"বাসন্তী পোলাও রেসিপি : জীবনে প্রথমবার তৈরি করালাম"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
কয়েকদিন আগে জীবনে প্রথমবার আমি পোলাও রান্না করেছি। সত্যি কথা বলতে পোলাও খেতে যে আমি ভীষণ ভালোবাসি এমনটা নয়, তবে মাঝে মধ্যে বেশ ভালোই লাগে। বিশেষ করে কাশ্মীরি আলুর দমের সাথে পোলাওটা আমার বেশ পছন্দের একটা পদ।
তাই কয়েকদিন আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বাড়িতেই একবার চেষ্টা করবো পোলাও তৈরি করার। তার সাথে কাশ্মীরে আলুর দমও। রান্না করতে আমি খুব একটা ভালো ভালোবাসি না। তবে কখনো কখনো একটা বিশেষ রান্না করতে ইচ্ছে করে বটে।
আর প্রথমবার রান্না করার পর যদি সেটা ভালো হয়, তবেই পরবর্তীতে আরো একবার করার সাহস দেখাতে পারি। না হলে প্রথমবারেই ইতি। আমার শাশুড়ি মা খুব ভালো পোলাও রান্না করেন।
পোলাও রান্না করাটা বড় কোনো ব্যাপার নয়, সবথেকে বড় বিষয় হলো জলের পরিমাপ। জলের পরিমাপ যদি সঠিক থাকে, তাহলে পোলাও রান্না করা বেশ সহজ। আর এটাই আমার ভয়ের কারন ছিলো। তবে অনেকটা সাহস নিয়ে এদিন আমি পোলাও রান্না করেছিলাম।
শাশুড়ি মাকে সাদা পোলাও রান্না করতে দেখেছি বহুবার। তাই রান্নার পদ্ধতি মোটামুটি জানা। তবে বাসন্তী পোলাও রান্না করার রেসিপিটা একবার ইউটিউবে দেখে নিয়েছিলাম।
|
|---|
যাইহোক চলুন প্রথমে এটি রান্না করতে কি কি উপকরণ নিয়েছিলাম, তা আপনাদের সাথে শেয়ার করি, -
| নং | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১. | গোবিন্দ ভোগ চাল | ২৫০ গ্ৰাম |
| ২. | ঘি | ৩-৪ চা চামচ |
| ৩. | আদা বাটা | ১ চা চামচ |
| ৪. | কিজুবাদাম | ২ চা চামচ |
| ৫. | কিসমিস | ২ চা চামচ |
| ৬. | সাদা তেল | ৩ চা চামচ |
| ৭. | কাঁচা লঙ্কা | ৫-৬ টা |
| ৮. | হলুদ গুঁড়ো | ১ চা চামচ |
| ৯. | তেজপাতা | ২-৩ টি |
| ১০. | চিনি | ১ চা চামচ |
| ১১. | গরম মশলার গুঁড়ো | ১চা চামচ |
| ১২. | লবন | স্বাদ অনুসারে |
|
|---|
এবার আপনাদের সাথে শেয়ার করি আমি প্রথমবার কিভাবে এই বাসন্তী পোলাও তৈরি করেছিলাম
সবার প্রথমে গোবিন্দ ভোগ চালগুলোকে একবার ভালোভাবে ধুয়ে, জল ঝড়িয়ে, একটা বড় থালায় হাতের সাহায্যে ছড়িয়ে দিয়ে, বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। যাতে জলটা শুকিয়ে যায়।
এরপর এক টুকরো আদা ভালোভাবে বেটে নিতে হবে। আপনারা চাইলে আদা কুচিয়েও ব্যবহার করতে পারেন, তবে পোলাও খাওয়ার সময় সেটা মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে বলে, বেটে দেওয়াই ভালো।
এরপর গ্যাস জ্বালিয়ে, একটা কড়াই বসিয়ে, তার মধ্যে দেড় চামচ মতো ঘি দিয়ে গরম করে নিতে হবে। এবার এই গরম ঘি এর মধ্যে এক চা চামচ হলুদ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিতে হবে।
এরপর গ্যাসের ফ্লেম বন্ধ করে, ঘি এবং হলুদের মিশ্রণটি থালার উপরে ঢেলে রাখা চালের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। তার সাথে বেটে নেওয়া আদা দিয়ে হাতের সাহায্যে সম্পূর্ণ চালটা মেখে নিতে হবে।
তার পাশাপাশি দিয়ে দিতে হবে হাফ চা চামচ গরম মসলার গুড়ো। এই সমস্ত উপকরণ গুলো হাতের সাহায্যে চালের সাথে খুব ভালোভাবে মেখে একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে মিনিট ১০ এর মতো।
আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজু ও কিসমিস দিতে পারেন, আবার যারা পছন্দ না করেন তারা না দিলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে যেহেতু আমি ও শুভ দুজনেই কাজু কিসমিস খেতে পছন্দ করি, তাই বেশ কিছুটা কাজু ও কিসমিস আমি জলে ভিজিয়ে রেখেছিলাম।
এরপর একটা কড়াই নিয়ে তার মধ্যে বেশ কিছুটা সাদা তেল দিয়ে দিতে হবে। প্রসঙ্গত বলে রাখি আমি পোলাওটা কড়াইতে করেছিলাম তাই তেলটা কড়াইতেই নিয়েছি, আপনারা যদি কোনো হাড়ি বা ননস্টিকের কোনো পাত্রে করেন সেটা আরও বেশি ভালো হয়।
এবার ওই তেলের মধ্যে গোটা তেজপাতা,আর গরম মসলা অর্থাৎ এলাচ, দারুচিনি ও লবঙ্গ দিয়ে দিতে হবে। একটু নাড়াচাড়া করে আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস ও কাজুবাদাম দিয়ে, আরও বেশ কিছুক্ষণ নেড়ে নিতে হবে।
আগের থেকে ঘি, হলুদ, আদা এবং গরম মসলা মাখা চালগুলোও দিয়ে দিতে হবে। খুব ভালোভাবে নাড়িয়ে সস চালগুলোও একটু ভেজে নিতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ চালটা ভেজে নেওয়ার পর, যে পরিমাণে চাল নিয়েছিলাম, তার ডবল পরিমাণে জল নিয়ে কড়াইয়ের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে।
তারপর চালটাকে একটু নাড়া দিয়ে, তারমধ্যে পরিমাণ মতো লবন ও চিনি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে বেশ কিছুক্ষণ। যারা ঝাল খেতে পছন্দ করেন, তারা জল দেওয়ার সাথে সাথেই কাঁচালঙ্কা দিয়ে দিতে পারেন। তবে আমি জল অনেকটা শুকিয়ে যাওয়ার পর, কাঁচালঙ্কা দিয়েছিলাম।
যখন পোলাওর জলটা অনেকটা শুকিয়ে যাবে তখন কাঁচালঙ্কা চেরা এবং অল্প পরিমাণে চিনি দিয়ে, কড়াই এর নিচে রুটি তৈরী করার তাওয়া দিয়ে, তার ওপর কড়াইটা বা হাড়িটা বসিয়ে দেবেন। এতে চালটা হাড়িতে বা কড়াইতে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এরপর গ্যাসের ফ্লেম একেবারে কমিয়ে ওপর থেকে ঢাকা দিয়ে, ততক্ষণ পর্যন্ত রান্না করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত চালটা সম্পূর্ণ সেদ্ধ না হয়ে যায়।
শাশুড়ি মা কে শেষের দিকে পোলাওটাকে আমি এইরকম ভাবেই, রুটির তাওয়ার উপরে বসিয়ে রান্না করতে দেখেছি, তাই আমিও সেই পদ্ধতি অবলম্বন করলাম। আশ্চর্যজনক ভাবে শেষে দেখলাম শাশুড়ি মায়ের মতোই, একদম ঝুরঝুরে বাসন্তী পোলাও তৈরি হয়েছিলো।
![]() |
|---|
এর সাথে অবশ্য আমি কাশ্মীরি আলুর দমও রান্না করেছিলাম। তবে সেই রেসিপিটা আমি আপনাদের সাথে পরবর্তীতে কখনো শেয়ার করবো। জীবনে প্রথমবার পোলাও রান্না করেছি তাও আবার বাসন্তী পোলাও। তাই ভাবলাম আগে এই রেসিপিটাই আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
আপনাদের সকলের রেসিপি পড়ে কেমন লাগলো জানাবেন। পাশাপাশি বাসন্তী পোলাও খেতে আপনারা কে কে পছন্দ করেন, আর তার সাথে সাইড ডিস হিসেবে কোন পদটি আপনার সব থেকে প্রিয়, মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।
সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।




















