বৃষ্টিভেজা সকাল
আজ সকালের ঘটনা,
মনে হচ্ছিল, কোনোভাবেই যেন বিছানা থেকে উঠি না। বাইরে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছিল, এমন আবহাওয়ায় এমনিতেই মনটা কেমন অলস হয়ে ওঠে। চারপাশের স্যাঁতসেঁতে নীরবতা, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ আর জানালার ওপাশে ধূসর হয়ে থাকা সকাল,সব মিলিয়ে বিছানাটাকেই তখন পৃথিবীর সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গা বলে মনে হচ্ছিল।
তাই হয়তো ঘুম থেকে জেগে ওঠার বদলে, কাঁথা মুড়ি দিয়ে আরও নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছিলাম বিছানার মাঝে। বাইরে যাওয়ার কোনো তাড়না নেই, কোনো ব্যস্ততা নেই,শুধু মনে হচ্ছিল, আজকের সকালটা যদি এভাবেই বিছানার ভেতর কাটিয়ে দেওয়া যেত!
একপর্যায়ে গিন্নিকে বেশ ফিসফিস করে বললাম,যদি সম্ভব হয়, নরম করে একটু খিচুড়ি রান্না করার চেষ্টা করো। এমন আবহাওয়ায় খিচুড়ির কোনো বিকল্প হয় না।
সত্যিই তো, বৃষ্টির দিনের সঙ্গে খিচুড়ির যে একটা অদ্ভুত আত্মীয়তা আছে! বাইরে ঝুম বৃষ্টি, চারপাশে ঠান্ডা ঠান্ডা একটা আবহ, আর সামনে ধোঁয়া ওঠা নরম খিচুড়ি,এর চেয়ে বেশি আর কী-ই বা চাই!
এর মধ্যে কাজে যাওয়ার প্রতিও কেমন অনীহা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, আজকের দিনটা বুঝি কাজকর্মের জন্য নয়, আজকের দিনটা কেবল একটু অলস হয়ে থাকার, বৃষ্টির শব্দ শোনার, কাঁথার নিচে নিজেকে গুটিয়ে রাখার আর এক বাটি গরম খিচুড়ির অপেক্ষায় থাকার।
কিন্তু জীবন তো আর আবহাওয়ার মর্জিতে চলে না। বৃষ্টি যতই সুন্দর হোক, বিছানা যতই আরামদায়ক হোক,শেষ পর্যন্ত উঠতেই হয়।
তবুও কিছু কিছু সকাল থাকে, যেগুলো মানুষকে ব্যস্ততার বাইরে এসে একটু নিজের সঙ্গে বসার সুযোগ করে দেয়। আজকের সকালটা বোধহয় তেমনই একটা সকাল ছিল।
