ষষ্ঠীর সকালবেলায় ঠাকুর দেখা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আমাদের পাড়ার ঠাকুর
আজ দুর্গাপুজোর মহা সপ্তমী। এ বছরে দুদিন পরেছে সপ্তমী। আজকে সকলকে জানাই সপ্তমীর অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। গতকাল সকালে ঠাকুর দেখার কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। গতকালকে প্রত্যেকদিনের মত আমি বোন দুজনেই বেরিয়ে পড়েছিলাম সকালবেলায় হাঁটতে ।বোনকে কালকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বলেছিলাম তোকে আজকে ১০ থেকে ১৫ টা ঠাকুর দেখানো কমপ্লিট করব। এই সুযোগে বেশ অনেকটা হাঁটা হচ্ছে। যাইহোক বাড়ির কাছের ঠাকুর দর্শন থেকে শুরু করে চলে গিয়েছিলাম যেখানে দুর্গা ঠাকুর হয় সেই সব মণ্ডপে। আমার সাথে সাথে বোনেরও বেশ ভালোই লাগছে সকালবেলায় হাঁটতে যেতে। এখন সকাল বেলায় অবশ্য আমার ঘুম ভাঙ্গে না বোন ফোন করে আমাকে ডাকলে তবেই ঘুম ভাঙ্গে।
গতকালকে প্রথমেই আমার পাড়ার ঠাকুর দিয়ে আমি শুরু করেছিলাম ।সেখানে এবার ছোট্ট একটা ঠাকুর হয়েছে। মোটামুটি অনেক বারোয়ারী তে ছোট্ট করে কোন রকমে পুজো করা হচ্ছে। আবার কোন বারোয়ারিতে নতুন করে শুরু করা হয়েছে বড় করে ঠাকুর। এক এক জায়গায় এক এক রকম মায়ের মূর্তি। এই দিনগুলোর জন্য আমরা গোটা একটা বছরের অপেক্ষায় থাকি। এরপর চলে গিয়েছিলাম ষষ্ঠী তলায় ঠাকুর দেখতে সেখানে ঠাকুরটা বেশ সুন্দর করেছে। বিশেষ করে ঠাকুরের সাজ টা দেখতে চোখে পড়ার মতো লাগছিল। ওখান থেকে চলে গিয়েছিলাম আরো অনেকটা দূরে এই করে করে বোনকে প্রায় বারোটা ঠাকুর দেখানো হয়েছিল।
বোন বারবারে বলছিল সব ঠাকুর তো তুই সকালবেলাতেই দেখিয়ে দিলি। তাহলে সন্ধ্যা বেলায় বাবার সাথে অর্থাৎ মামার সাথে কি ঠাকুর দেখতে যাবে। আর মামা যদি একবার শোনে আমি ওকে সব ঠাকুর দেখিয়ে ফেলেছি কোনমতেই মামা ওকে ঠাকুর দেখতে নিয়ে যাবে না। সকালবেলায় ফাঁকায় ফাঁকায় ঠাকুর দেখতে বেশ ভালো লাগে, সন্ধ্যাবেলায় গাড়ি ঘোরার শব্দ মানুষের কোলাহল থেকে নিঃশব্দে ঠাকুর দেখা অনেক ভালো ।এতে মনও ভালো থাকে শরীর ও ভালো থাকে। এ বছরে সমস্ত পুজোয় দিনগুলোই সকাল-সকাল পুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে। ষষ্ঠীর পূজা ও সকালে শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ষষ্ঠীর দিন অবশ্য ঠাকুরের অস্ত্রগুলো হাতে দেওয়া হয় ।ছোটবেলায় পুজোর প্রত্যেকটা দিন খুব কাছ থেকে দেখতাম। কিন্তু সত্যি বলতে যত দিন যাচ্ছে মন থেকে সমস্ত আনন্দ চলে যাচ্ছে। যতটা ইচ্ছে হচ্ছে মনে হচ্ছে পুজো থেকে দূরে থাকি। এতটুকু ইচ্ছে করছে না শুধুমাত্র সকালবেলায় হাঁটার জন্য বের হয়ে তার জন্য বোনকে ঠাকুর গুলো দেখানো হয়। নিজেরও একটু দেখা হয় এছাড়া মনে আনন্দ নিয়ে যে ঠাকুর দেখতে বের হওয়া সেই অনুভূতি একেবারে নেই বললেই চলে। কিন্তু আমার মত সকলে না। অনেকেই ঠাকুর দেখা নিয়ে প্রচুর প্ল্যান থাকে ।তারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকটা দিন সেজেগুজে ঠাকুর দেখতে বের হচ্ছে। আসলে মনের শান্তিটাই আসল শান্তি। মনে শান্তি থাকলে সমস্ত কিছু করতে ইচ্ছে করে ।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏