হঠাৎ করেই হাসপাতালে
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজ শনিবার ।সকালবেলা থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও আজকে সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। তবে এখন প্রত্যেকটা দিনই কমবেশি বৃষ্টি লেগেই রয়েছে। ভাদ্র মাসে যে রোদের তাপ হয় সেটা এ বছর একদমই বুঝতে পারা গেল না। সকাল থেকেই টুকটাক বাড়ির কাজ চলছিল। এছাড়া মিস্ত্রির কাজ এখনো শেষ হয়নি। তারাও তাদের মত কাজ করছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই একটা দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। পাশের বাড়িতে কাকু, কাকিমা ,ভাই আর ভাইয়ের এক বন্ধু চারজন মিলে যাচ্ছিল গঙ্গা স্নান করতে। আমি পাশের বাড়িতে গিয়ে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে এসে ছিলাম ।তাদের সাথে অনেকক্ষণ গল্প কর ছিলাম। ভাই গঙ্গা স্নান করে আসবে কারণ সে নাকি আজকে এক জায়গায় মানত করা আছে। সেখানে পুজো দেবে। আজকে ভাদ্র মাসের শেষ শনিবার। বাবা গ্রহরাজের পুজো হয়। সেখানেই রাত্রিবেলা পুজো দেবে বলে গঙ্গাস্নান করতে যাওয়া।
এদিকে কাকু, কাকীমা ছেলেকে একা ছাড়বে না বলে তারাও যাচ্ছিল গঙ্গা স্নান করতে। গঙ্গা স্নান করে তারা আবার যেত জামালপুর সেখানে মহাদেবের দর্শন নিতে। তবে আমি যাওয়ার সময় বারণ করেছিলাম আজকে আর যেতে হবে না ।কারণ শনিবারে গেলে পুজো দেওয়া হবে না।সোমবার দিন গেলে পূজো দেওয়া হবে এমনকি বাবার দর্শন হবে। মহাদেবের বার আমরা সব সময় সোমবার বলেই মেনে থাকি । সোমবার দিন যেকোনো মহাদেবের মন্দিরেই প্রচুর ভীড় হয়। কিন্তু উনারা কেউই আমার কথা না শুনে দুপুর একটা নাগাদ বেরিয়ে পড়েছিল তাদের গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য। এদিকে আমিও রীতিমতো বাড়ি চলে এসেছিলাম বাড়িতে এসে ১০ মিনিট বসার পর আবারো দেখছি ওরা বাড়ি ফিরে আসছে। আমি জানালা দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম কি হলো হঠাৎ করে আবার বাড়ি ফিরে আসছো।
তখন ভাই বলে বাবা মা দুজনেই নাকি বাইকে থেকে পড়ে গেছে। আমি তো শুনে মাথায় হাত। আবারও ছুটতে ছুটতে চলে গিয়েছিলাম ওদের বাড়িতে। গিয়ে দেখি দুজনেই এক্সিডেন্ট করেছে। বাইকের সামনে হঠাৎ করে একটা কুকুর চলে এসেছিল। তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুজনেই ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল ।রীতিমতো দুজনেরই হাত-পা জখম হয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থায় টোটো করে ভাই বাড়িতে নিয়ে এসে আমরা তো সকলে মিলে প্রচুর বরফ দিয়েছিলাম। এরপর দুজনকেই নিয়ে চলে গিয়েছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালে নাম শুনলে আমার ভীষণ ভয় করে। কিন্তু বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের কর্তব্য। আমি আবার এইসব কর্তব্য থেকে একদমই এড়িয়ে চলতে পারি না।
বাড়ির কাছে একটা টোটো কে ফোন করে ডেকে নিয়েছিলাম। এরপর দুজনকে নিয়ে চলে গিয়েছিলাম হাসপাতলে সেখানে খানিকক্ষণ চিকিৎসা করার পর আবারো বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। তেমন কিছু হয়নি বলে ভর্তি করতে হয়নি।তবে হাসপাতালে গেলে কত রকমের মানুষ চোখে দেখা যায়। যাওয়ার পর কিছু ঘটনা দেখে একটাই কথা ভাবছিলাম দিনশেষে আমরা যতই অহংকার করি টাকা-পয়সা সম্পত্তি নিয়ে গর্ব করি না কেন আমাদের সকলের গন্তব্যস্থল একটাই। যাইহোক যাওয়ার সাথে সাথে দেখলাম দুই থেকে তিনটি ডেড বডি নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাসপাতালে কেউ কেউ আবার হাসিমুখে তার বাড়ির প্রিয়জনকে সুস্থ করে নিয়ে রওনা দিচ্ছে। সব থেকে দুঃখের জিনিসগুলোই মানুষের নজর কাড়ে। এদিকে কাকু কাকিমার খুব অল্পের উপর দিয়েই দুর্ঘটনাটা ঘটলো। মানুষের কখন কি হয় সেটা আমরা কেউ বলতে পারি না। যার ভাগ্যে যখন যেটা লেখা থাকবে সেটা হবেই।আমরা চাইলেও সেটা খন্ডাতে পারবো না। আজকে দিনের বেশিরভাগ সময়টা হাসপাতালেই কেটে গেল ।
আজ এইখানে শেষ করলাম ।আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে সুস্থ থাকুন ,ভালো থাকুন।


