিতে শিখছি:- প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনার অভিজ্ঞতা

in Incredible India3 days ago
IMG_20260918_214506.jpg
"গতকাল কেনা প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি"

Hello,

Everyone,

ছোটবেলা থেকে আমরা সকলেই দেখি আমাদের পরিবারের সকল দায়িত্ব আমাদের বাবা মায়েরা নিয়ে থাকেন। বেশিরভাগ পরিবারের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ঘরের সকল দায়িত্ব থাকে মায়ের উপর, আর বাইরের বেশিরভাগ দায়িত্ব পালন করে বাবা।

ব্যতিক্রমী পরিবার চোখে পড়ে না এমনটা নয়, আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় বাবা মায়েরা মিলিত ভাবেই সংসারের দায়িত্ব পালন করেন। বিয়ের পর থেকে আমাদের বাড়ির বাজার করার সমস্ত দায়িত্ব শশুর মশাইকেই নিতে দেখেছি।

তবে ব্যস্ততার কারণে কখনো কখনো শশুর মশাই যেতে না পারলে শাশুড়ি মাও যেতেন। লকডাউনের পর থেকে অবশ্য বাজারের সমস্ত দায়িত্ব শাশুড়ি মা নিয়েছেন। কারণ তখন থেকে শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়।

অন্যান্য পরিবারে অবশ্য দেখা যায় বাবার পরে ছেলেরাই এই সকল দায়িত্ব পালন করে। তবে এক্ষেত্রে শুভ একেবারেই ব্যতিক্রমী। চেষ্টা করলে পারতো না এমন নয়। তবে দেখেছি ওকে সেই চেষ্টাটাই করতে দেওয়া হয়নি কখনো। ফলতো ওর সেই অভ্যাস তৈরিই হয়নি।

IMG_20260919_224827.jpg
"সবজি বাজার থেকে কেনা দ্রব্য"

যাইহোক যেহেতু শাশুড়ি মা সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে নেন, তাই আলাদা করে শুভর এবং আমার এখনও কোনো দায়িত্ব নিতে হয় না। যদি মাঝেমধ্যে অল্প কিছু আনার প্রয়োজন হয়, তখন শুভকে বলে দেওয়া হয় কিংবা আমি বাইরে বেরোলে নিয়ে আসি।

তবে যদি সংসারের দায়িত্বের কথা বলতেই হয়, সেটা সম্পূর্ণ শাশুড়ি মায়ের উপর। গ্যাস রাখা থেকে শুরু করে, মাছ বাজার, সবজি বাজার, মুদিখানার বাজার, সবটাই তিনি নিজেই দায়িত্ব সহকারে করে থাকেন। পরিবারের কে কি খেতে ভালোবাসে, সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তিনি বাজার করেন। সত্যি কথা বলতে এটা একটা বড় দায়িত্ব, যেটা ধীরে ধীরে সকলের শেখা উচিত।

IMG_20260918_225508.jpg
"শুভ সব রকম সবজি খায় না। তাই বেছে বেছে এই কয়েক প্রকার সবজিই আনতে বলেছিলাম।"

যাইহোক আমার পুরনো লেখা পড়ে আপনারা নিশ্চয়ই জেনেছেন, অনেকদিন হলো শাশুড়ি মা বাড়িতে নেই। উনি যে বাজার করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটা তো সপ্তাহখানেক চললো। তারপর থেকে টুকটাক বাজার আমি আর শুভই করছি।

মাসিক মুদিখানার বাজার সবটাই শাশুড়ি মা মাসের শুরুতে করে রাখেন। তবে এই মাসের শুরুতে সেটা করা হয়নি। গত মাসের বেশ কিছু জিনিস বাড়তি আনা ছিলো বলে সমস্যা হয়নি।

IMG_20260918_214325.jpg

IMG_20260918_214431.jpg

IMG_20260918_214410.jpg

IMG_20260918_214352.jpg

IMG_20260918_214312.jpg

তবে দুদিন আগে কিছু জিনিস শেষ হয়ে গিয়েছিলো, সেগুলো আনতেই হতো। তাই গতকাল সন্ধ্যাবেলায় বাজারে না গিয়ে আর কোনো উপায় ছিলো না। তাই আমি আর শুভ সন্ধ্যা বেলা তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। বিকেলের দিকে বাজারে সবজি পাওয়া গেলেও, মাছের দোকান তেমন একটা ভালো থাকে না। তাই প্রথমে সবজি বাজার করে নিলাম।

কি কি সবজি লাগবে সেটা শুভকে বলে দিয়েছিলাম‌‌। ও একটা দোকান থেকে সেগুলো নিয়ে নিয়েছিলো। আর ততক্ষণে আমি মাংসের দোকানে দাঁড়িয়ে, চিলি চিকেন তৈরি করার জন্য কিছুটা মাংস কিনে নিয়েছিলাম। এরপর দুজন মিলে একসাথে গিয়েছিলাম মুদিখানার বাজার করার জন্য।

আমাদের এখানে আপনা মার্ট আছে, ওরা অবশ্য হোম ডেলিভারি দেয়। তবে আমরা যেহেতু কালকে বেরিয়েছিলাম, তাই টুকটাক জিনিসগুলো ওখানে গিয়েই কিনে নিয়েছিলাম।

আপনা মার্ট থেকে কি কি জিনিস কিনেছিলাম, সেটার লিস্ট আমি আপনাদের সাথে শেয়ার‌ করছি,-

"আমার কেনা প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য"

দ্রব্যপরিমাণমূল্যস্টিম প্রাইস(আনুমানিক)ছবি
আর্শীবাদ আটার প্যাকেট৫ কেজি২৬৮ টাকা৬১.৮৯ স্টিমIMG_20260918_214431.jpg
বারবন বিস্কুট৫০ গ্ৰামের ৬ টা প্যাকেট৬০টাকা (প্রতি প্যাকেট ১০ টাকা)১৩.৯২ স্টিমIMG_20260918_214352.jpg
কিষান টমেটো কেচাপ৪০০ গ্ৰাম৫০ টাকা১১.৫৫স্টিমIMG_20260918_214312.jpg
এভারেস্ট চাট মসলা৫০ গ্ৰাম৪৫ টাকা১০.৩৪ স্টিমIMG_20260918_214325.jpg
মৌরি১০০গ্ৰাম৫৯ টাকা১৩.৫৬স্টিমIMG_20260918_214410.jpg
কাটিং মিছরি২৫০ গ্ৰাম২৯ টাকা৬.৭৪স্টিমIMG_20260918_214251.jpg

1672344690977_010726.jpg

সবজি বাজারে কেনা জিনিসপত্রের মূল্য আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলাম না। কারণ শুভ সমস্ত কিছুই একসাথে কিনে নিয়ে এসেছে। কোনোটারই আলাদা করে মূল্য ও বলতে পারেনি।

IMG_20260918_214524.jpg
"আপনা মার্টে সব জিনিসেই ডিসকাউন্ট ছিলো। আপনারা বিল দেখলেই বুঝতে পারবেন।"

আপনা মার্টে জিনিসের দাম আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি, তবে আমরা সবকটাতেই কিছু না কিছু ডিসকাউন্ট পেয়েছি। সেটা আলাদা করে উল্লেখ করিনি। আশাকরি আপনারা বিলটা ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন।

যাইহোক তেমনভাবে সাংসারিক দায়িত্ব নিতে না হলেও, এখন মাঝেমধ্যে নিজেদেরকে বাজার করতে হচ্ছে। হয়তো এখন আমরা ধীরে ধীরে শিখতে শুরু করছি। মাঝেমধ্যে শাশুড়ি মা বাড়িতে থাকেন না, কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিস না হলে সংসার চালানো কঠিন। তাই ধীরে ধীরে সবজি, মুদিখানা, মাছ এবং অন্যান্য সাংসারিক প্রয়োজনগুলো মেটানো শিখে যাবো।

আপনা মার্টে গিয়ে সেখানকার আলাদা ছবি তুলতে পারিনি। কারণ দুই হাতে ব্যাগ ছিলো। বাড়িতে আনার পর যে সকল জিনিস কেনা হয়েছিলো, সেগুলোর ছবি তুলে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

যাইহোক আশাকরি আমাদের দুজনের বাজার করতে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা কারা কারা এখনও আমাদের মতো সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে শেখেননি। খুব প্রয়োজন না হলে কারা বাজারে যেতে পছন্দ করেন না, সেটা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।

Sort:  
Loading...
image.png
Curated By: lirvic
 2 days ago 

Such a relatable and interesting experience to read! Household responsibilities are often learned gradually, and I really liked how you shared your experience of going shopping together with Shubho. From choosing vegetables and buying chicken to getting the necessary grocery items from Apna Mart, you both handled the shopping step by step. It is also true that managing a household involves many small responsibilities that we may not fully appreciate until we have to do them ourselves. Your post beautifully shows how everyday tasks can teach us independence and responsibility.
Thank you for sharing this lovely experience!

#s34engagement

 2 days ago 

Hola, amiga...Tienes razón en lo que dices, muchas veces estamos acostumbrados a que sean nuestros padres o suegros los que lleven las riendas de algunas tareas del hogar, y cuando nos toca asumir ese rol a nosotros, nos damos cuenta de todo el trabajo que requiere.

Gracias por compartir. #s34engagement