জানালার পাশে এক চড়ুইয়ের ঘর
পুরোনো বাড়িটার জানালার ওপরে ছোট একটা ফাঁক ছিল। সেখানেই এক সকালে খড়ের টুকরো নিয়ে হাজির হলো একটি চড়ুই। একটু বসে চারপাশ দেখল, তারপর খড়টা ফাঁকের ভেতরে রেখে উড়ে গেল।
বাড়িতে থাকতেন এক বৃদ্ধ। প্রতিদিন সকালে জানালার পাশে বসে চা খেতেন। প্রথম দিন নিচে পড়ে থাকা শুকনো ঘাস পরিষ্কার করেছিলেন। পরদিন আবার ঘাস দেখে ওপরে তাকাতেই চড়ুইটার সঙ্গে চোখাচোখি হলো। ঠোঁটে একটা লম্বা খড় নিয়ে পাখিটা বসে আছে, ভেতরে ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না।
বৃদ্ধ চায়ের কাপ হাতে একটু সরে বসলেন। কিছুক্ষণ পর চড়ুইটা বাসায় ঢুকে পড়ল।
এরপর কয়েক দিন ধরে বাসা তৈরির কাজ চলল। কখনো একটা খড় ঠিকমতো ঢুকত না, কখনো রাখা টুকরো নিচে পড়ে যেত। বৃদ্ধ আর ফাঁকটা বন্ধ করলেন না। শুধু জানালার নিচে পড়ে থাকা খড়গুলো সরিয়ে রাখতেন।
এক রাতে ঝড় উঠল। বাতাসে জানালার পাল্লা বারবার ধাক্কা খাচ্ছিল। বৃদ্ধ উঠে পাল্লাটা আটকে দিলেন, যাতে বাসার পাশে আর আঘাত না লাগে। অন্ধকারে পাখিটাকে দেখা যাচ্ছিল না। তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে গেলেন।
সকালে চা নিয়ে বসে দেখলেন, ফাঁক থেকে চড়ুইটা মুখ বাড়িয়েছে। একটু পরেই উড়ে গেল উঠানের দিকে। বাসাটা ঠিক আছে দেখে তাঁর মুখে হাসি ফুটল।
কয়েক সপ্তাহ পরে সেই জানালার ওপর থেকে নতুন শব্দ শোনা গেল—বাচ্চাদের চিকচিক ডাক। বৃদ্ধ চায়ের কাপ নামিয়ে কান পাতলেন। মা চড়ুই খাবার নিয়ে ফিরতেই ডাক আরও বেড়ে গেল।
বাড়িটা আগে সকালেও বেশ চুপচাপ থাকত। এখন বৃদ্ধের চা খাওয়ার সময়টুকু পাখিদের আসা-যাওয়া দেখেই কেটে যায়।
আপনার বাড়িতেও কি কখনো কোনো পাখি এভাবে নিজের ঘর বানিয়েছে?
