জন্মাষ্টমীর দিনে সন্ধ্যা বেলায় গোপাল মন্দিরে কাটানো মুহূর্তগুলো
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
কিছুদিনের আগের পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম জন্মাষ্টমীর দিন কাটানো দুপুরবেলায় কিছু সুন্দর মুহূর্ত ।গত কয়েকদিন ধরে আপনাদের মাঝে সেভাবে কোন পোস্ট শেয়ার করে উঠতে পারিনি। আসলে জীবনে চলতে গেলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হতেই জীবন যেন কেটে যায়। সাথে ভালো সময় গুলো কিভাবে কেটে যায় বোঝা যায় না। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। জন্মাষ্টমী দিনই কাটানো সন্ধ্যাবেলায় মুহূর্ত আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। কোন বছরই এভাবে জন্মাষ্টমী কাটানো হয় না। এ বছরই প্রথম বার প্রথম থেকে প্ল্যান করা ছিল খুব ভালোভাবেই জন্মাষ্টমী দিনটি কাটানো হবে। অনেক সময় অনেক কিছু প্ল্যান করা থাকলেও সাকসেসফুল হয় না। আসলে জন্মাষ্টমী বেশ কিছুদিন আগে আমি আর ঈশা দুজনে মিলে আমাদের কৃষ্ণনগরেই অনেক পুরনো একটা গোপাল মন্দিরে বেশ কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল। সেই মুহূর্ত অবশ্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। সেই দিন ওই মন্দিরের বেশ কিছু লোকজন বলেছিল জন্মাষ্টমীর দিন মন্দিরে যাওয়ার জন্য ।আমরা অবশ্য সেদিন মনে মনে ভেবেও নিয়েছিলাম যে জন্মাষ্টমীর দিন এক পাক হলেও মন্দিরে গোপালের দর্শন নিতে যাব। আসলে মন্দির হলো শান্তির জায়গা। সেটা আবার যদি একদম ফাঁকা নিরালা জায়গায় হয়। তাহলে আরো ভালো লাগে ।
তবে সেদিন সারাদিন অনেক খাটা-খাটনি হওয়ার পর সকলেই একটু ক্লান্ত ছিলাম। এদিকে শাশুড়ি মা কেউ বলেছিলাম সন্ধ্যাবেলায় তোমাকে গোপাল মন্দিরে দর্শন করাতে নিয়ে যাব ।শাশুড়ি মা শুনে প্রথমেই রাজি হয়ে গিয়েছিল। এদিকে ঈশা তাড়াতাড়ি করে গোপালের ভোগ দিয়ে সন্ধ্যা আরতি সেরে নিয়েছিল। কিন্তু কাকিমা কিছুতেই যেতে চাইছিল না। আসলে ওখানে যেতে অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছিল। কাকিমা মনে মনে ভাবছিল হয়তো পূজো শেষ হয়ে গেছে। এদিকে বাড়িতে এসে দেখি শাশুড়ি মা ঘুমিয়ে গেছে। তাই শাশুড়ি মাকে আর বিরক্ত করিনি। আমি ঈশা আর কাকিমা তিনজন মিলে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিয়ে বাড়ির কাছ থেকে একটা টোটো ধরে নিয়েছিলাম। জন্মাষ্টমীর দিন চারিদিকে পূজো হচ্ছে চারিদিকেই মানুষজন আনন্দ করছিল।
আমরা সরাসরি চলে গিয়েছিলাম কৃষ্ণনগরের চেতলাঙ্গিয়া গোপাল মন্দিরে ।ওখানে আমরা ঝুলন যাত্রা দেখতে গিয়েছিলাম ।ওখানে গিয়ে দেখি বেশ কিছু মানুষজন অপেক্ষা করছে পুজোর জন্য। এদিকে মন্দিরে দরজা তখন বন্ধ ছিল। তখন নাকি গোপালকে ভোগ দেওয়া হচ্ছিল। আমাদের দেখে তো মন্দিরের পুরোহিতরা চিনে ফেলেছিল। আমরা যাওয়াতে ওরা ভীষণ খুশি হয়েছিল। বাইরে থেকেই কিছু মিষ্টি কিনে নেওয়া হয়েছিল পুজো দেওয়ার জন্য। এছাড়াও ঈশার মা বাড়ি থেকে গোপালের জন্য নাড়ু বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তখন ঘড়ির কাঁটায় বাজে সাড়ে আটটা। এদিকে হঠাৎ করেই ঈশার বাড়ি থেকে ফোন গেল ওদের বাড়িতে নাকি অনেকেই জন্মাষ্টমীর প্রসাদ খেতে এসেছে। ওরা কাউকে নিমন্তন্ন করিনি ।তবুও বাড়িতে অতিথি আসলে তার সেবা করতেই হবে। ঈশা খানিকক্ষণ ওদের বাড়িতে বসতে বলে ।এদিকে সেদিন মন্দিরের পূজো হতে অনেক দেরি হবে ।তাই আমরাও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে পারিনি। এদিকে ঠাকুর মশাইরা খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে যেতে বলছিল কারণ মন্দিরে সন্ধ্যা আরতি হবে সেটা দেখে যাওয়ার জন্য। আমরা সন্ধ্যা আরতি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম।
সেদিন মন্দিরে আসল পুজো শুরু হতে প্রায়ই রাত বারোটা বেজে যাবে ।কারণ রাত বারোটার সময় গোপাল মানে শ্রীকৃষ্ণ জন্মেছিলেন। তাই সেই রীতি মেনেই রাত বারোটার সময় পুজো হবে। অত রাত পর্যন্ত বসে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না ।তাই আমরা ঠাকুর প্রণাম করে আবারো বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম। আর ঠাকুর মশাইকে বলছিলাম যদি আমাদের আগে করেই বলা হত দেরি করে পুজো হবে তাহলে হয়তো রাতের খাবার সেরে একটু দেরি করে যাওয়া হতো। যাইহোক পুজো না দেখেই বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। এদিকে বাড়িতে ফিরে শাশুড়ি মা তো আমাকে বকাবকি শুরু করেছিল ।কারণ শাশুড়ি মাকে রাজি করিয়েও নিয়ে যায়নি। তখন মাকে বললাম তুমি যাওনি এক পক্ষে ভালোই হয়েছে। কারণ পুজো রাত বারোটার সময় হতো। রাত পর্যন্ত বসে থাকা অসম্ভব ব্যাপার। তখন শাশুড়ি মা বলল ভালোই হয়েছে আমি যাইনি। যাই হোক জন্মাষ্টমী দিন সারাদিন কি এই ভাবেই কাটিয়েছিলাম সেই মুহূর্তই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



curated by wirngo
Thank you 🙏