ক্ষুদ্র প্রাপ্তি

in আমার বাংলা ব্লগ • yesterday

41911.jpg

বাবু বহুদিন আগে থেকেই মোরগ পোলাও খেতে চাচ্ছিল। কিন্তু পকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে কোনোভাবেই সেই ইচ্ছাটা পূরণ করতে পারছিলাম না। এমনকি এবারের জন্মদিনে বাবুর জন্য একটা কেক পর্যন্ত কিনতে পারিনি। অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই নাজেহাল ছিল যে, কাউকে বলে বা কারও কাছে হাত পেতে খানিকটা স্বস্তি পাওয়ার মতো অবস্থাতেও ছিলাম না। নিজের কষ্টটা নিজের মধ্যেই চেপে রেখে দিন পার করতে হয়েছে।

এই সময়টা আমাকে অর্থনৈতিক দুরবস্থার এমন কিছু শিক্ষা দিয়েছে, যা হয়তো সারাজীবন মনে থাকবে। অভাব শুধু পকেটটাই খালি করে দেয় না, অনেক সময় ভেতরটাকেও নীরবে ভেঙে দেয়। বিশেষ করে সন্তানের ছোট্ট একটা ইচ্ছা পূরণ করতে না পারার কষ্টটা একজন বাবার কাছে কতটা ভারী,সেটা শুধু সেই বাবাই জানে।

যাক, শেষ পর্যন্ত গতদিন পুরো পরিবার নিয়ে বের হলাম। শুধু মোরগ পোলাও নয়, বাবুর ইচ্ছেমতো কাচ্চি বিরিয়ানিও খেলাম। হয়তো সবকিছু সঠিক সময়ে, সঠিক মুহূর্তে করে উঠতে পারিনি। হয়তো জন্মদিনের কেকটাও সময়মতো কিনে দিতে পারিনি। কিন্তু দেরিতে হলেও বাবুর সেই ছোট্ট ইচ্ছাটা পূরণ করতে পেরেছি,একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় স্বস্তি আর কী হতে পারে!

জীবনে সবকিছু সবসময় আমাদের ইচ্ছেমতো হয় না। কিছু ইচ্ছা সময়ের কাছে আটকে থাকে, কিছু স্বপ্ন সামর্থ্যের কাছে হেরে যায়। কিন্তু সামর্থ্য ফিরে এলে, সুযোগ এলে, ভালোবাসার মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করাটাই তো আসল।

বাবুর মুখের সেই তৃপ্তির হাসিটা দেখেই মনে হলো,দেরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাবার কাছে এই আনন্দটা একটুও দেরি করে আসেনি।