কৈফিয়ত?
মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল এতটা প্রবল, যা মাঝে মাঝে সত্যিই চিন্তার বাইরে চলে যায়। প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের দোকানের ভিডিও দেখে, শেষমেশ একজন প্রশ্ন করেই বসলেন, আপনি মেডিকেল প্রফেশন ছেড়ে এই রাস্তায় কেন?
প্রশ্নটা শুনে প্রথমে ভাবছিলাম, আসলে কী উত্তর দেব তাকে! পরে অবশ্য ভদ্রতার জায়গা থেকে ভীষণ আন্তরিকভাবেই তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
আমি বরাবরই ভীষণ স্বাধীনচেতা স্বভাবের মানুষ। নিজের মতো করে জীবনটাকে দেখতে, বুঝতে এবং বাঁচতে পছন্দ করি। অন্যের চোখে কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, কিংবা সমাজের প্রচলিত ধারণায় কোন জীবনকে সফল বলা হয়,এসবের চেয়ে নিজের ভালো লাগা, মানসিক প্রশান্তি আর আত্মতৃপ্তিকে বরাবরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।
মেডিকেল প্রফেশন ছেড়েছি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে। কেন ছেড়েছি, তার পেছনে বিশেষ কোনো ব্যাখ্যা নেই। স্রেফ ভালো লাগেনি, তাই ছেড়ে দিয়েছি।
জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে যে বিশাল কোনো গল্প, অভিমান কিংবা ব্যর্থতা থাকতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই!
শহর ছেড়ে গ্রামে এসে থাকছি, সেটাও নিতান্তই নিজের ভালো লাগা থেকে। এখানে কী পেলাম, কী হারালাম, কিংবা ভবিষ্যতে কী হবে,এসবের হিসাব আপাতত মেলাতে চাই না। জীবনকে সব সময় নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্যের দিকে ছুটিয়ে নিতে হবে, এমন ভাবনাতেও বিশ্বাসী নই।
সামনে কী হবে, জানি না। হয়তো সময়ের সঙ্গে জীবনের গতিপথ বদলাবে, হয়তো এভাবেই চলবে। তবে এই মুহূর্তে নিজের মতো করে বেঁচে আছি, মানসিকভাবে শান্তিতে আছি, আপাতত সেটুকুই যথেষ্ট।
দিনশেষে, মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা বোধহয় নিজের ভালো লাগা অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকারটুকু। আর সেই জীবন বেছে নেওয়ার জন্য সবার কাছে কৈফিয়ত দেওয়ারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
