সেলুকাস

in আমার বাংলা ব্লগ7 days ago

39432.jpg
source

ডাক্তার সুমন প্রামাণিকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বলতে চাই না। যা লিখছি, বিগত জীবনের পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে লিখছি।

সাধারণ জনগণের সবচেয়ে অসুবিধা কোথায় জানেন? তারা মেডিকেল সায়েন্সের ব্যাপারে কতটুকু যৌক্তিক ধারণা রাখে, সেটা নিয়ে ভীষণ সংশয় কাজ করে।

অভিযোগকারী শুরুতেই লিখেছেন, তিনি জরুরি বিভাগে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত দুজন তার বাচ্চাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এমতাবস্থায় অভিযোগকারী বলেছেন, তাদেরকে দেখাবেন না বরং ডাক্তারকে দেখাতে ইচ্ছুক।

অভিযোগকারীর অভিযোগ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযোগকারীকে এটাও বুঝতে হবে, জরুরি বিভাগে যারা থাকেন, তারা প্রত্যেকেই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক এবং জরুরি বিভাগে যে সকল কাজ হয়, সেসব কাজ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানেই হয়।

তাছাড়া মেডিকেল প্রফেশন টিমওয়ার্ক। এখানে ডাক্তার একাই কোনো কিছু করতে পারেন না। এখানে নার্স, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, প্যারামেডিক্স, এমনকি অন্যান্য লোকবলেরও প্রয়োজন হয়।

অভিযোগকারী বলেছেন, ডাক্তার তার রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গড়িমসি করেছেন। অভিযোগকারীর হয়তো জানা নেই,উপজেলা পর্যায়ে একজন ডাক্তার রাতের বেলা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি, পুরোটা সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

এটা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে, গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। তবে আমি আপনাদের একটি অপ্রিয় সত্য কথা বলি,এখনো গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ ১০১ শয্যার হাসপাতাল অনুযায়ী পরিপূর্ণ সেবা দিতে অক্ষম।

যার মূল কারণ লোকবল ও ব্যবস্থাপনা সংকট।

এ দায় ডাক্তারকে দিয়ে লাভ নেই ভাই। এই বিষয়ে অভিযোগ থাকলে, অভিযোগ উপরমহলে জানান। উপরমহলে জানান, ১০১ শয্যার হাসপাতাল অনুযায়ী শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হয় না, বরং পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরিবেশ তৈরি করতে হয়!

যাতে ঘনঘন বগুড়া ও রংপুর যাওয়া না লাগে।

মানলাম,
অভিযোগকারীর অভিযোগ সত্য। তিনি বলেছেন, ডাক্তার তার রোগীকে না দেখেই বলেছে, আপনার রোগী সুস্থ আছে?

তাহলে অভিযোগকারীকে বলতে চাই, আপনি যে সময়ে হাসপাতালে গিয়েছেন এবং যে কারণে গিয়েছেন, সেই সময় ও তারিখ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিস্তারিত বিষয় কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের খাতায় লেখা আছে।

তারপর আপনি বললেন, আপনার রোগী সারারাত শ্বাসকষ্টে ভুগেছে।

দেখুন ভাই, বাস্তবতায় আসুন। শ্বাসকষ্ট পরিপূর্ণ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় তো লাগবেই।

পরের দিন আপনি আবারও হাসপাতালে গিয়েছেন, তাও সকালবেলা। আপনি সম্ভবত জানেন না, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তাররা রোগী দেখে থাকেন।

পরের দিন আপনি হাসপাতালে গেলেন, আবার একই জরুরি বিভাগে। আচ্ছা, তখন কি জরুরি বিভাগে ডাক্তার একাই ছিলেন, নাকি জরুরি বিভাগে আরও অন্যান্য মেডিকেল পার্সনও ছিলেন, সেই প্রশ্ন কিন্তু রেখে গেলাম।

দেখুন, এখন একদম সহজ কথায় আসি। আপনি যে দুই দিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়েছেন, সেই দুই দিন উপস্থিত ডাক্তার ও অন্যান্য মেডিকেল পার্সনকে পেয়েছেন। এটা নিশ্চয়ই ভুল নয়?

আপনি বলেছেন, তার ব্যবহার আপনার ভালো লাগেনি?

দেখুন ভাই, পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে আমার মনে হয় না, কোনো ডাক্তার ডিউটিরত অবস্থায় অমূলক কথাবার্তা বলবেন। কেননা, এটা তার ক্যারিয়ারের বিষয়।

আবার এটাও সত্য, হয়তো তার প্রফেশনাল ব্যক্তিত্ব আপনার ভালো নাও লাগতে পারে।

কেননা, প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পেশাজীবন এবং বাস্তবিক জীবন সম্পূর্ণ আলাদা।

যাইহোক, তারপরেও ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নন। যদি তার আচার-আচরণ এতটাই অস্বাভাবিক ও অমানবিক মনে হতো, চাইলেই হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জানাতে পারতেন। যেটা আপনি করেননি।

আপনি এসে কী করলেন? ঢালাওভাবে ফেসবুকে মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করলেন।

থাক সেসব কথা।

সর্বোপরি, আপনার রোগী সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ আছে,এটা জেনে ভালো লাগল।

বাঙালি আসলেই সেলুকাস! এটার প্রমাণ বারবার পাই।