গতরাতের পিকনিক।

in আমার বাংলা ব্লগ • 2 days ago

43320.jpg

গতকাল যখন বিকেলবেলার দিকে স্কুলমাঠে উঁকি দিয়েছিলাম, তখন রীতিমতো কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। প্রতিদিনই আশপাশের এলাকার উঠতি বয়সী তরুণদের মাঠে খেলতে দেখি। তবে যে গ্রামটাতে থাকি, সেই গ্রামের তরুণদের কোনো অবস্থাতেই সেভাবে মাঠে খেলতে দেখতাম না।

একবার তো চোখ কচলে দেখলাম, ভুল দেখছি না তো!

তারপর অনেকটা সময় মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে গ্রামের উঠতি বয়সী তরুণদের খেলা দারুণভাবে উপভোগ করলাম। আজ ওরা নিজেরাই দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলছিল।

মনোমুগ্ধকর দৃশ্য! যে গ্রামটাতে থাকি, সেখানকার ছেলেরা মাঠে ফিরেছে। আপাতত এটাই যেন সবচেয়ে বড় সুখবর।

অতঃপর, খেলা শেষ হওয়ার পরে সন্ধ্যাবেলার দিকে বাজারে আবারও ওদের সঙ্গে দেখা। অনেকেই আঙ্কেল বা বড় ভাই বলে সম্বোধন করে।

অনেকের হাতেই দেখলাম বাজারের ব্যাগ। কৌতূহলবশত ওদের জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কী? ওরা তো বলেই ফেলল, রাতে পিকনিক হবে, আঙ্কেল। এলাকার বড়রা আজ আমাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সবাই দুই দলে বিভক্ত হয়ে ফুটবল খেলেছি, তারপর আবার তারা আমাদের পিকনিক করার জন্যও সহযোগিতা করেছে।

কথাগুলো যখন শুনছিলাম, তখন নিজের ভেতরেও বেশ ভালো লাগা কাজ করছিল। এরপর নিজে থেকেই ওদের বলে ফেললাম, তোমাদের আর কিছু দরকার হলে বলো। যদিও ওদের চাহিদা খুবই সামান্য ছিল, তারপরও চেষ্টা করেছিলাম সহযোগিতার কোনো কমতি না রাখতে।

অবশেষে, রাতে বাজার থেকে ফিরে যখন ওদের মাঝে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, তখন দেখছিলাম, ওরা বেশ আনন্দের সঙ্গেই রান্নার আয়োজন করছিল। এই তরুণদের ভেতরে প্রতিনিয়তই সম্ভাবনা দেখি। এরা যদি সত্যিই নিজেদের সঠিক পথে ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর ওদের সঙ্গে একত্রে বসে যখন কলাপাতায় গরম ধোঁয়া ওঠা খাবার খাচ্ছিলাম, তখন মুহূর্তেই যেন শৈশবে ফিরে গিয়েছিলাম।

আপাতত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি গ্রামের উঠতি বয়সী তরুণদের প্রতি। ওদের ভেতরে এমন ঐক্য, এমন ভ্রাতৃত্ববোধ আর পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব চিরকাল বিরাজ করুক,এমনটাই প্রত্যাশা।