জটিলতাসম্পন্ন।

in আমার বাংলা ব্লগ • 8 hours ago

44258.jpg
source

বিষয়টা কিছুটা জটিলতাসম্পন্ন।

বাপ এমন কী কর্ম করে যে, সন্তান হিসেবে নিজের বাবার পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করতে হয়? একজন সন্তানের কাছে বাবার পরিচয় তো গর্বের হওয়ার কথা, নির্ভরতা ও সম্মানের প্রতীক হওয়ার কথা।

অথচ সেই পরিচয়ই যখন অস্বস্তি কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে,সমস্যাটা আসলে কোথায়?

বাপ-ছেলে কিংবা যেকোনো পারিবারিক সম্পর্কই হোক, প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করা উচিত।

এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কাম্য নয়, যেখানে কাউকে কারও পরিচয় দিতে গিয়ে সংকোচে পড়তে হয় কিংবা নিজের পরিচয়টুকু আড়াল করার প্রয়োজন বোধ করতে হয়।

তবে সম্পর্কের দায়ভার কখনোই একতরফা নয়। একজন বাবার যেমন সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত, তেমনি সন্তানেরও বাবার প্রতি সম্মান ও দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি।

কিন্তু সম্মান মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, আর স্বাধীন চিন্তাভাবনার অর্থও পারিবারিক দায়িত্ব অস্বীকার করা নয়। প্রত্যেকেরই উচিত নিজের অবস্থান থেকে আত্মসমালোচনা করা এবং নিজের কর্ম ও আচরণের মাধ্যমে সম্পর্কের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা।

তবে বাস্তবতা বড্ড উল্টো!

কখনো বাবার কর্মকাণ্ড সন্তানের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়, কখনো আবার সন্তানের আচরণে বাবাকে বিব্রত হতে হয়। রক্তের সম্পর্ক অটুট থাকলেও নৈতিকতা ও আচরণের দূরত্ব একসময় এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পরিচয়টুকু দিতেও মানুষ দ্বিধাবোধ করে।

অথচ সম্পর্কের পরিচয় জন্মসূত্রে পাওয়া গেলেও, সেই পরিচয়ের মর্যাদা নির্ভর করে মানুষের কর্ম, আচরণ ও নৈতিকতার ওপর।

দিনশেষে প্রশ্নটা একটাই,সম্পর্কের পরিচয় দিতে যদি সংকোচ বোধ করতে হয়, তাহলে নিজের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনা করার সময় কি আসেনি?