বই
খুব ভালোভাবেই মনে আছে, শহরের বাসার সামনে যখন পৌরসভার বড় ড্রেনের কাজ চলছিল, তখন আমার সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে কেউ একজন আমাকে দুই টাকার পেশাজীবী মানুষ বলে খোঁচা দিয়েছিল। আর সেই মন্তব্য দেখে অতি পরিচিত, সামান্য পরিচিত কিংবা আশপাশের যাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত চলাফেরা করতাম, তাদের কতজন যে পৈশাচিকভাবে হো হো করে হেসে উঠে মজা নিয়েছিল, তা বলার বাইরে।
ভীষণ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলাম। খানিকটা যন্ত্রণাও পেয়েছিলাম বটে, তবে সেটা অবশ্য মন্তব্যকারীর জন্য নয়। বরং যারা মন্তব্যটাকে পৈশাচিক আনন্দের খোরাক বানিয়েছিল, তাদের আচরণ রীতিমতো আমার হৃদপিণ্ডটাকে বারবার খামচে ধরার উপক্রম করেছিল।
অতিরিক্ত বন্ধুবান্ধব নামক এইসব অ্যালজেবরা দিয়ে জীবনে খুব একটা বেশি কিছু হয় না, বুঝলেন! বরং সুযোগ পেলে এরাই আপনার গলায় সবার আগে দড়ি লাগিয়ে হ্যাঁচকা টান মারতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।
এখন অনেকের সঙ্গেই বাস্তবে সেভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই, কিংবা নতুন করে কারও সঙ্গেই বন্ধুত্ব করার ইচ্ছাও জাগে না। তাই বলে যে একেবারে বন্ধুহীন থাকি, বিষয়টা তেমনও নয়।
ঝুলিতে অসংখ্য বই, ল্যাপটপভর্তি অজস্র বইয়ের পিডিএফ, কিংবা অনলাইন লাইব্রেরিতে আজীবনের সদস্য তো হয়েই আছি। মানে, যেদিকেই তাকাই, শুধু বই আর বই। কোনটা রেখে কোনটা পড়ব, বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও বই জড়বস্তু, তারপরও বইয়ের পাতায় যখন স্বচ্ছ, সাবলীল লেখাগুলো প্রতিনিয়ত পড়ি, তখন নিজের অজান্তেই হাসি। কখনোবা যৌক্তিক চিন্তাভাবনায় দারুণভাবে নিমজ্জিত হয়ে যাই।
বন্ধুত্বের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বই স্থান পেয়েছে বহু আগেই। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকে বিন্দুমাত্র যন্ত্রণা পেতে হয়নি।