### স্মৃতির শহর আর একটি বিকেলে কুড়ানো গল্প

in #bangla • last month

বিকেলের নরম আলোটা যখন জানলার গ্রিল গলে ঘরের মেঝেতে এসে লম্বা ছায়া ফেলে, তখন টেবিলের ওপর রাখা পুরোনো ডায়েরিটা নিঝুম দুপুরেও কেমন যেন কথা বলে ওঠে। ঢাকার তীব্র যান্ত্রিক কোলাহল থেকে একটু দূরে, মফস্বলের কোনো এক ছিমছাম বিকেলে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র টান অনুভব করল তানভীর। তার সামনে খোলা ল্যাপটপের স্ক্রিন, কিন্তু মনটা পড়ে আছে পুরোনো দিনের কোনো এক আলগা পাতার ভাঁজে।

জীবনটা তো আসলে কতগুলো খণ্ড খণ্ড স্মৃতিরই সমাহার। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার দৌড়ঝাঁপ, ফাইলের স্তূপ, আর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নানা স্ট্র্যাটেজির ফাঁকে তানভীর প্রায়ই ভুলে যায় তার ভেতরের আসল মানুষটাকে—যে মানুষটা একসময় মেঘ দেখলে আনমনে কবিতা লিখত, কিংবা গোধূলির আলোয় রূপকথার দুনিয়া খুঁজত। কিন্তু স্টিমিট (Steemit) যেন তার সেই হারিয়ে যাওয়া স্বত্বাকে আবার বাঁচিয়ে তুলেছে। এখানে এসে সে বুঝতে পেরেছে, নিজের ভেতরের গল্পগুলোকে ধরে রাখার কী দারুণ এক জাদুকরি ক্ষমতা রয়েছে।

আজকের গল্পটা কোনো কাল্পনিক চরিত্রের নয়, আজকের গল্পটা প্রতিদিনের লড়াই আর ভালো লাগার এক অদ্ভুত সুতোয় গাঁথা।

দুপুরের দিকে তানভীর যখন তার বারান্দার ছোট টবটার দিকে তাকাল, তখন দেখল গাছটার ছোট্ট একটা কচি পাতা রোদের আলোয় ঝলমল করছে। ঠিক তখনই একটা চড়ুই পাখি এসে বসল গ্রিলের ওপর, মুহূর্তের জন্য চারপাশটা কেমন যেন থমকে গেল। এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোই তো আমাদের জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। অথচ আমরা সারাদিন বড় বড় সাফল্যের পেছনে ছুটতে ছুটতে এই ছোট ছোট সৌন্দর্যের গল্পগুলোকে এড়িয়ে যাই।

ল্যাপটপের কিবোর্ডে হাত রাখতেই আঙুলগুলো যেন নিজের থেকেই ছন্দে মেতে উঠল। সে লিখতে শুরু করল তার আজকের এই দুপুর নিয়ে, তার ছোটবেলার ফেলে আসা দিনগুলোর কথা, আর এক অদ্ভুত মানসিক শান্তির অনুভূতির কথা। সে লিখল কীভাবে ব্যস্ততার ভিড়েও মানুষ তার শখগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। স্টিমিটের এই বিশাল কমিউনিটিতে যখন সে নিজের মনের কথাগুলো লিখে প্রকাশ করে, তখন হাজার মাইল দূরের অচেনা কোনো মানুষের একটা মিষ্টি মন্তব্য বা একটুখানি ভালোবাসা তার পুরো দিনটাকে বদলে দেয়।

লেখার ফাঁকে তানভীর মেলাতে লাগল তার পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা। সারাদিনের ব্যস্ততা আর মানসিক চাপের পর এই লেখালেখিটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় থেরাপি। এখানে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, নেই কোনো কর্পোরেট প্রেসার—এখানে সে সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিজের মতো করে নিজের মনের ক্যানভাসে রঙ ছড়াতে পারে।

পোস্টটা যখন সম্পূর্ণ হলো, তখন বিকেলের আলো আরও একটু নরম হয়ে এসেছে। সে এক পলক লেখার ওপর চোখ বুলিয়ে নিল। কোথাও কোনো বড়াই নেই, শুধু সাধারণ কিছু মানুষের সাধারণ অনুভূতির এক অপূর্ব প্রকাশ। নিচের দিকে ট্যাগগুলো ঠিকঠাক বসিয়ে দিল—#bangla, #steemexclusive, #lifestyle, আর #creativity।

'Publish' বোতামে ক্লিক করার সাথে সাথেই একটা অদ্ভুত স্বস্তি নেমে এল তার মনে। এটা শুধু একটা ব্লগ পোস্ট নয়; এটা তার আজকের দিনের একটা ডিজিটাল দলিল, সময়ের খাতায় রেখে যাওয়া একটা ছোট্ট স্বাক্ষর। বাইরে তখন সন্ধ্যা নামার প্রস্তুতি চলছে, রাস্তার ধারের ল্যাম্পপোস্টগুলো একে একে জ্বলে উঠছে। তানভীর মৃদু হাসল, ল্যাপটপটা বন্ধ করল এবং টেবিলে রাখা কাপে চুমুক দিয়ে অনুভব করল—জীবনটা আসলেই বড় সুন্দর, যদি তাকে নিজের মতো করে উপভোগ করা যায়।