ভাবনার দর্শন

in আমার বাংলা ব্লগ • 5 hours ago

43276.jpg
source

মৃত্যুবার্ষিকী এলেই দোয়া, মাহফিল, গরিব মানুষকে খাওয়ানো,সবই ভালো, নিঃসন্দেহে ভালো। মানুষের জন্য কিছু করা, মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করা কিংবা তার স্মৃতিকে ঘিরে ভালো কোনো উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যে আপত্তিকর কিছু নেই।

কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়,ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর দোয়ার জন্যও কি তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখের প্রয়োজন হয়?

যে মানুষটা একসময় আমাদের জীবনের এতটা জুড়ে ছিল, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতি, আবেগ, মায়া আর না-বলা কত গল্প, তার জন্য দোয়া করতে এক বছর অপেক্ষা কেন?

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সিজদায় মাথা রাখার সময়টুকুও কি তার জন্য যথেষ্ট নয়? নিজের একান্ত প্রার্থনায়, নিভৃতে, লোকচক্ষুর আড়ালে কি তার জন্য দুহাত তুলে মোনাজাত করা যায় না? নাকি দোয়ারও এখন একটা উপলক্ষ লাগে, আয়োজন লাগে, মানুষের উপস্থিতি লাগে?

মৃত মানুষকে স্মরণ করার জন্য লোকসমাগম, আনুষ্ঠানিকতা কিংবা নির্দিষ্ট একটি দিনের আয়োজনই কি সব?

যে মানুষটার সঙ্গে একসময় প্রতিদিনের কত কথা হতো, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি হতো, তাকে হারানোর পর তার স্মৃতিগুলো কি কেবল মৃত্যুবার্ষিকীর দিনেই জেগে ওঠে? বছরের বাকি দিনগুলোতে তিনি কি আর আমাদের ভাবনায় আসেন না? তার অনুপস্থিতি কি কেবল ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত একটি দিনেই আমাদের বুকের ভেতর হাহাকার তৈরি করে?

আমার তো মনে হয়, প্রকৃত ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট দিনপঞ্জি নেই। ভালোবাসা কোনো বার্ষিক আয়োজন নয়, শ্রদ্ধা কোনো লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতা নয়, আর দোয়া তো নিছক কোনো সামাজিক প্রথার নামও নয়।

ভালোবাসা থাকে প্রতিদিনের ভাবনায়, স্মৃতির অলিগলিতে, হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়া কোনো কথায়, কিংবা রাতের নিস্তব্ধতায় বুকের ভেতর জমে ওঠা একটুকরো দীর্ঘশ্বাসে। যে মানুষটা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে, তার জন্য নীরবে দোয়া করার দরজাটা তো প্রতিদিনই খোলা থাকে!