মামির Baby shower অনুষ্ঠান (প্রথম পর্ব)
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আমাদের পরিবারের একটি বিশেষ দিনের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করতে। গত ২৪ শে সেপ্টেম্বর ছিল আমার এক মামি শাশুড়ির Baby shower এর অনুষ্ঠান। বাঙালি বাড়িতে যেটিকে সাধের অনুষ্ঠান বলা হয়ে থাকে। সম্পর্কে মামি শাশুড়ি হলেও বয়সে ৪- ৫ বছরের বড়ো। তাই আমি বেশিরভাগ সময় দিদি বলেই ডাকি। মামি non- bengali, উত্তরপ্রদেশের মেয়ে। তথাই মামার সাথে চাকরির সূত্রে পরিচয়। সেখান থেকেই প্রেম, আর তারপর পরিবারকে মানানোর দীর্ঘ লড়াই ও অবশেষে নভেম্বর ২০২৫ এ বিয়ে।
ওদের বিয়ের ৩ মাস পর আমাদের বিয়ে হয়। তথাই মামা আমার বরের থেকে ৪ বছরের বড়ো। তাই ওদের মধ্যেও মামা- ভাগ্নের সম্পর্কের থেকে বন্ধুর সম্পর্কই বেশি। আমার বরের তেমন বন্ধুবান্ধব নেই। যারা আছে তাদের সাথে চায়লেই দেখা সাক্ষাৎ হয় না। তাই এই তথাই মামার সাথেই বেশি ঘোরাঘুরি করে। সেই সূত্রে আমারও ওদের বাড়িতে মাসে অনেক বারই যাওয়া হয়। আর যেহেতু মামি এখন বেশিরভাগ সময়ই বাড়িতে থাকে, তাই আমরা প্রায়ই দেখা করতে যায়। আমাদের বিয়ের পর ওদের সাথেই একসাথে দার্জিলিং ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। সেইমতো আমরা টিকিটও কেটেছিলাম। কিন্তু ঘুরতে যাওয়ার দিনগুলির মধ্যে একদিন ভোটের তারিখ পড়েছিল, যারফলে শেষমেশ আমাদের ট্যুর টা cancel করতে হয়েছিল। এবং এর পরপরই ওরা pregnancy র ব্যাপারে জানতে পারে। যার ফলে পরে আমি আর আমার বর মিলেই একটা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দার্জিলিং ঘুরতে গিয়েছিলাম।
যাইহোক, ওদের সাথে আমাদের সম্পর্কটা বোঝানোর জন্যই এতকিছু লিখলাম। দীর্ঘ এতগুলো মাস ওদের সাথে আমরাও অপেক্ষা করেছিলাম এই সাধভক্ষণ অনুষ্ঠানের জন্য। তাই তথাই মামা আর প্রিয়া মামি অনুষ্ঠানের আগের দিন রাতে আমাকে আর আমার বর কে ওদের বাড়ি যেতে বলেছিল কিছু কাজে সাহায্য করার জন্য। আগের দিন রাতে আমার আবার এক জায়গায় নিমন্ত্রণ ছিল। তবুও আমি সবটা ম্যানেজ করে আমার বরের সাথে ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ইতিমধ্যে ডেকোরেশনের লোকেরা বেলুন দিয়ে সুন্দর করে ডেকোরেশন করছে। অন্যদিকে প্রিয়া মামি তখনও ল্যাপটপ নিয়ে অফিসের কাজ করছে। আর বাকিরাও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। আমরা যাওয়ার পর কিছুক্ষণ বসে গল্প করলাম। তারপর পরের দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল।
এরপর আমাকে আর আমার বর কে একটু বাজারে যেতে হয়েছিল পরের দিনের জন্য পানপাতা আর কিছু গাঁদাফুল কেনার জন্য। সেইসাথে একটা সাদা আর একটা লাল fabric ও কিনে আনতে হয়েছিল। মামির ইচ্ছে ছিল হাতে ডিজাইন করবে। সেই সাথে আসার পথে মামি পরের দিন যে শাড়িটা পড়বে তার ব্লাউজ যেখানে বানাতে দেওয়া ছিল, সেটিও আনতে হয়েছিল। আমার বরের বিয়েতে ওরা অনেক কাজ করেছিল, তাই এইটুকু কাজ তো আমাদের কে অবশ্যই করতে হবে। আর আমরাও যেহেতু এই দিনটার জন্য excited ছিলাম তাই আমরাও আনন্দের সাথেই সব কাজ করছিলাম।
সব কাজ সেরে একটু জল মিষ্টি খেয়ে আমরা বাড়ি চলে এসেছিলাম এবং আসার সময় ওদের বাড়ির সকলে বার বার করে বলেছিল আমরা যেন পরের দিন তাড়াতাড়ি ওদের বাড়ি পৌঁছে যাই। পরের দিনের গল্প না হয় অন্য কোনো ব্লগে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।


