ডায়েরি গেম ||২৪ অক্টোবর ২০২৬||অটো চালানো, বাজার করা ও পোষা বিড়ালের সঙ্গে

in Incredible India • 13 hours ago

IMG_20261025_124052.jpg

সেদিন খুব ভোরেই ঘুম থেকে উঠে পড়ি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিই। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গরম গরম ভাতের সঙ্গে মাছভাজি দিয়ে সকালের খাবার খেয়ে নিই। সকালের খাবার খাওয়ার পর আর দেরি না করে অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আমার মূল কাজ ছিল অটো চালানো।

IMG_20261025_124108.jpg

বাড়ি থেকে বের হয়ে জানতে পারি, সেদিন আমাদের এলাকায় বাজার বসেছে। তাই অটো নিয়ে বাজারের দিকে রওনা দিই। পথে কয়েকজন যাত্রীকে বাজারে পৌঁছে দিই। বাজারে গিয়ে দেখি, মানুষের বেশ আনাগোনা রয়েছে। সবাই নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে ব্যস্ত। বাজারের এই ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেই আমার কাজ চলতে থাকে।

IMG_20261025_124214.jpg

বাজারে যাওয়ার পর চারটি মুরগি কেনার প্রয়োজন হয়। তাই একটি মুরগির দোকানে গিয়ে দামদর শুরু করি। প্রথমে দাম একটু বেশি মনে হলেও পরে দরদাম করে চারটি মুরগি সাড়ে সাতশ টাকার কিছু বেশি দিয়ে কিনে নিই। এরপর মুরগিগুলো বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আবার অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করি। অটো চালানোর কাজে সময়টা বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটে। একেকজন যাত্রীকে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে দিতেই দুপুর হয়ে যায়। এরপর বাড়িতে ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই।

IMG_20261025_124052.jpg

দুপুরের খাবার খাওয়ার পর শরীরটা একটু বিশ্রাম চাইছিল। তাই প্রায় এক ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শুয়ে পড়ি। বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎ আমার পোষা বিড়ালটির দিকে চোখ যায়। দেখি, সে বিছানার ওপর বেশ আরাম করে সুন্দরভাবে শুয়ে আছে। তার এমন শান্ত ভঙ্গি দেখে আমার খুব ভালো লাগে। তাই দেরি না করে মোবাইল দিয়ে বিড়ালটির একটি ছবি তুলে রাখি।

আমার পোষা বিড়ালটিকে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। সারাদিনের কাজের ফাঁকে এমন ছোট ছোট দৃশ্যও আনন্দ এনে দেয়। কিছুক্ষণ বিড়ালটির দিকে তাকিয়ে থাকার পর আবার কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই।

দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে আবার অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। এরপর বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করি। কাজের ব্যস্ততায় বিকেল কখন গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়, তা বুঝতেই পারি না। প্রতিদিনের মতো সেদিনও নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার চেষ্টা করি।

অবশেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে ফিরে আসি। বাড়িতে এসে প্রথমেই ফ্রেশ হয়ে নিই। সারাদিন বাইরে থাকার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে নিজের ঘরে ফিরতে বেশ স্বস্তি লাগে। ঘরে এসে দেখি, আমার বোন আমাকে কিছু পাপড় ভাজি খেতে দিয়েছে। আমি সেগুলো নিয়ে খেতে শুরু করি। পাপড় ভাজি খেতে খেতে দিনের কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পাই।

IMG_20261025_124025.jpg

এরপর রাত ৮টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাই। সারাদিন অটো চালানোর কারণে পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব একটা হয় না। তাই সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে সবার সঙ্গে বসে থাকা, গল্প করা এবং তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানো আমার কাছে বেশ ভালো লাগে।

এভাবে সময় কাটতে কাটতে রাত ৯টা বেজে যায়। এরপর পরিবারের সবার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিই। সারাদিনের ব্যস্ততার পর পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার মধ্যে অন্য রকম একটা আনন্দ রয়েছে। খাবার খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ নিজের মতো সময় কাটাই।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরেও ক্লান্তি অনুভব করি। তাই পরের দিনের কাজের কথা ভেবে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

এভাবেই অটো চালানো, বাজারে যাওয়া, মুরগি কেনা, পোষা বিড়ালের সঙ্গে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটানো এবং পরিবারের সঙ্গে সময় দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমার দিনটি শেষ হয়।

আমাদের জীবনের প্রতিটি দিন হয়তো বিশেষ কিছু দিয়ে সাজানো থাকে না। তবে প্রতিদিনের সাধারণ কাজের মধ্যেও অনেক সুন্দর মুহূর্ত লুকিয়ে থাকে। আমার এই দিনটিও ছিল তেমনই একটি দিন। আশা করি, আমার দিনলিপির ছোট্ট গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে। ভালো লাগলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। নিজের ও পরিবারের যত্ন নেবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Sort:  
Loading...