পুরনো কথা | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ইং

in আমার বাংলা ব্লগ • 11 hours ago

45737.jpg
source

একাডেমিক পড়াশোনা বলতে, ওই যে সুন্দরগঞ্জের শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়লাম, সেখান থেকে খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অতঃপর কোনোরকমে টিএমএসএস মেডিকেলের বারান্দায় খানিকটা দৌড়াদৌড়ি। বেসিক একাডেমিক পড়াশোনা মূলত এই প্রতিষ্ঠানগুলোতেই হয়েছে।

তাও তো সেসব ঘটনা দীর্ঘ সময় হলো অতিবাহিত হয়েছে। যদিও ওই সময়টার মধ্যেই বেশ লম্বা পর্ব ছিল। তবে আর যাই হোক, একাডেমিক পড়াশোনার চাপ সামলিয়ে নিজের নামটা কোনো দলীয় রাজনীতির খাতায় লিপিবদ্ধ করতে পারিনি।

হয়তো উঠতি বয়সে তেমন পরিবেশ পাইনি নতুবা অফুরন্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো দলীয় রাজনীতিতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করিনি।

এটা সত্য, ছাত্রজীবনে একদম ফেরেশতা ছিলাম না বরং বেশ দুষ্ট-চঞ্চল প্রকৃতির ছিলাম। তবে আর যাই হোক, প্রকৃত অর্থেই বেয়াদব ছিলাম না। আবার এটাও সত্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মন থেকেই সমর্থন করার জন্য অনেকের কাছেই বেয়াদব হয়ে গিয়েছি।

এসবের বাইরেও অপ্রিয় সত্য হচ্ছে, অভ্যুত্থানের পরে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে সরাসরি ফোন কল পেয়েছিলাম। তাদের প্রতি যথারীতি সম্মান রেখেই সেসময় বলেছিলাম, আপনাদের সবার জন্যই শুভেচ্ছা রইল। তবে আমার চিন্তাধারা স্বতন্ত্র।

যেহেতু চাঁচাছোলা কথা বলে অভ্যস্ত কিংবা স্বাধীনচেতা স্বভাবের মানুষ, তারপরেও পারিপার্শ্বিক-পারিবারিক চাপে পড়ে করোনাকালীন সময়ে একবারই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হই। ভাগ্য ভালো, সেই সময় পরীক্ষায় কৃতকার্য হইনি। পরে আর কোনো অবস্থাতেই চাকরির চিন্তাভাবনা মাথায় আসেনি। টুকটাক চেম্বার করতাম, তবে লেখালিখির জগতে সম্পূর্ণভাবে মনোনিবেশ করার পর সেটাও ইস্তফা দিয়ে দিই।

তারপর তো এখন সবকিছু ছেড়েছুড়ে গ্রামে। বহমান জীবনের এই চড়াই-উতরাইয়ে দেখতে দেখতে কখন যে বয়স ৩৫-৩৬-এর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে, তা যেন টেরই পাইনি।

এই যে ছাত্র অবস্থায় কোনো দলীয় রাজনীতি করলাম না কিংবা নিজের জিহ্বা দিয়ে কারও উপর-নিচে চাটাচাটি করলাম না, এমনকি তৈলমর্দন থেকে বিরত থাকলাম, এতে কি জীবন থেকে খুব বেশি কিছু হারিয়েছি?

মোটেও না। একদম খাঁটি বাংলা কথায়, কোনো কিছুই হারাইনি বরং বলতে গেলে ব্যক্তিত্ব আরও খানিকটা শক্ত হয়েছে।

দিনশেষে আসলে নিজের কাছে নিজে প্রচুর শান্তি পাই, কেননা কারও কাছে কোনো কিছু অধিক প্রত্যাশা রাখি না, এজন্য।

এটা সত্য, নিজ পায়ে প্রকৃত অর্থেই খাড়া হয়ে দাঁড়ানো খানিকটা কষ্টকর, তবে চেষ্টা-চর্চা করলেই একটা সময় গিয়ে শিরদাঁড়া এমনিতেই সোজা হয়ে যায়।