ডায়েরি গেম ||২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬||জীবনের পথে পরিশ্রম আর ছোট ছোট আনন্দের একটি দিন
আমার সেই দিনের সকালটা শুরু হয়েছিল ভোর ৬টার দিকে। প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে প্রথমে সকালের খাবার খেয়ে নিই। খাবার খাওয়ার পর আর দেরি না করে অটোগাড়িটি নিয়ে বের হয়ে পড়ি। সেদিন আমার সঙ্গে আমার দুই ছোট ভাইও ছিল।
ভোরবেলার পরিবেশটা বেশ সুন্দর ছিল। রাস্তাঘাট তখনও অনেকটা শান্ত, চারপাশে সকালের একটা আলাদা আমেজ। অটোগাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে একটি ফুলের বাগানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়
জায়গাটি আমার ভালো লাগে। তাই সেখানে একটু থেমে ফুলের কয়েকটি ছবি তুলি। এর মধ্যে একটি ছবি আমার ছোট ভাইয়ের কাছেও পাঠিয়ে দিই। ফুলের সৌন্দর্য ক্যামেরায় ধরে রাখতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে।
ছবি তোলার পর আবার অটোগাড়ি নিয়ে কাজে বেরিয়ে পড়ি। বর্তমানে আমি ইন্টারে পড়াশোনা করছি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রয়োজন মেটাতে অটোগাড়ি চালাই। তাই পড়াশোনার সঙ্গে কাজটাও চালিয়ে যেতে হয়। সেদিনও দুপুর পর্যন্ত অটোগাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী নিয়ে যাই।
দুপুরের দিকে বাড়িতে ফেরার সময় আলম রিং-এর দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। জায়গাটি পরিচিত হওয়ায় সেখানে একটু নজর পড়ে এবং একটি ছবি
তুলে রাখি। ছবিটি ভালো করে লক্ষ্য করলে আপনারা আলম রিং-এর দোকানটি দেখতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের মালামাল বিক্রি করা হয়। দোকানে আলমের বোনকেও বসে থাকতে দেখলাম। তিনিও দোকানের কাজে সহযোগিতা করেন এবং রিং বিক্রি করেন।
ছবি তোলার পর আর দেরি না করে দুপুরে বাড়িতে ফিরে আসি। বাড়িতে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই। সারাদিন কাজ করার কারণে একটু ক্লান্ত লাগছিল, তাই খাওয়া শেষ করে কিছু সময় বিশ্রাম করি। বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার অটোগাড়িটি নিয়ে বের হয়ে পড়ি।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তার পাশে একটি মজার দৃশ্য চোখে পড়ে। একজন মুরুব্বি সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার পেছনে তার মেয়েকে বসিয়ে নিয়েছিলেন। দৃশ্যটি দেখে আমার বেশ হাসি
পেল। এমন দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। আগের সময়ে হয়তো এমন দৃশ্য অনেক বেশি দেখা যেত, কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষের চলাফেরার ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। তাই হঠাৎ এমন একটি দৃশ্য দেখে আমার ভালো লাগল এবং স্মৃতি হিসেবে একটি ছবিও তুলে রাখলাম।
এরপর অটোগাড়ি নিয়ে বাজারের দিকে চলে যাই। বাজারে গিয়ে যাত্রী পাই এবং তাদের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দিতে থাকি। এভাবেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাত্রী নিয়ে যেতে যেতে সময় কেটে
যায়। যেহেতু অটোগাড়ি চালানোর কারণে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া হয়, তাই পথে চলার সময় মাঝেমধ্যে সুন্দর কোনো দৃশ্য চোখে পড়লে একটু থেমে সেটি উপভোগ করার চেষ্টা করি।
সেদিনও পানাগাড়ি বাজারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে চারপাশের প্রকৃতির দৃশ্য দেখছিলাম। ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির এমন সুন্দর পরিবেশ দেখলে কিছুটা প্রশান্তি পাওয়া যায়। ভালো লাগার সেই মুহূর্তটিও ক্যামেরায় ধরে রাখি, যার একটি ছবি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম।
এভাবে কাজ করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেল, বুঝতেই পারিনি। সন্ধ্যার পর অটোগাড়ি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিই। বাড়িতে ফিরে প্রথমে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিই। সেদিন রাতে তেমন কোনো কাজ ছিল না। তাই ছোট ভাইদের সঙ্গে কিছু সময় গল্প করে ও হাসি-আনন্দের মধ্যে সময় কাটাই।
এরপর একসময় পরিবারের সবাই মিলে রাতের খাবার খেয়ে নিই। সারাদিন অটোগাড়ি চালানো এবং পরিশ্রম করার কারণে শরীর ও মন দুটোই বেশ ক্লান্ত ছিল। খাবার খাওয়ার পর কখন যে চোখে ঘুম চলে আসে, নিজেও বুঝতে পারিনি। সারাদিনের পরিশ্রমের পর বিছানায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ি।
এইভাবেই পড়াশোনা, অটোগাড়ি চালানো, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পথের ছোট ছোট সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করার মধ্য দিয়ে আমার সেই দিনটি কেটে যায়। ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখার চেষ্টা করেছি, যাতে আপনাদের সঙ্গে সেগুলো ভাগ করে নিতে পারি।
আশা করি আমার দিনের এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আপনাদের ভালো লাগবে। আমার মতো একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি পরিশ্রম করে এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় আপনারা পাশে থাকবেন এবং ভালোবাসা দিয়ে উৎসাহ দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।




