"দিদির পরিবারের সকলের সাথে খুব সুন্দর একটা দিন কাটালাম"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে। কোনো রকম প্ল্যানিং ছাড়া আমারও আজকের দিনটাও খুব ভালোভাবে কাটলো।
আজ হঠাৎ করেই দিদিদের সাথে মামা বাড়িতে যাওয়ার প্রোগ্রাম হলো। আসলে একটানা ডিউটি করার পর দিদি তিন দিন ছুটি নিয়েছিলো। কিছু ব্যক্তিগত কাজও ছিলো যেগুলো করা আবশ্যক ছিলো। তাই শুক্রবারে সেই কাজগুলো মোটামুটি সম্পন্ন করতে পেরেছে। এই কারণে আজ সকাল বেলায় আমাকে ফোন করেছে মামা বাড়িতে যাওয়ার কথা বলার জন্য।
![]()
|
|---|
অন্যান্য দিনের মতো শুভর অফিস থাকায়, আমি সকালে উঠে ঠাকুরের শয়ন তুলে, ফুল তোলার কাজ সম্পন্ন করে, অফিসের জন্য রান্না বসিয়েছিলাম। তখনই দিদি ফোন করলো। শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর মামা বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলছিলো।
যদিও আমি ওকে আমাদের বাড়িতে আসার কথা বলেছি। তবে শুনলাম দুদিন আগে মামা ওদের বাড়িতে গিয়েছিলো এবং বারবার করে ওদেরকে বলে এসেছিলো, যাতে দিদির ছুটি থাকলে একবার মামা বাড়ি থেকে ঘুরে আসে। যেহেতু বাড়িতে শাশুড়ি মা নেই, আমি একাই সারাদিন থাকবো, সেটা ভেবেই ও আমাকে ফোন করেছিলো।
যথারীতি আমিও বিষয়টা শুভকে জানাই। আসলে আগামীকাল আমার মামা শ্বশুরের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিলো, একটা বিশেষ কারণে। তবে দুর্ভাগ্যবশত যাওয়াটা পিছিয়েছে। কারণটা অন্য কোনো পোস্টে আপনাদেরকে জানাবো। যাইহোক শুভর কাছে জিজ্ঞাসা করার পর দিদিকে ফোন করে জানালাম, শুভ অফিসে যাওয়ার পর পুজো দিয়ে, তারপর আমি বেরোতে পারবো।
![]()
|
|---|
দিদিও জানালো ঘরের কিছু কাজ সেরে তারপরেই ওরা বেরোবে। সেইমতো শুভ চলে যাওয়ার পর, ঘরের বাকি কাজ সম্পন্ন করে, স্নান সেরে, পুজো দিয়ে নিলাম। বাইরে আজ সারাদিন বেশ রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ছিলো। বরং অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ রোদ্দুরের তাপও ছিলো অনেক।
যাইহোক সময় নষ্ট না করে ট্রেনের সময় অনুযায়ী আমি তৈরি হয়ে নিলাম এবং বাড়ি থেকে বেরিয়ে টোটো নিয়ে স্টেশনে পৌঁছলাম। স্টেশনে যখন টিকিট কাটছি তখনই দেখলাম হঠাৎ অন্ধকার হয়ে এলো। আর প্লাটফর্মে পা রাখার সাথে সাথে মুষলধারায় বৃষ্টি নামলো। তখনই দিদি ফোন করলে এবং জানালো আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন আমাদের প্ল্যাটফর্মে ঢুকবে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
দিদির কাছেই শুনলাম ওই স্টেশনে বৃষ্টি হচ্ছে না এতোটুকুও। হঠাৎ করে আমাদের এখানেই বৃষ্টি হলো। তাই একটু সেডের তলায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম। তবে পাঁচ থেকে সাত মিনিট মুষলধারে বৃষ্টির পরে, যথারীতি আবার রোদ্দুর উঠলো। তবে আকাশে যথেষ্ট মেঘ ছিলো। আশাকরি ছবিগুলো দেখে আপনারা সেটা বুঝতে পারছেন।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক আমি আমার ট্রেন ধরার জন্য নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তখন রোদ্দুরের তাপ এতোটাই ছিলো যে, বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া ছাতাটা ততক্ষণে শুকিয়ে গিয়েছিলো। মোটামুটি ১০ মিনিট মতো অপেক্ষা করার পর, ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট হলো এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন এসে পড়লো। আমিও ট্রেনে উঠে পড়লাম। দিদিদের সঙ্গে দেখা হলো হাবরা প্লাটফর্মে নেমে।
![]()
|
|---|
শুনলাম ট্রেনে আসতে আসতেই দিদিরা প্ল্যান করেছে শপিংমল জুডিও যাবে। যদিও প্ল্যানটা তিতলির ছিলো। কারণ ওর বেশ কিছু জিনিস কেনার আছে যেগুলো ও জুডিওতে দেখেছে। তাই দিদি বললো মামা বাড়িতে ঢোকার আগে একেবারে ঘুরে যাই।
কারণ একবার যদি মামা বাড়িতে যাই তাহলে আর বেরোতে ইচ্ছা করবে না। আমিও তাতেই সম্মতি জানালাম। কারণ এর আগে বহুবার হয়েছে, এমন প্ল্যানিং হয়েছে কিন্তু একবার মামাবাড়িতে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করার পর, আর ড্রেস পরে দ্বিতীয়বার বেরোতে ইচ্ছা করেনি।
|
|---|
টোটো নিয়ে স্টেশনের বাইরে থেকেই সোজা জুডিওতে গিয়ে পৌঁছালাম। সেখানে জিনিসপত্র দেখে শুনে সমস্ত কেনাকাটা করতে করতে অনেকটা সময় ব্যয় হলো। জুডিওতে জিনিসগুলো বেশ ভালো এবং ব্যয় সাপেক্ষ। যাইহোক তিতলি নিজের পছন্দ মতন টুকটাক বেশ কিছু জিনিস নিলো। আর দিদি তিতলি তাতানোর জন্য জামা, প্যান্ট, নিজের জন্য কুর্তি, দাদার জন্য একটা প্যান্ট, এই সমস্তই কিনেছে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
আমিও ঘুরে ঘুরে সব কিছু দেখলাম, কিন্তু কিছুই কেনা হয়নি। যাইহোক শেষ পর্যন্ত দাদা বিলিং কাউন্টারে দাঁড়িয়েছিলো। আমি আর দিদি একটু বসেছিলাম। একটানা হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা হয়ে গিয়েছিলো। সেখানেই কিছু ছবি তুললাম। তারপর সেখান থেকে সোজা পৌঁছে গেলাম মামা বাড়িতে।
আজ শনিবার দিদিরা নিরামিষ খায়, তাই রান্নাবান্না সবটাই নিরামিষ আয়োজন ছিলো। তবে সেই রান্নাবান্নার ছবিগুলো তুলতে আমি একেবারেই ভুলে গিয়েছি। সেই মুহূর্তে প্রচুর খিদেও পেয়ে গিয়েছিলো, তাই সকলে মিলে গল্প করতে করতে দুপুরের খাওয়া শেষ করলাম। খাওয়া-দাওয়ার পরে অনেকক্ষণ চললো আমাদের গল্প।
![]()
|
|---|
তারপর সকলে মিলে একটু শুয়ে বসে সময় কাটালাম। সন্ধ্যা বেলায় মামা আমাদের সকলের জন্য গরম গরম পেঁয়াজি নিয়ে এসেছিলো। দিদি ও দাদা বাদে আমরা সকলেই সেগুলো খেলাম। যদিও দিদি বাড়িতে শনিবারে পেঁয়াজও খেতে দেয় না, তবে এখানে আর তিতলি তাতানকে বারণ করেনি।
মামী বহুবার রাতে খেয়ে আসার জন্য বললেও আমরা আর কেউ দেরি করিনি। আসলে প্ল্যান হয়েছিলো দিদিরা সকলে মিলে রাতে আমাদের বাড়িতে থাকবে। সেকথা শুনে তিতলি ও তাতান বেশ আনন্দিত ছিলো। তাই কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা বেরিয়ে পড়বো এমনটাই ঠিক হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
কিন্তু হঠাৎ করেই আমার দিদির শরীরটা বেশ খারাপ হলো। প্রথমে মাথা যন্ত্রণা হচ্ছিলো এবং তারপর শুরু হলো বমি। তিন থেকে চারবার বমি করার পর, বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলো, তারপর আমরা রেডি হলাম। মামি বারবার থেকে যাওয়ার কথা বলছিলো। আমিও দিদিকে বলেছিলাম থেকে যেতে। আমার থাকার উপায় ছিলো না, তাই আমাকে ফিরে আসতেই হতো।
তবে দিদিও বললো যে ওরা আজ আর আমাদের বাড়িতে আসবে না। একবারে ফ্ল্যাটে ফিরে যাবে। শরীর খারাপ থাকলে নিজের বাড়িতে থাকতেই সবথেকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়। তাই একটু বাদে সকলে মিলে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
![]()
|
|---|
সৌভাগ্যবশত আমরা প্লাটফর্মে ঢোকার সাথে সাথে ট্রেন চলে এসেছিলো। আর ট্রেনটা যথেষ্ট ফাঁকা ছিলো। আসলে এটি বারাসাত লোকাল ছিলো। তাই শিয়ালদা লোকাল এর তুলনায় এটিতে ভিড় ছিলো না বললেই চলে। দিদিরাও আরামে সিট নিয়েই দমদম পর্যন্ত গিয়েছে। আর আমি নেমে পড়েছিলাম দত্তপুকুর প্লাটফর্মে।
আমি প্লাটফর্মে নামার পর দেখলাম ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। তাই দ্রুত পায়ে হেঁটে টোটো স্ট্যান্ডে পৌঁছালাম এবং সাথে সাথে টোটো পেয়ে গেলাম। খুব একটা দেরি হলো না বাড়ি পৌঁছাতে। তবে বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথেই পুনরায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো।
সৌভাগ্যবশত বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলাম, না হলে আরও অনেকক্ষণ প্লাটফর্মে অপেক্ষা করতে হতো এই বৃষ্টি থামার জন্য। যাইহোক বেশ কিছুক্ষণ আগে বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম। তারপর বসলাম পোস্ট লিখতে।
আগামীকাল রবিবার। সকালে ঘুম থেকে ওঠার খুব একটা তাড়া নেই। তাই ইচ্ছে আছে আজ রাতে একটা সিনেমা দেখবো। জানিনা তা আদেও সম্ভব হবে কিনা।
যাইহোক এই রকম ভাবেই পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই খুব সুন্দর একটা দিন কাটিয়েছি আজ। তাই সে কথাই আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের দিনটাও আশা করছি এতোটাই ভালো কেটেছে এবং আগামী দিনগুলো ভালো কাটুক, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি।
সকলের খুব ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

















Congratulations! Your post has been upvoted from sc-07 account.