গনেশ চতুর্থীতে ঠাকুর দেখতে যাওয়া

in Incredible Indiayesterday

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।

IMG_20260920_221253.jpg

আজকে সকাল থেকেই আকাশটা মেঘলা মেঘলা করছে। সকাল থেকেই ঠান্ডা হাওয়া বইছিল। ঘুম থেকে ওঠার আগে বিছানা থেকে হাওয়ার দমদম শব্দে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল যেন শরৎকালে আশ্বিনের ঝড় উঠেছে। যাইহোক আজকে আপনাদের মাঝে বেশ কয়েকটা দিন পর আবার একটা নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি ।আজকে গণেশ চতুর্থীর দিনের কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। গনেশ চতুর্থীর দিন সারাটা দিন কাটানো সমস্ত মুহূর্তই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম ।সেদিন খুব সকাল বেলায় ঠাকুর মশাই চলে এসেছিল। তাই সেভাবে রেডি হতে পারিনি। নিজেদের পুজো সেরেই চলে গিয়েছিলাম ঈশাদের বাড়িতে, কৃষ্ণনগর উৎসবের শহর এ কথা বরাবরই পোস্টে আমরা লিখে থাকি। কৃষ্ণনগরে বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে।

IMG_20260920_221225.jpg

কৃষ্ণনগরে কোন পুজো বাদ যায় না। স্বয়ং যমরাজের পুজো থেকে শুরু করে সমস্ত পুজোই করা হয়। তবে ঈশাকে বেশ কিছুদিন আগেই বলে রেখেছিলাম গণেশ চতুর্থীর দিন সন্ধ্যাবেলায় ঠাকুর দেখতে যাব। তাই সেদিন সন্ধ্যা বেলাতে আমরা ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু সেভাবে ঠাকুর দেখে উঠতে পারিনি। কারণ আমরা বেরোনোর সময় ঈশার মা ঈশানকে আমাদের সাথে জুড়ে দিয়েছিল। আমরা তিনজন মিলে বাইকে করে ঠাকুর দেখে বেড়ায়। চারজন হয়ে গিয়েছিল তাই আমরা তো প্রচন্ড রেগে গিয়েছিলাম। কিন্তু ও ছোট তাই ওকে বাড়িতে রেখে যেতেও মন চাইছিল না। তাই সাথে করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাড়ি থেকে হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূর পর্যন্ত হেঁটে চলে গিয়েছিলাম রাগ করে। হেঁটে হেঁটে বেশ কয়েকটা ঠাকুর দেখে নিয়েছিলাম।

এদিকে চতুর্থীর দিন আকাশে তাকিয়ে দেখি অপূর্ব সুন্দর একটা চাঁদ উঠেছে ।চাঁদটা অর্ধেক উঠেছে আর চাঁদের মাথায় যেমন চন্দ্র বিন্দু থাকে ঠিক তেমনি চাঁদের কাছে উঠেছে একটা তারা। পরে শুনলাম ওটা নাকি শুকতারা ছিল। যাই হোক মাথার উপর অর্ধচন্দ্র নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা রাস্তা যাবার পর টোটো ধরে চলে গিয়েছিলাম সোজা গর্ভমেন্ট কলেজের মাঠে। তারপরে কিন্তু আর চাঁদ টাকে দেখতে পায়নি। তাই আর ছবি তোলা হয়নি।ওখানে গিয়ে খানিকক্ষণ বসার পর মাঠটা পুরো একটু হাঁটছিলাম ।এরপর আবারও বেরিয়ে পড়েছিলাম ঠাকুর দেখবো বলে।হাতেগোনা দু-একটা ঠাকুর দেখার জন্য। কৃষ্ণনগরে প্রচুর ঠাকুর হয়েছে। তবে সেগুলো টোটোতে করে দেখা সম্ভব নয়। কারণ প্রচুর টাকা চেয়ে বসবে। তাই হেঁটে হেঁটে হাতে গোনা দুটো ঠাকুর দেখে তিনজনে মিলে সোজা চলে গিয়েছিলাম আইসক্রিম পার্লারে।

সেদিন প্রচণ্ড গরমও পড়েছিল। তাই সেখানে গিয়ে চার জন মিলে পছন্দমত কিছু আইসক্রিম খেয়ে নিয়েছিলাম। আইসক্রিম খাওয়ার পর আবারও টোটো ধরে তিন জন মিলে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। এদিকে ঈশার বন্ধু বাইকে করে বাড়ি চলে গিয়েছিল। তবে সেদিন আমার প্রচন্ড রাগ হয়েছিল কারণ অধিকাংশ ঠাকুর দেখতেই পাইনি। যেকোনো একটা জিনিস দেখতে বেরিয়ে যদি সেটা সম্পূর্ণ না হয় তাহলে মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি থেকেই যায়। যাই হোক গণেশ চতুর্থ দিন ঘুরে কয়েকটা ঠাকুর দেখে মনটাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। সেই ঘোরার মুহূর্তই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম। কৃষ্ণনগরে কয়েকটি গনপতি বাপ্পার ছবি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।


আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...