দশমীর সকালে মায়ের দর্শন

in Incredible India • 2 days ago

নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

2440.jpg

দেখতে দেখতে দুর্গা পুজো কেটে গেল। মা আসছে এটাই সকলকে আনন্দ দেয়। রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ।আশা করি পূজোর কয়েকটা দিন সকলেরই ভীষণ আনন্দে কেটেছে। কিন্তু এ বছরে আমি পুজোর আনন্দ একেবারে উপভোগ করতে পারিনি। বিশেষ কারণ থাকার জন্য এ বছরে পুজোর আনন্দে শামিল হতে পারিনি। তবে বেশ কিছুদিন ধরে সকালবেলায় হাঁটাহাঁটি শুরু করেছি সে কথা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। প্রত্যেকদিনের মত দশমীর দিনে বেরিয়ে পড়েছিলাম হাঁটতে। তবে সেদিনকে বোনকে বলেছিলাম অন্য আরেক দিকে ঠাকুর দেখাবো। কারণ মোটামুটি হাঁটতে হাঁটতে যত গুলো ঠাকুর দেখা যায় সমস্তটাই দেখিয়েছিলাম।

3317.jpg

পার্থক্য শুধু একটাই সন্ধ্যা বেলায় সেজেগুজে আনন্দ সহকারে সকলের সাথে ঠাকুর বেরোনো হয় । সাথে থাকে বিভিন্ন রকমের খাওয়া দাওয়া।কিন্তু এ বছরের মর্নিং ওয়াকের মাধ্যমে ঠাকুর গুলো দেখানো হয়েছিল। তাছাড়া ঠাকুর যে দেখতে বেরোয়নি এমনটা নয়। সারাদিন যেমন হইহুল্লোড় করে কাটাই সেই রকম ভাবে সময় কাটাতে পারিনি। আসলে সময় মানুষকে অনেকটাই বদলে দেয়। সময় সাথে সাথে মানুষ বড্ড কঠিন হয়ে ওঠে ।প্রত্যেক বছর মানুষের একই সময় যায় না। কোন বছর কারো ভালো সময় যায় আবার কোন বছর কারো খারাপ সময় যায়। সব মিলিয়ে মিশিয়ে মানুষের জীবন। যাইহোক দশমীর সকালবেলায় যখন বোনকে নিয়ে বেরিয়েছিলাম। আমার ছোটবেলায় কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছিল ।কারণ আমার ছোটবেলার সেই স্কুলের সামনে দিয়েই যেতে হয় সেই মন্ডপে।

2441.jpg

সকাল সকাল বোনকে ছোটবেলার অনেক স্মৃতি বলতে বলতে নিয়ে যাচ্ছিলাম । ঠাকুর মন্ডপে ঢুকতেই দেখি মণ্ডলের লাইট থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই খোলা শুরু হয়ে গেছে। মা যখন আসছে তখন কোন কত আনন্দ নিয়ে লাইটিং ,প্যান্ডেল, সমস্ত কিছু এরেঞ্জ করা হয়। চারিদিকে আলোয় ভরা মন্ডলসজ্জা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।কিন্তু পুজো শেষ না হতেই মন্ডপ থেকে শুরু করে লাইট ,মাইক সমস্ত কিছু খুলতে শুরু করে। তখন যেন মনটা দুঃখে ভরে ওঠে। পাঁচদিনের আনন্দ এক মিনিটে দুঃখে পরিণত হয় । সেই দিন সকালে মানে দশমীর ভোরবেলাতেই সমস্ত কিছু খুলতে শুরু করে দিয়েছিল। অন্যান্য দিনের মতো সেই দিনটাতে একদম নিস্তব্ধ ছিল। মন্ডপে শুধু লাইট খোলার লোক ছাড়া একটা মানুষও ছিল না।

চারিদিকে যেন মায়ের বিদায়ের জন্য নিস্তব্ধ হয়েছিল। প্রত্যেকটি মন্ডপে মাইক বাজার বন্ধ কোন কোন মন্ডপে অন্ধকার হয়ে পড়ে আছে। ওখান থেকে আবার চলে গিয়েছিলাম আরেকটি মন্ডপে ।সেখানে তো কোন কিছুই ছিল না। শুধু ঠাকুর ছিল। আবার কোন মন্ডপে মানুষ এক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে চেয়ে আছে। আবারও যেন একটা বছরের অপেক্ষায় থাকতে হবে। মায়ের মুখ থেকে চোখ সরানো যাচ্ছে না। আবার কয়েকটা মন্ডপে পুজোয় বসে গেছে ঠাকুরমশাই। দশমীর সকালে হাতে গোনা চারটে ঠাকুর দেখেছিলাম। এরপর সোজা বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলাম। মায়ের বিদায়ের সুরে মনটা ভীষণ খারাপ ছিল ।কারণ এই বছর টাই আমার জন্য ভীষণই খারাপ। পরের বছর যেন আবার মা দুর্গা অনেক আনন্দ নিয়ে আসে এই কামনায় করব।


আজ এইখানেই শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  

Congratulations @mou.sumi!

Your post has been supported by @supportive.

Delegate Steem Power to @supportive to receive stronger daily support, or contribute STEEM through @minisupportive to share in the project's curation rewards.

Visit our profile for details and participation information. If you no longer wish to receive messages like this, reply with stop. If you'd like to receive informational messages again in the future, you can request them at any time by replying with start.

 2 days ago 

Thank you 🙏

 2 days ago 

Thank you 🙏

Loading...