অনেক দিন পর সকালে মর্নিং ওয়ার্ক

in Incredible India • yesterday

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG_20261013_071236.jpg

দেখতে দেখতে মায়ের আগমন হয়ে গেল। আজ দ্বিতীয়া। দুর্গাপুজোর দ্বিতীয়ার সকলকে জানাই শারদীয়ার অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠেছি ভোর পাঁচটা নাগাদ। আসলে অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম সকালবেলায় থ মর্নিং ওয়ার্ক শুরু করব। কিন্তু মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ার কারণে একেবারেই ইচ্ছে করত না। এছাড়াও সকালবেলায় ঘুম ভাঙতে আমার ভীষণ কষ্ট। যতবার ভেবেছিলাম সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠবো সকালবেলাতে যেন আরো বেশি করে ঘুম পায়। তবে আগামী কালকে মনে মনে জেদ ধরেই ঘুমিয়ে ছিলাম পরের দিন সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে যাব। আগের দিন রাত্রি বেলায় বোন অর্থাৎ মামার মেয়েকে রাজি করিয়েছিলাম আমার সাথে হাঁটতে যাওয়ার জন্য ।আমি যেখানে বলবো বোন সেখানেই যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে আগে থেকেই বসে থাকে। শুধু আমার নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করে।

IMG20261013060538.jpg

যাইহোক আজকে ভোরবেলায় উঠে নিজের কিছু কাজকর্ম সেরে নিয়েছিলাম ।এরপর রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম হাঁটতে যাব বলে, প্রথমে চলে গিয়েছিলাম মামার মেয়ে অর্থাৎ মামার বাড়ি থেকে বোনকে নেব ।তারপরে হাঁটা শুরু করব। সকালবেলা হাঁটতে যাওয়ারও কারণ রয়েছে। যদি সফল হতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। প্রথমে ইচ্ছে ছিল বাড়ির কাছে দিয়ে কয়েকবার হাঁটার ।কিন্তু মামার মেয়েকে নিয়ে বাড়ির সামনে মন্দিরে ঠাকুর প্রণাম করে বেরিয়ে এক পাক হাঁটার পরই দেখা হয়ে গেল পাশের বাড়ির এক বোন তার ছেলেকে স্কুলে দিতে যাচ্ছে। আমাকে জোড় করে বললো চলো আমাদের সাথে তাহলে হাঁটাও হবে আমিও ছেলেকে হেঁটে স্কুলে দিয়ে আসতে পারবো। ও বলাতে আমিও সাথে চলে গিয়েছিলাম অনেকটা রাস্তায় হেঁটে হেঁটে বাচ্চাটাকে স্কুলে দিয়ে আবারো হাঁটা শুরু করেছিলাম।

IMG20261013055940.jpg

সকাল বেলায় রাস্তাটা ফাঁকা ফাঁকাই থাকে। হেটেও শান্তি পাওয়া যায়। তবে স্কুলে যাওয়ার জন্য কিছু বাচ্চা-গুলোর বাবা-মা ছোটা ছুটি করছিল বাচ্চাকে সময় মতো স্কুলে নিয়ে হাজির হবে বলে।কয়েকটা গাড়ি ঘোড়া ছাড়া আর তেমন গাড়ি থাকে না বললেই চলে। বাচ্চাটাকে স্কুলে দিয়ে আবার সোজা পথ ধরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম ।কারণ একদিনই অনেক হাঁটলে পায়ে ব্যথা হতে পারে ।তাই বেশি হাঁটাহাঁটি করিনি। সোজা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। এদিকে রাস্তাতে দেখে প্রচুর লোকজন হাঁটাহাঁটি করছিল। প্রথমে মনে মনে ভাবতাম একা একা হাঁটতে যাব। ইতস্তত বোধ করতাম। কিন্তু এখন আজকের পর থেকে আর কিছুই মনে হচ্ছে না। এখন ভোরবেলাতে ঠান্ডা ঠান্ডা পড়ে গেছে রাস্তায় বেরোলে হালকা কুয়াশা ও দেখা যায়। হালকা ঠান্ডা মধ্যে হেঁটেও শান্তি পাওয়া যায়।

IMG20261013060538.jpg

সব থেকে ভালো বিষয় হলো হাঁটতে গিয়ে বেশ কয়েকটা ঠাকুর দেখে ফেললাম ।কিছু কিছু ঠাকুর কমপ্লিট হয়ে গেছে। আবার কিছু কিছু ঠাকুর কাজ চলছে। সকাল সকাল মায়ের দর্শন পেয়ে বেশ ভালো লাগলো। বাড়িতে থাকাকালীন পুজো পুজো মনে হয় না ।মায়ের মুখ দেখে মনটা একেবারেই ভালো হয়ে গেল। রাস্তায় বেরিয়ে একটু পুজো পুজো মনে হচ্ছে। এবছরে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার তেমন কোন প্ল্যান নেই । কিন্তু সকালবেলায় মর্নিং ওয়ার্ক এর মাধ্যমে মায়ের দর্শন পেয়ে গেলাম। হালকা হালকা রৌদ্র উঠেছিল আমরাও বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। অনেক দিন পর গায়ে ভোরের হাওয়া লাগিয়ে বেশ ভালোই লাগল। সুন্দর একটা সকাল কাটালাম।আজকের এই সুন্দর সকালটির আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।


আজ এখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
 yesterday 

Thank you 🙏

Loading...