শেষ বেলায়।
কখনো কখনো শহরের হাজারো আলো থেকেও দূরে সরে যেতে ইচ্ছে করে। যেখানে মানুষের ভিড় নেই, কোলাহল নেই, অকারণ ব্যস্ততা নেই,আছে শুধু খোলা আকাশ, সবুজের বিস্তার আর নরম আলোয় ডুবে যাওয়া বিকেল।
এমন দৃশ্যের সামনে দাঁড়ালে মনে হয়, জীবনটা আসলে এতটা জটিল হওয়ার কথা ছিল না। আমরা নিজেরাই কত কিছু পাওয়ার, কত কিছু প্রমাণ করার দৌড়ে ছুটতে ছুটতে ভুলে যাই,শান্তি নামের ছোট্ট অথচ সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটার কথা।
একটা সময় ছিল, শহরের ব্যস্ততাকেই জীবন মনে হতো। চারপাশের কোলাহল, মানুষের ভিড়, প্রতিদিনের ছুটে চলা,সবকিছুর মাঝেই নিজের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াতাম। এখন বুঝি, দিন শেষে মনটা যেখানে একটু নিঃশ্বাস নিতে পারে, নিজের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারে,সেই জায়গাটাই হয়তো নিজের।
এখানে এসে সময়টাকেও যেন একটু ধীর মনে হয়। পাখির ডাক, বাতাসের শব্দ, দূরের মাঠ আর শেষ বিকেলের সূর্য,সবকিছু মিলে মনে হয়, পৃথিবীটা এখনো সুন্দর আছে, শুধু আমাদের ব্যস্ত চোখগুলো সেই সৌন্দর্য দেখার সময়টুকু হারিয়ে ফেলেছে।
কত কিছু নিয়ে অভিমান, কত না-পাওয়া, কত মানুষের চলে যাওয়া,সবকিছুই তো জীবনের অংশ। সবকিছুর উত্তর পাওয়া যায় না, সব সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত থেকে যায় না। কিছু মানুষ স্মৃতি হয়ে থাকে, কিছু ঘটনা শিক্ষা হয়ে থাকে, আর কিছু কষ্ট নিঃশব্দে মানুষকে বদলে দিয়ে যায়।
তবু জীবন থেমে থাকে না। আমরাও থেমে থাকতে পারি না।
সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে নিজেকে একটু সময় দিতে হয়, সব হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে হয় প্রকৃতির সামনে। সেখানে কোনো অভিনয় নেই, কাউকে কিছু প্রমাণ করার তাড়াও নেই,শুধু নিজের সঙ্গে নিজের দেখা হওয়ার সুযোগ থাকে।
সূর্যটা প্রতিদিনই ডুবে যায়, অথচ প্রতিটি সন্ধ্যা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়,শেষ মানেই সবকিছুর শেষ নয়। অন্ধকার যত গভীরই হোক, কোথাও না কোথাও একটা সকাল অপেক্ষা করেই থাকে।
হয়তো আগামীকাল সবকিছু বদলে যাবে না, কিন্তু নতুন করে শুরু করার মতো একটু সাহস যদি ফিরে আসে,সেটুকুই বা কম কী!
