কুসংস্কার!
সময়ের সঙ্গে পৃথিবী বদলেছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে, অথচ মানুষের মস্তিষ্ক থেকে কুসংস্কারের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। বরং আধুনিকতার চাকচিক্যের আড়ালে গোঁড়ামি যেন আরও শক্তভাবে জেঁকে বসেছে।
মানুষের সঙ্গে এমনিতেই কম কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর যারা গোয়ার, অতি পণ্ডিত কিংবা নিজেদের সর্বজ্ঞ মনে করেন, তাদের কাছ থেকে পারলে আরও দ্রুত সরে পড়তেই স্বস্তি পাই।
মূর্খতা মূল সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার না করা, বুঝেও না বোঝার ভান করা এবং যুক্তির মুখোমুখি হয়েও গোঁড়ামিকে আঁকড়ে ধরে থাকা।
আরও তিতা সত্য হচ্ছে, কিছু মানুষ আলোচনায় আসে সত্য জানার জন্য নয়, নিজের ভুল ধারণাকে যেকোনো মূল্যে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। যুক্তি দিন, তথ্য-প্রমাণ দেখান,তবুও তাদের সুবোধ উদয় হয় না। বরং আহাম্মকের মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা কিংবা অর্থহীন তর্কে জড়িয়ে পড়াই যেন তাদের স্বভাব!
আসলে যে মানুষ বুঝতে চায় না, তাকে বোঝানোর দায় আপনার নয়। সব অযৌক্তিক কথার জবাব দিতে হয় না, সব তর্কে জিততেও হয় না। কখনো কখনো নীরবে সরে আসাটাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
সবচেয়ে বড় কথা, আধুনিক পোশাক-পরিচ্ছদ কিংবা হাতে প্রযুক্তি থাকলেই মানুষ আধুনিক হয় না। আধুনিক হতে হয় চিন্তায়, যুক্তিতে এবং বিবেকের চর্চায়।
মস্তিষ্ক থাকলেই হয় না, সেটাকে কাজে লাগানোর মানসিকতাও থাকতে হয়। নইলে একবিংশ শতাব্দীতে বসবাস করেও চিন্তা-চেতনায় মধ্যযুগকে বয়ে বেড়াতে হয়!