বোনেদের সাথে কেনাকাটার কিছু মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত শনিবার দিন আবারো তিন বোন একত্রিত হয়ে হঠাৎ করেই চলে গিয়েছিলাম কিছু কেনাকাটা করতে। আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের প্ল্যানিং চলছিল কেনাকাটা করবার জন্য। কিন্তু মেজো বোনের বর কাজের ছুটি ছিল না।তাই সময় হয়ে উঠছিল না ।আসলে আমরা সকলে মিলে বছরে খুব কম সময়ের জন্য একত্রিত হই। বিশেষ করে এখন চার বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। তাই সকলকে একসাথে পাওয়া হয় না। কিছুদিন আগে জামাইষষ্ঠীতে সকলে একত্রিত হয়েছিলাম। সকলে মিলে একত্রিত হলে সত্যিই ভালো লাগে। তবে তখন চাইলেই হয়তো সকলে এক জায়গায় হতাম। তখন অনেক মজা ,আনন্দ, ঝগড়া, খুনসুটি করেই দিনগুলো কেটে যেত। তখন অবশ্য সকলে বলতো এইসব দিনগুলো আর ফিরে পাবি না। ঠিক তাদের কথায় এখন মিলে গেছে।এখন যে যার সংসারে ব্যস্ত। এক জায়গায় হতে গেলে অনেক ভেবেচিন্তে তবে একত্রিত হওয়া যায়। সকলের ক্ষেত্রে হয়তো এইরকমই হয় অনেক ভাবনা চিন্তা করে তবে মেয়েরা বাপের বাড়ি যেতে পারে। সংসারের মায়া ফেলে অন্য সংসারে গিয়ে বেশি দিন কাটানো যায় না।
তবে সেদিন বোন এসেছিল নিজের কিছু প্রয়োজনীয় কাজ মেটানোর জন্য। হঠাৎ করেই তাদের প্ল্যানিং হয়েছিল। কারণ সেদিন মেজ বোনের বর হঠাৎ করেই কাজ থেকে চলে এসেছিল। সেদিন প্রচন্ড গরম পড়েছিল ।তাই রোদ গরমে কাজ করতে পারছিল না। সে চলে আসাতে তাদের হঠাৎ করেই রেডি হয়ে মামার বাড়িতে চলে এসেছিল। আসলে বেশ কিছুদিন ধরে কিছু গয়না কেনার কথাবার্তা চলছিল।কিন্তু সময়ের জন্য আসতে পারছিল না। তাই সেদিন মেজো বোনের বরকে নিয়ে সাথে ছোট বোনও এসেছিল তারও কিছু দরকার ছিল। যখন এসেছিল ঘড়ির কাটায় বাজে সন্ধ্যা সাড়ে ছটা ।তাদের আবার কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার তারা ছিল। কারণ মেজো বোনের মেয়ে আর আমার মা দুজনেই বাড়িতে ছিল ।
ওরা মামার বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথে আমি আমার বাড়িতে এসে রেডি হয়ে নিয়েছিলাম ।তাদের সাথে বেরোবো বলে। রেডি হয়ে পুতুল পুট্টির মোড় থেকে টোটো করে একেবারে সোজা জুয়েলারির দোকানে চলে গিয়েছিলাম। দোকানটা যেহেতু চেনা জানা সেই উদ্দেশ্যেই কৃষ্ণনগরে ওদের কেনাকাটা করতে আসা। দোকানে গিয়ে বোন পছন্দমত দুটো পুঁতির সীতা হার পছন্দ করে নিয়েছিল। এখন যা সোনার দাম তবে মনের মতো জুয়েলারি পরা খুবই দুষ্কর ব্যাপার। তবে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিতে সোনা কেনা একেবারে মাথায় হাত হয়ে দাঁড়িয়েছে ।কিছু কিনতে গেলে আগে ১০০ বার ভাবতে হয়। বোনের অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল সোনার হাড় দুটো কেনার। আসলে মামিও কিছুদিন আগে কিনেছিল ।তাই মেজ বোনের ও শখ হয়েছে কেনার ।কিছুদিন পরে হয়তো সেজো বোন কিনবে।
দোকানে যাওয়া মাত্র বেশ কয়েকটা হার দেখার পর পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক বোনের দুটো হার কেনার পর চলে গিয়েছিলাম কৃষ্ণনগরে বউবাজার নামে একটি জায়গায়। সেখানে ছোট বোন সেলাই মেশিন কিনবে। বেশ কিছুদিন ধরেই ছোট বোন সেলাইয়ের কাজ শিখেছে। তাই তার একটা সেলাই মেশিন প্রয়োজন ।তাই সেও ভেবেছিল কৃষ্ণনগর থেকেই কিনে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর দামটা প্রচন্ড বেশি বলছিল। তাই ছোট বোনের আর সেলাই মেশিন কেনা হয়নি। সে অবশ্য সেখান থেকে ওর স্যার কে ফোন করে দিয়েছিল বাপের বাড়ির ওখান থেকেই সেলাই মেশিন নেবে।পরের দিন সকালে এসে সমস্ত কিছু বাড়িতে সেটিং করে দিয়ে যাবে। কৃষ্ণনগর থেকে কিনলে নিয়ে যাওয়ার একটা ঝামেলা ছিল।
যাইহোক দুজনেরই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে আর তারা বাড়ি আসেনি বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাস ধরে নিয়েছিল। কারণ তাদেরও বাড়ি ফিরতে অনেকটাই রাত হয়ে যাবে। এদিকে বাসস্ট্যান্ডে আসার আগে আমরা এক জায়গায় নেমে সকলে কিছু খেয়ে নিয়েছিলাম। কারণ ওরা অনেকটা দূর থেকে এসেছিল ।সেই জন্য কিছু খেয়ে নেওয়া। এরপর আমি আমার মতো টোটো ধরে বাড়ি চলে এসেছিলাম। ওরা বাড়ি পৌঁছেছিল প্রায় রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। পরদিন সকালবেলায় ছোট বোনের সেলাই মেশিন রীতিমতো বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সেটিং করে দিয়ে গিয়েছিল ।তাই এখান থেকে পছন্দ না হওয়াতে ওখানে সেলাই মেশিন পেয়ে বোন ভীষণ খুশি হয়েছিল। যাইহোক সেদিন তিন বোন মিলে ক্ষনিকের জন্য সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏