১ অক্টোবর
এমন একটা মুহূর্তের জন্য কম করে হলেও তিন মাসের অধিক সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। মাঝে তো নিজেদের বিবাহবার্ষিকী গেল, গিন্নির জন্মদিন গেল, এমনকি বাবুর জন্মদিনও অতিবাহিত হলো। তারপরও যেন কোনোভাবেই নিজেকে গুছিয়ে জীবনের স্বাভাবিক ভারসাম্যের তালিকায় দাঁড় করাতে পারছিলাম না।
সূক্ষ্ম কায়দায়, মানসিক নির্যাতনের অন্ধকার কক্ষে ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনিতেই আলো-বাতাস নেই, তার ভেতরে দরজায় বড়সড় তালা। জিইয়ে থাকাটাই যেন দুরূহ হয়ে গিয়েছিল।
এখনো যে পুরোপুরি জীবনের স্বাভাবিক গতিপথে আছি, তেমনটা বললে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হবে। তবে এটা সত্য, সেই মানসিক নির্যাতনের অন্ধকার ঘরে সাম্প্রতিক সময়ে দমকা হাওয়ার মতো খানিকটা আলো-বাতাস ঢুকেছে। যার কারণে হয়তো শ্বাস নিতে খুব একটা বিঘ্ন ঘটছে না।
কাউকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার বেলায় কিঞ্চিৎ ঘাটতি রাখি না। এই যে বৃষ্টি বৌদি, নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য শুরুতেই পরামর্শের শরণাপন্ন হয়েছিল। যদিও সেই সময় নিজেই ঘোর অন্ধকারে ছিলাম, তারপরও কোনো কমতি রাখিনি ভাবনাচিন্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে।
আজ যখন তার বানানো কাপড় গায়ে দেওয়ার সৌভাগ্য হলো, তখন সময়টা বেশ ভালোই গড়িয়েছে। যদিও যেসব আনন্দঘন মুহূর্তকে কেন্দ্র করে কাপড় নিয়েছিলাম, সেই আনন্দে তো ভাটা পড়েছিল বহু আগেই।
তারপরও যখন সবকিছুকে মাড়িয়ে এমন একটা প্রাণবন্ত মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরেছি, তখন হয়তো ভালো লাগার বিষয়টা দৃশ্যমান হয়েছে।
